৪০ মন্ত্রণালয়কে জেন্ডার সংবেদনশীল বাজেটের আওতায় আনা হবে: স্পিকার

  • Emad Buppy
  • May 11, 2014
  • Comments Off on ৪০ মন্ত্রণালয়কে জেন্ডার সংবেদনশীল বাজেটের আওতায় আনা হবে: স্পিকার
Shirin Sharmin
Shirin Sharmin
বিশ্ব মা দিবসে বক্তব্য রাখছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরিন শারমিন

নারীদের উন্নয়নে বাজেটে বরাদ্দ রাখা শুধু নারীর উন্নয়ন নয়, দেশ ও জাতির উন্নয়ন। সে লক্ষ্যেই আগামি বাজেটে ৪০টি মন্ত্রণালয়কে জেন্ডার সংবেদনশীল বাজেটের আওতায় আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

একই সঙ্গে আসন্ন বাজেটে নারীর ক্ষমতায়ন, তাদের পুষ্টিমান বাড়ানোসহ হত-দরিদ্র ও কর্মজীবী নারী-উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য পরামর্শ দেন তিনি।

রোববার সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘বিশ্ব মা দিবস উপলক্ষে বাজেট ভাবনা: সংগ্রামে উন্নয়নে দারিদ্র্য বিমোচনে মা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

ডেভেলপম্যান্ট অর্গানাইজেশন অব দ্য রুরাল পুয়র (ডর্প) ও ইত্তেফাক যৌথভাবে এই আলোচনা সভার আয়োজন করেন।

ইত্তেফাক পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক তাসমিমা হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান, সাংসদ শিরীন আক্তার ও কেয়া চৌধুরী, ভাস্কর্য শিল্পী ফেরদৌসী প্রিয়ভাসিনী, অ্যাকশন এইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারহা কবির, কবি রুবী রহমান, সঙ্গিত শিল্পী ফাহমিদা নবী, সহকারী পুলিশ কমিশনার সাদিরা খাতুন প্রমুখ।

শিরীন শারমিন বলেন, নারীদের শুধু উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করলেই চলবে না। শিক্ষা জীবনের পর তাদের জন্য উপযুক্ত কাজের পরিবেশ, কর্মঘণ্টা নির্ধারণেও এগিয়ে আসতে হবে।

আগে নারীদের যে অর্থে বিবেচনা করা হতো তা এখন অনেকাংশে বদলে গেছে। বর্তমান সরকার নারীদের উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রাখার কারণেই এমন পরিবর্তন হয়েছে উল্লেখ করে স্পিকার বলেন, বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো মানুষ নারী স্পিকারের বক্তব্য শুনতে পাচ্ছেন। এতেই বোঝা যাচ্ছে সরকার নারীউন্নয়নে কতটা ভূমিকা রেখে আসছে।

বাংলাদেশে হত-দরিদ্র নারীর সংখ্যা অনেক কমে এসছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কর্মজীবী নারী ও উদ্যোক্তা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এখন ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনা সুদে ঋণ পাচ্ছেন। এই টাকা দিয়ে তারা বিভিন্ন কর্মসংস্থান ও ব্যবসা করতে পারছেন।

খাদ্য ও পুষ্টিমানে নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এসব ক্ষেত্রে নারীদের অধিকার সুনিশ্চিত করা গেলে তারা আরও এগিয়ে যেতে সক্ষম হবেন।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, নারী উন্নয়নে শুধু অর্থ বরাদ্দ রাখলেই চলবে না তা কতটুকু কার্যকর হচ্ছে সে বিষয়ে একটা মনিটরিং সেল গঠন করতে হবে।

অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারহা কবির বলেন, যে সকল মেয়েদের ১৪-১৫ বছরে বিয়ে হচ্ছে, তাদের স্বাস্থ্যে আরও বড় ঝুকি দেখা দিচ্ছে। অন্য প্রাপ্তবয়স্কা নারীদের জন্য যে বাজেট রাখা হয়েছে, তা দিয়ে তো এই কিশোরী মায়েদের পর্যাপ্ত চাহিদা পূরণ সম্ভব নয়। গ্রামের এলাকায় বেশিরভাগ পরিবারে এখন ৬-৭টি করে সন্তান দেখা যায়। আগে অনেক ব্যক্তিগত পরিবার পরিকল্পনা সংগঠন ছিল। যারা জন্ম-নিয়ন্ত্রণ ও পরিবার পরিকল্পনায় সাধারণ মানুষকে সচেতন করতো। কিন্তু এখন সে সংগঠনগুলোকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

মেয়েদের শিক্ষার সাথে নিরাপত্তার বিষয়টির দিকেও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সংসদ সদস্য শিরীন আক্তার বলেন, “আমরা বাজেট করছি, সে অনুযায়ী গর্ভবতী মায়েদের ভাতা দিচ্ছি। কিন্তু অনেকে গর্ভবতী মায়েদের নাম করে ভাতা নিয়ে যাচ্ছে। তাই এ জন্য মনিটরিং টিম করা উচিত। এ দুর্নীতি রোধের জন্য স্থানীয় সরকার ও এর প্রতিনিধিদেরকেও শক্তিশালী করতে হবে। নিরাপদ বাজেটের জন্য অবশ্যই বাজেট প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে নারী উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখার জন্য স্পিকার শিরীন শারমিন, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান, ইত্তেফাকের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক তাসমিমা হোসেন ও ডর্প এর প্রতিষ্ঠাতা এএইচএম নোমানকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়।

জেইউ/ এআর