ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অনাবাদি জমিতে সবজির বাম্পার ফলন

  • Emad Buppy
  • May 12, 2014
  • Comments Off on ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অনাবাদি জমিতে সবজির বাম্পার ফলন
Nasirnagar
Nasirnagar
পোড়াকান্দা চরে অনাবাদি জমিতে সবজির বাম্পার ফলন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের পোড়াকান্দা চরে সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। এই চরের কৃষকরা গোল আলু, মিষ্টি আলু, বেগুন, কচু, টমেটো, মরিচ, পেঁয়াজ ও রসুনসহ বিভিন্ন ধরনের শাক সবজি আবাদ করেছেন।

অথচ মাত্র দুবছর আগেও পুরো চর থাকতো অনাবাদি। তীব্র খরার কারণে সেখানে কোনো ধরনের ফসল করা সম্ভব হতো না। এজন্য স্থানীয়রা এই চরের নাম দিয়েছিল পোড়াকান্দা চর।

তবে এখন বদলে গেছে চরের চিত্র। সেখানে এখন সবুজের সমারোহ। নাসিরনগরের গোয়ালনগর ইউনিয়নের সোনাতোলা গ্রামের একটি চরের নাম পোড়াকান্দা।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের বিশেষ পদ্ধতির সেচ ব্যবস্থা পাল্টে দিয়েছে সোনাতোলার মানুষের জীবনধারা। গত ২০১৩ সালে জানুয়ারি মাসে “পোড়াকান্দা ৫ কিউসেক সেচ স্কীম” নামের একটি প্রকল্প চালু করে বিএডিসি। এই প্রকল্পের মাধ্যমে পোড়াকান্দা চরের দৃশ্যপট বদলে যায়। চরের কোনো জমি এখন আর অনাবাদি নেই।

চরের বাসিন্দা কৃষক আব্দুন নূর বলেন, এই চরে দুবছর আগেও চাষাবাদ হতো না। কিন্তু এখন সেচ সুবিধা থাকায় বদলে গেছে চরের চিত্র। চাষাবাদের সুযোগ তৈরি হয়েছে গ্রামবাসীর। তিনি আরও বলেন, এই চরে চাষ করা সবজি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বিক্রি হচ্ছে সরাইল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আশুগঞ্জ, কিশোরগঞ্জের ভৈরব, কুলিয়ারচর, মিঠামইনসহ রাজধানী ঢাকায়। এই সবজি বিক্রি করে সোনাতোলার মানুষের জীবনধারা বদলে গেছে। অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল হচ্ছেন জমির মালিক ও কৃষকরা।

কৃষক সফর আলী বলেন, চরে সবজি বাম্পার ফলন হয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো থাকলে আমরা আরও লাভবান হতে পারতাম।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে প্রায় ২০ লাখ টাকার সবজি উৎপাদন হয়েছে এই চরে। আর তা বাজারজাত করা হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিভিন্ন বাজার, আশপাশ জেলার বিভিন্ন বাজারসহ রাজধানী ঢাকায়।

কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্যানুযায়ি, এই গ্রামের ২৭০টি কৃষক পরিবার সবজি চাষ করে পাল্টে দিয়েছে পুরো চরের দৃশ্যপট। সবজি চাষ করে গ্রামের সবাই এখন স্বাবলম্বী।

সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে ৪৫ বিঘা জমিতে প্রায় ৬ লাখ ৭৫ হাজার টাকার গোল আলু, ৩০ বিঘা জমিতে ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকার মিষ্টি আলু, ৩০ বিঘা জমিতে ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকার মিষ্টি কুমড়া, ১১০ বিঘা জমিতে সাড়ে ৫ লাখ টাকার বেগুন, টমেটো এবং ১৫ বিঘা জমিতে লাখ টাকার মরিচ উৎপাদিত হয়েছে। সবজি উৎপাদন করে কৃষকরা প্রতি বিঘা জমিতে গড়ে ২০-২৫ হাজার টাকা লাভ করেছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মাসুদ হোসেন জানায়, চরের প্রায় সাড়ে সাতশ বিঘা জমিতে সারা বছর আবাদ করা হচ্ছে সবজি। অথচ পানি সেচের সুবিধা না থাকায় দুই বছর আগেও পুরো চর অনাবাদি পড়ে থাকতো।

কেএফ