বাংলাদেশ ব্যাংকের কাঠগড়ায় বেসিক ব্যাংকের এমডি

বেসিক ব্যাংক, basic bank md

বেসিক ব্যাংক, basic bank mdঅবশেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হচ্ছে বেসিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কাজী ফখরুল ইসলামকে। আগামি ১৪ মে’র মধ্যে তাকে কেন অপসারণ করা হবে না তা জানাতে ব্যক্তিগতভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকে হাজির হতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে এ নির্দেশ দিয়ে একটি চিঠি বেসিক ব্যাংকের এমডি’র কাছে পাঠানো হয়েছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই সূত্র অর্থসূচককে জানিয়েছে, নির্ধারিত তারিখের মধ্যে বেসিক ব্যাংকের এমডি হাজির না হলে ব্যাংক-কোম্পানি আইন অনুসারে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করার পরও একাধিক আর্থিক অনিয়ম সংঘটিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অপসারণের সর্বশেষ প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাকে ব্যক্তিগত শুনানির জন্য হাজির হতে নির্দেশ দিয়েছে।

বেসিক ব্যাংকের বিরুদ্ধে ক্রমাগত নানা ধরণের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠায় তা বন্ধে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে এমওইউ সই করে বেসিক ব্যাংক। গত বছরের জুলাই মাসে এ চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী কোন ঋণ দেওয়ার আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু চুক্তির শর্ত ভেঙ্গে গুলশানসহ কয়েকটি শাখার মাধ্যমে নতুন করে ঋণ দেয় ব্যাংকটি। একই সঙ্গে বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ডিঙ্গিয়ে মোঃ রুহুল আলম ও মোহাম্মদ সেলিমকে ডিএমডি হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়।

এসব অনিয়মের অভিযোগে বেসিক ব্যাংকের এমডিকে কেন অপসারণ করা হবে না তা জানতে চেয়ে চলতি বছরের মার্চ মাসে নোটিশ দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তাতে চুক্তির শর্ত ভেঙ্গে নতুন ঋণ দেওয়া এবং তাতে অনিয়মের কারণ জানাতে বলা হয়। একই সঙ্গে বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ডিঙ্গিয়ে মোঃ রুহুল আলম ও মোহাম্মদ সেলিমকে ডিএমডি হিসেবে পদোন্নতি দেওয়ার কারণও জানাতে বলা হয়েছিল ওই নোটিশে।

 ওই নোটিশের জবাবে বেসিক ব্যাংকের পক্ষ থেকে যে উত্তর দেওয়া হয়েছে তাকে অত্যন্ত দায়সারা মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। জবাবে সন্তুষ্ট না হতে পেরে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে চুড়ান্ত এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রটি জানিয়েছে।

সূত্রটি আরও জানিয়েছে, চুড়ান্ত এ পদক্ষেপ নিতে বেশ কয়েক দফা বৈঠক করে অনিয়ম-দুর্নীতি রোধে গঠিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্থায়ী কমিটি। কয়েক হাজার কোটি টাকার ঋণ আত্মাসাতের ঘটনায় এমডির ব্যবস্থাপনাগত ব্যর্থতাকে দায়ী করেছে ওই কমিটি। তাছাড়া প্রতিটি অনিয়মে ব্যাংকের চেয়ারম্যান আব্দুল হাই বাচ্চুর সংশ্লিষ্টতারও প্রমাণ পেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তাই ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙ্গে দিয়ে প্রশাসক নিয়োগের চিন্তা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আর এ জন্য অল্প কিছুদিনের মধ্যেই অর্থমন্ত্রণালয়কে একটি চিঠি পাঠানো হবে বলে সূত্রটি জানিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক ম. মাহফুজুর রহমান অর্থসূচককে বলেন, বেসিক ব্যাংকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরণের অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। আর এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ব্যাংকটির এমডিকে যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল তার জবাবে অস্পষ্টতা রয়েছে। এ জন্য তাঁকে আত্মপক্ষ সমর্থনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে সরাসরি শুনানির জন্য ডাকা হয়েছে। আগামি ১৪ মে’র মধ্যে তিনি ব্যক্তিগত শুনানিতে উপস্থিত না হলে ব্যাংক-কোম্পানি আইনের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

 উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৫ এপ্রিল বেসিক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) আব্দুল মোনায়েম খান, মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মোঃ জয়নুল আবেদীন চৌধুরী, খন্দকার শামীম হাসান ও মোহাম্মদ আলী, উপ-মহাব্যবস্থাপক মোঃ শিফার আহমেদ (গুলশান শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক) এবং ডেপুটি ম্যানেজার জাহিদ হাসানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে। তবে যথাযথ প্রক্রিয়ায় বরখাস্ত করা হয়নি, এই মর্মে পাঁচ কর্মকর্তা হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছে, যা এখনো বিচারাধীন রয়েছে।

এসএই/