বিশ্ববাজারে কমছে চিনি, তেল ও দুধের দাম

food price global market
food price global market
এপ্রিলে বিশ্ববাজারে তেল, চিনি ও দুধের দাম কমেছে

বিশ্ববাজারে কমছে বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের দাম। বিশেষ করে ভোজ্যতেল, চিনি ও গুঁড়ো দুধের দাম অনেক পড়ে গেছে। উৎপাদন ও সরবরাহে ইতিবাচক ধারার কারণে পণ্যমূল্যের সামগ্রিক সূচক এখন নিম্নমুখী। তবে এ সময়ে দানা জাতীয় খাদ্যের দাম কিছুটা বেড়েছে। বিশ্ব খাদ্য সংস্থার (এফএও) সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। খবর ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, ব্লুমবার্গ ও রয়টার্সের।

বৃহস্পতিবার এফএও ভোগ্যপণ্যের বাজার পরিস্থিতির ওপর তার সর্বশেষ মাসিক (এপ্রিল) প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এফএও ৫৫ টি খাদ্যপণ্য নিয়ে যে খাদ্যমূল্য সূচক গঠন করেছে, গতমাসে সেটি ২১২ দশমিক ৮ পয়েন্ট থেকে কমে ২০৯ দশমিক ৩ পয়েন্ট পয়েছে।

প্রতিবেদন অনুসারে, গত এক মাসে সবচেয়ে বেশি দাম কমেছে দুধ ও দুধজাত পণ্যের। মার্চ মাসের তুলনায় এ পণ্যের দাম কমেছে প্রায় ৭ শতাংশ। একই সময়ে ভোজ্যতেলের দাম কমেছে ২ দশমিক ৪ শতাংশ। আর চিনির দাম ১ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে ।

মূলত অনুকূল আবহাওয়ায় বাম্পার ফলনের কারণেই দাম কমেছে এসব পণ্যের। তবে কয়েকটি বড় ভোক্তা-দেশের আমদানি কমে যাওয়ায়ও বাজারে প্রভাব পড়েছে।

জাতিসংঘের প্রধান খাদ্য অর্থনীতিবিদ আব্দুল রেজা আব্বাসিয়ান বলেন, ভালো ফলনের কারণে বাজারে যোগান বেড়েছে। আর অবধারিতভাবে তার প্রভাব পড়েছে এসব পণ্যের দামে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, মূল্যপতনের এই ধারা অব্যাহত থাকবে এমনটি আশা করা যৌক্তিক হবে না। বরং এলনিনো বা এ জাতীয় কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ফলন ব্যাহত হলে উল্টো দিকে ঘুরে যেতে পারে বাজারের ধারা।

বিশ্লেষকদের মতে, দুটি কারণে দুধ ও দুধ জাতীয় পণ্যের দাম কমছে। অন্যতম শীর্ষ উৎপাদক নিউজিল্যান্ডে দুধের উৎপাদন অনেক ভালো। এছাড়া বর্তমানে দেশটিতে গুড়ো দুধ ও দুধ জাতীয় পণ্যের ব্যাপক মজুদ আছে। অন্যদিকে চীন ও রাশিয়ার দুধ আমদানি কমেছে।

চিনির দাম কমেছে মূলত থাইল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায়। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে দেশ তিনটিতে উৎপাদন বেড়েছে।

মালয়েশিয়ায় পাম তেলের দাম পড়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে কমেছে ভোজ্য তেলের দাম।