রপ্তানি বাড়াতে অপ্রচলিত পণ্যে আবারও নগদ সহায়তা

  • Emad Buppy
  • May 8, 2014
  • Comments Off on রপ্তানি বাড়াতে অপ্রচলিত পণ্যে আবারও নগদ সহায়তা
তোফায়েল আহমেদ ব্রাক সেন্টার
তোফায়েল আহমেদ ব্রাক সেন্টার
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ: (ফাইল ছবি)

রপ্তানি বাড়াতে অপ্রচলিত পণ্যের ওপর আবারও নগদ সহায়তা দিতে চায় সরকার। এজন্য অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে  রাজধানীর একটি হোটেলে ‘দেশের মৎস্যখাতে রপ্তানি ও রপ্তানিআয় বাড়াতে বাংলাদেশ নন-প্যাকার ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, দেশের মৎস্যখাত এখন ভালো ভূমিকা রাখছে। জিডিপিতে মৎস্য খাতের অবদান প্রায় ৪ দশমিক ৫ শতাংশ। প্রায় দেড় কোটি মানুষ আজ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত রয়েছে এই খাতে। তবে এই খাতে অপ্রচলিত মাছ যেগুলো মানুষ খায় না- তা রপ্তানি করা হচ্ছে এখন। আর অপ্রচলিত পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে সরকার নগদ সহায়তা দিতে চায়।

এই সহায়তা দেওয়া হলে অপ্রচলিত পণ্যের রপ্তানি বাড়বে বলে মনে করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, আগে পশ্চাদমুখী পণ্যগুলো দেশের মাত্র ৩ শতাংশ চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম হতো। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়ায় উৎপাদন বাড়িয়ে স্বয়ংসম্পন্ন হয়েছে এখন। তাই বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য সরকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তির পরিকল্পনা করছে। আর এটা সম্ভব হলে পণ্যের বাজার বহুমুখীকরণ ও সম্প্রসারণ সম্ভব হবে বলে মনে করেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের জিএসপি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা জিএসপি ফিরে পেতে চাই- তবে তা বাংলাদেশের স্বার্থকে রক্ষা করে’।

মন্ত্রী ব্যবসায়ীদের নগদ সহায়তার বিষয়টি আলোচনা করে বিবেচনায় আনার আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে সংগঠনটির সভাপতি বাবুল আক্তার বলেন, দেশে গড়ে মৎস্য উৎপাদন হয় ৩৪ লাখ মেট্রিকটন। এর মধ্যে চিংড়ি রপ্তানি হয় ৪৫ হাজার মেট্রিকটন। মাছ রপ্তানি হয় ১৫ হাজার মেট্রিকটন। তবে এর মধ্যে অপ্রচলিত মাছ রপ্তানি হয় ৮ হাজার মেট্রিকটন। ৭ হাজার মেট্রিকটন মাছ দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনের শূন্য দশমিক ২১ শতাংশ। অথচ অভ্যন্তরীণ বাজারের চাহিদা পূরণের জন্য ও এই খাতের নগদ সহায়তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যে সহায়তার পরিমাণ মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ কোটি টাকা বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘এই সহায়তা বন্ধের ফলে খাতটি হুমকির মুখে পড়েছে। নগদ সহায়তা পুনর্বহাল না করা হলে দীর্ঘ দিনের প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক বাজার আমরা হারাবো । ৫০০ কোটি টাকার রপ্তানিআয় বন্ধ হয়ে যাবে। দেশের গ্রামীণ মৎস্যচাষিদের ন্যায্য মূল্যের অভাবে উৎপাদন খরচ উঠবে না। এছাড়া, ক্রমাগত উৎপাদনে নিরুৎসাহিত হবে। দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে মাছ সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেবে”।

তাই তিনি এসব ক্ষুদ্র ও মাঝারি হিমায়িত খাদ্য রপ্তানিকারকদেরও গ্রামীণ অর্থনীতির স্বার্থে পূর্বের মতো ১০ শতাংশ নগদ সহায়তা পুনর্বহালের দাবি জানান।

প্রসঙ্গত, দেশের হিমায়িত চিংড়ি ও মাছ রপ্তানি বাড়ানোর জন্য সরকার ২০০২-০৩ অর্থবছর থেকে ২০১২-১৩ অর্থবছর পর্যন্ত ১০ শতাংশ হারে নগদ সহায়তা প্রদান করে আসছিল। তবে গতবছরের ৭ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংকের এফই-১২ নং সার্কুলার অনুযায়ী চলতি অর্থবছরে সরকার হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানিতে নগদ সহায়তা অব্যাহত রাখলেও অন্যান্য মাছ রপ্তানিতে নগদ সহায়তার বিধান রাখেনি। তাতে এই খাত নগদ সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

সেমিরারে বক্তারা রপ্তানি বাণিজ্যকে সম্প্রসারণের জন্য অন্যান্য খাতের মতো অপ্রচলিতখাতে নগদ সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন।

সংগঠনটির সভাপতি বাবুল আক্তারের সভাপতিত্বে সেমিনারে অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন, যুগ্ম-মৎস্যসচিব আনিসুর রহমান, যুগ্ম-বাণিজ্যসচিব সাহাব উদ্দীন পাটোয়ারী, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সহ-সভাপতি জসিম উদ্দীন, চট্টগ্রাম চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভপাতি মাহবুবুল আলম, অ্যাকুয়া কালচার অ্যালাইন্সের সভাপতি মাকসুদুর রহমান প্রমুখ।

 এসইউএম/এআর