বাড়াবে কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ ও জিডিপি

বান্দরবানের চিম্বুক পাহাড়ে নীলগিড়ি পর্যটন কেন্দ্র
বান্দরবানের চিম্বুক পাহাড়ে নীলগিড়ি পর্যটন কেন্দ্র

পর্যটন খাতে বাংলাদেশের সম্ভাবনা প্রচুর। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ড ট্যুরিজম অ্যান্ড ট্রাভেল কাউন্সিলের (ডব্লিউটিটিসি) এক প্রতিবেদনে এই সম্ভাবনার প্রতিবিম্ব ফুটে উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার পরেও গত বছর এই খাত জিডিপিতে অবদান, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বিনিয়োগের ক্ষেত্র তৈরির মাধ্যমে অবদান রেখেছে জাতীয় অর্থনীতিতে। শুধু তাই নয় আগামি দিনেও অব্যাহত থাকবে এই অগ্রগতি।

ডব্লিউটিটিসি জানিয়েছে, ২০১৩ সালের দেশের পর্যটন খাতে ৪ হাজার ২০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে, যা জাতীয় বিনিয়োগের মোট ১ দশমিক ৫ শতাংশ।

সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০১৩ সালে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের ৪ দশমিক ৪ শতাংশ অর্জিত হয়েছে পর্যটনের খাতের মাধ্যমে। সংখ্যার হিসেবে যার পরিমাণ প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ২২ হাজার ২৬০ কোটি টাকার সরাসরি পর্যটনের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে। পাশাপাশি গত বছর পর্যটনে খাত ২৮ লাখ ৪৬ হাজার ৫০০ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে, যা সামগ্রিক নতুন কর্মসংস্থানের প্রায় ৩ দশমিক ৮ শতাংশ। এর মধ্যে ১৩ লাখ ২৮ হাজার ৫০০ লোকে সরাসরি পর্যটনের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহের সুযোগ পেয়েছেন।

রাজনৈতিক অবস্থা স্থিতিশীল থাকলে চলতি বছরও প্রবৃদ্ধির এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে থাকবে বলে জানিয়েছে ডব্লিউটিটিসি। সংস্থাটির মতে, চলতি বছর পর্যটন খাত ২৯ লাখ ৬৫ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, যা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ৩ শতাংশ বেশি।

সেন্টমার্টিন সমুদ্র সৈকত
সেন্টমার্টিন সমুদ্র সৈকত

শুধু তাই নয়, ২০১৪ সালে ৪ লাখ ৩৫ হাজার বিদেশি পর্যটকের আগমন ঘটবে বাংলাদেশে। যার ফলে চলতি বছর ভিজিটর এক্সপোর্ট বৃদ্ধি পাবে ৭ দশমিক ১ শতাংশ। ২০১৩ সালে দেশে ভিজিটর এক্সপোর্টের পরিমাণ ছিল ৮৩০ কোটি টাকা। প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২৪ সালের মধ্য ভিজিটর এক্সপোর্টের র‍্যাংকিয়ে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান হবে ৪২ তম। বর্তমানে এই অবস্থান ১৬০ তম।

sangu
সাঙ্গু নদী

ডব্লিউটিটিসি জানিয়েছে, পর্যটকের এই উলম্ফনের কারণে চলতি বছর এই খাতে বিনিয়োগ বাড়বে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। এই ধারা অব্যাহত থাকলে তা আগামি দশ বছরের মধ্যে এই খাতে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ৭ হাজার ৮৫০ কোটির মাইলফলক স্পর্শ করবে।

সব মিলিয়ে ২০১৪ সালে জিডিপির ৪ দশমিক ৫ শতাংশ অর্জিত হবে পর্যটন খাতের মাধ্যমে।

দেশীয় বিশেষজ্ঞরাও ডব্লিউটিটিসি’র পূর্বাভাসে সহমত পোষণ করেছেন। তারা জানান, ইতোমধ্যেই বিশ্বের নামকরা বিমান পরিবহন সংস্থাগুলো বাংলাদেশমুখী ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়িয়ে দিয়েছে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন পর্যটন স্পটে ঘুরে দেখা গেছে, দেশি-বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। মোট কথা, সব নির্দেশক ডব্লিউটিটিসি অনুমানকে সমর্থন করছে।

তবে তারা আশংকা করছেন রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলার অবনতি এই জোয়ারকে ভাটায় পরিণত করতে পারে। এই জন্য সরকারিভাবে উদ্যোগ নেওয়া ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটানোর আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।