ওয়াটা’র শেয়ার যেনো সোনার হরিণ

wata chemical, ওয়াটা কেমিক্যাল
wata chemical, ওয়াটা কেমিক্যাল
বুধবার মূল মার্কেটে ফিরছে ওয়াটা কেমিক্যালস

সাড়ে তিন বছর পর মূল মার্কেটে ফিরলেও প্রথম দিনে কোনো শেয়ার কেনা-বেচা হয়নি ওয়াটা কেমিক্যালসের। শেয়ারের দর প্রস্তাব করে তীর্থের কাকের মতো বসে ছিলেন ক্রেতারা। আর তারা যে পরিমাণ শেয়ার কেনার জন্য প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তা কোম্পানির মোট শেয়ার সংখ্যার দ্বিগুণেরও বেশি। কিন্তু বাজারে এক লট শেয়ারেরও বিক্রেতা ছিল না এদিন। আর এ কারণে কোনো লেনদেনই হয়নি এর শেয়ারের।

বুধবার ওয়াটা কেমিক্যালস প্রায় সাড়ে তিন বছর পর ওটিসি মার্কেট থেকে মূল বাজারে ফেরে। সকাল থেকেই বাজারে এ কোম্পানির শেয়ারের প্রচুর ক্রেতা ছিল। কিন্তু বিক্রেতা ছিল না একজনও।

বেলা সাড়ে ১১ টায় এ কোম্পানির ক্রেতাদের দিক থেকে প্রায় দেড় কোটি শেয়ার কেনার জন্য প্রস্তাব ছিল। বেলা আড়াইটায় লেনদেন শেষ হওয়ার সময় তা কিছুটা কমে ৯৭ লাখ ৩৮ হাজারে দাঁড়ায়। আর এর মধ্যে ৯৬ লাখ ৬৮ হাজারটি শেয়ার কেনার জন্য সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ সীমায় ৫৪ টাকা ৪০ পয়সা দরে। অথচ কোম্পানির মোট শেয়ার সংখ্যা মাত্র ৪৮ লাখ। আর ফ্রি ফ্লোট শেয়ার মাত্র ১১ লাখ।

বাজার বিশ্লেষকরা এ আচরণকে মোটেও সুস্থ মনে করছেন না। তাদের মতে, এটি এমন কোনো ভালো মৌলের কোম্পানি নয়, যে সব বিনিয়োগকারীকে হুমড়ি খেয়ে পড়তে হবে। গত ১২ বছরের মধ্যে ৫ বছর কোম্পানিটি লোকসান দিয়েছে। আর শেষ তিন বছরের আগে কখনোই এর শেয়ার প্রতি আয় ২ টাকা ছাড়াতে পারেনি। বরং মূল মার্কেট থেকে ওটিসি মার্কেটে পাঠিয়ের পরই যেনো এটি ঝলসে উঠে। আর এ ঝলসে উঠাকে বেশ সন্দেহের চোখেই দেখছেন তারা। তারা মনে করছেন, মূল কোম্পানিতে ফেরার জন্য মুনাফা বাড়িয়ে দেখানো হয়ে থাকতে পারে। তাই বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকা উচিত।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বিশ্লেষক বলেন,  বিনিয়োগকারীরা হয়তো জেমিআই সিরিঞ্জের ঘটনায় উদ্বুদ্ধ। গত বছর জেএমআই সিরিঞ্জ ডিএসইতে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর তা নিয়ে নোংরা খেলা শুরু হয়। ৩৪ টাকা দামের শেয়ারের দর সাড়ে ৩শ টাকা ছাড়িয়ে যায়। ছোট মূলধনের কোম্পানি হওয়ায় শেয়ারের কৃত্রিম সংকট ঘটিয়ে এমনটি করা হয়। একই ধরণের কোম্পানি হওয়ায় ওয়াটা কেমিক্যালের ক্ষেত্রেও একইরকম ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশা করছেন অনেক বিনিয়োগকারী।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের লিস্টিং বিভাগের উপ মহাব্যবস্থাক নিজাম উদ্দীন অর্থসূচককে বলেন, শেয়ারিটির দর কয়েকদিন পরে আরো বাড়তে পারে, এমন আশায় রয়েছে বিক্রেতারা। তাই প্রথম দিনে কোন বিক্রেতা ছিল না। শেয়ারটির লেনদেনের ক্ষেত্রে সার্কিট ব্রেকার তুলে দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ১৫ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৪ কোটি ৮৬ টাকা রয়েছে। ১০ টাকা ফেসভ্যালুর শেয়ার ২০০ টিতে লট নির্ধারণ করা হয়েছে। কোম্পানির মোট শেয়ার রয়েছে ৪৮ লাখ ৬০ হাজার। এর মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে ১১ লাখ ৫২ হাজার শেয়ার।

এসএ/