কর্পোরেট কর কমানোর প্রস্তাব বিল্ডের

builds_bdদেশের আর্থ-সামাজিক তারতম্য বিবেচনায় কর্পোরেট কর কমানোর প্রস্তাব করেছে বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্ট (বিল্ড)। সেই সঙ্গে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের কাঁচামাল সংগ্রহে উৎসে কর প্রত্যাহারের প্রস্তাব করেছে প্রতিষ্ঠানটি। বাংলাদেশ রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানের নিকট ইতোমধ্যে প্রস্তাবটি জমা দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা বিবেচনা করলে দেখা যাবে এদেশের কর্পোরেট আয়কর অত্যন্ত বেশি। যা পরিশোধ করা খুবই কষ্টসাধ্য ব্যাপার। এছাড়া জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা (ইউএনসিটিএডি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বাংলাদেশে ফরেন ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট (এফডিআই) আকৃষ্ট করতে বড় সমস্যা ও প্রতিবন্ধক হিসেবে কর্পোরেট আয়করকে উল্লেখ করার হয়েছে। তাই দেশের বেসরকারি খাতকে কর প্রদানে উৎসাহিত করতে এটি কমানো যেতে পারে। তাছাড়া পঞ্চ বার্ষিক পরিকল্পনায় কর ভিত্তিক পদ্ধতি সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হয়।

দেশের ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য উৎসে কর প্রত্যাহার করারও প্রস্তাব করা হয়। বলা হয়, দেশের ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য একর কর্তন বাদ দেওয়া হলে তারা আরও প্রতিযোগিতামূলক বাজারে প্রবেশ করতে পারবে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আরও উৎসাহিত করার জন্য এই উৎসে করে প্রতাহার করা যেতে পারে।

দেশের হিমাগারের বিদ্যুৎ খরচের ওপর বলবদ মূসক প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়। বলা হয় দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটা বড় বাধা হলো পোস্টহার্ভেস্ট লোকসান। এখন দেশে ৪৫ শতাংশ পোস্টহার্ভেস্ট লোকসান হচ্ছে। এই লোকসান কমাতে হিমাগার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে বিদ্যুৎ খরচ সেখানে একটা বড় ভূমিকা রাখে। বলা হয় এটি প্রত্যাহার করা হলে জাতীয় আয় বৃদ্ধি পাবে। তাছাড়া পোস্টহার্ভেস্ট লোকসান কমিয়ে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মূসক প্রত্যাহার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

একই সঙ্গে কৃষি ভিত্তিক শিল্পের জন্য বিদ্যুৎ খরচের ওপর বরাদ্দকরা ছাড় হিমাগার শিল্পের জন্যও কার্যকর করার প্রস্তাব করা হয়। বলা হয় হিমাগার শিল্পকে ২০১০ সালে কৃষি ভিত্তিক শিল্প হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়েছে। তবে কৃষি ভিত্তিক শিল্পের ওপর বরাদ্দ থাকা ২০ শতাংশ ছাড় থাকলেও হিমাগারে সেটি প্রদান করা হয়নি। এটি করা হলে কৃষকদের আয় বৃদ্ধি, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও খাদ্য নিরাপত্তায় ভূমিকা রাখবে।

ওষুধ শিল্পের বিদেশি কনসালটেন্টদের জন্য কনসালটেন্সি ফি’র ওপর ধার্য্য করা করা মূসক প্রতাহারের প্রস্তাব করা হয়। বলা হয় ওষুধ শিল্প বাংলাদেশের আরেক সম্ভাবনাময় খাত যেখান থেকে ২০১৩ সালে বাংলাদেশ ৬১৯ কোটি টাকার ওষুধ রপ্তানি করেছে। অন্যান্য খাতের কনসালটেন্টদের কনসালটেন্সি ফিতে মূসক প্রত্যাহার রয়েছে। তবে এই শিল্পের কনসালটেন্টদের কনসালটেন্সি ফি এখনও ২৫ শতাংশ বলবদ রয়েছে। এটি করা হলে ওষুধ শিল্পের প্রসার ও কস্ট অব ডুইং বিজনেস হ্রাস পাবে।

বার্ষিক ৬০ লাখ টাকার নিচে টার্নওভারের ক্ষেত্রে কুটির শিল্পের সরঞ্জামাদি ক্রয়ে কর মওকুফের যে সুবিধা দেওয়া হয় তা ক্ষুদ্র শিল্পে সম্প্রসারিত করার প্রস্তাব করা হয়। বলা হয় দেশে এখন ৪৫ লাখেরও বেশি মাইক্রো উদ্যোক্তা রয়েছে। এই কর প্রত্যাহার সুবিধা পেলে মাইক্রো উদ্যোক্তাগণ আরও উৎসাহিত হবে।

কর দেওয়ার ধাপ ৬টি স্তর থেকে কমিয়ে ২টি স্তরে নিয়ে আসার প্রস্তাব করা হয়। সেই সঙ্গে উৎসে কর কর্তন যাতে এক শতাংশের বেশি না হয় তারও প্রস্তাব করা হয়। বলা হয় লোকাল এলসি’র মাধ্যমে উৎসে কর কর্তন না করে স্থানীয় কাঁচামাল সংগ্রহের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত পর্যায়ে করা আরোপ করা যেতে পারে। এছাড়া এই কর সকল প্রকারের সেবা ও পণ্য উৎপাদনকারীদের জন্য একই হতে পারে। স্বল্প বিনিয়োগকারী ও এসএমই উদ্যোক্তাদের উৎসে করের বিধান থেকে কওকুফ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়।

বলা হয় স্থানীয় কাঁচামাল ব্যবহারে উৎসাহিত হলে একদিকে মুদ্রা ব্যবহারের প্রয়োজন হ্রাস পাবে। অন্যদিকে পিঁছিয়ে পড়া ক্ষুদ্র শিল্পের বিকাশ ঘটবে। তাছাড়া কর পলিসি সহজীকরণ ও বাস্তবায়নযোগ্য করার জন্য ১৯৮৪ সালে কর অধ্যাদেশে বিদ্যমান জটিলতা বাদ দেওয়ার জন্যও প্রস্তাব করা হয়।