বিনিয়োগের জন্য পরিবেশ নিশ্চিতকরণ ও ব্যাংক সুদ কমানোর দাবি

  • তপু রায়হান
  • May 8, 2014
  • Comments Off on বিনিয়োগের জন্য পরিবেশ নিশ্চিতকরণ ও ব্যাংক সুদ কমানোর দাবি
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পরামর্শক কমিটির ৩৫ তম সভায় বক্তৃতা রাখছেন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পরামর্শক কমিটির ৩৫ তম সভায় বক্তৃতা রাখছেন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ

রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার জন্য গত বছর বিনিয়োগ অনেক কমে গেছে।এদিকে নতুন সরকার আসার পর গুম, হত্যার পরিমাণ বৃদ্ধি, রাজনৈতিক আস্থাশীলতা ও ব্যাংক ঋণ বেশি থাকায় বিনিয়োগও বাড়ছে না। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে স্থিতিশীল পরিবেশ ও ব্যাংক ঋণে সুদ কমানোর প্রস্তাব করেন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর সোনার গাঁও হোটেলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পরামর্শক কমিটির ৩৫ তম সভায় এ প্রস্তাব করেন তিনি।

এ কে আজাদ বলেন, দেশে সাম্প্রতিক সময়ে বেড়ে যাওয়া গুম ও হত্যার কারণে জীবন শঙ্কায় রয়েছে ব্যবসায়ীরা।আর একই সাথে ভর করেছে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার বিষয়টি। তাই সুযোগ থাকার পরও বিনিয়োগ কমে যাচ্ছে দেশের শিল্প খাতে। তাই ব্যবসায়ীদের আস্থা ফিরিয়ে নিতে আনতে গুমের সাথে জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তার ও বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করা দরকার।

আইন ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীল পরিবেশের পাশাপাশি অতিমাত্রায় ব্যাংক ঋণ ব্যবসায়ীদের নতুন বিনিয়োগে বাধা সৃষ্টি করে বলে উল্লেখ করেন শাহজালাল ব্যাংকের এ চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, আমার ব্যাংক আবার শিল্প কারখানাও রয়েছে। বর্তমানে শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য যে ১৮ শতাংশের বেশি সুদ রয়েছে তা কোনো ভাবেই গ্রহণ যোগ্য নয়। এক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে শিল্প খাতে ব্যাংক ঋণ সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ করা দরকার। পাশাপাশি আমানত ও ঋণের সুদহারের ব্যবধান (স্প্রেড) ৩ শতাংশ করার দাবি তার।

গণমাধ্যমের করের বিষয়ে তিনি বলেন, একটি পত্রিকা প্রকাশ করতে ২০ টাকার মতো খরচ হয়। অথচ বিক্রি করতে হয় ৮ টাকার মতো। এরপরও রাজস্ব বোর্ডের ভ্যাট ও কর দিতে হয়। এতে লোকসান গুনতে হয় এ শিল্পকে। তাছাড়া টেলিভিশনের বিলের ওপর ভ্যাট না নিয়ে অনুষ্ঠানের ওপর ভ্যাট দেওয়ায় লোকসান গুনতে হয় বিল না পাওয়া অনুষ্ঠানে।

এসময় তিনি আরও বলেন, অধিক কলখানার জন্য ঢাকা শহর ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ইচ্ছা থাকলেও কর, নতুন ইন্ডাট্রিজ নির্মাণের খরচ ও গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগ সংক্রান্ত জটিলতার কারণে ঢাকার বাহিরে স্থানান্তর করা যাচ্ছে না এ সব কারখানাকে। তাই এসব শিল্পকে ২ বছরের জন্য সব ধরণের করের আওতা থেকে মুক্ত করে ঢাকার বাহিরে স্থানান্তর করার সুযোগ দেওয়া দরকার। সেই সাথে নতুন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগে বিশেষ সুবিধা দেওয়া দরকার।

লেদার শিল্পের বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে এ খাতে। এই সময়ে লেদার খাতে প্রবৃদ্ধির পরিমাণ ৪৪ দশিমক ৩৩ শতাংশ। অথচ আসন্ন বাজেটে এ খাতে গ্যাস ভর্তুক্তি ৭ শতাংশ প্রস্তাব করা হয়েছে। যা কোনোভাবেই এ শিল্পের জন্য যথেষ্ট নয়।

এছাড়া পোশাক শিল্পসহ বিভিন্ন শিল্পে অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে ফায়ার সার্ভিসের সাথে সংশ্লিষ্ট সব যন্ত্রাংশে কমপক্ষে এক বছর শুল্ক প্রত্যাহার করার দাবি করেন তিনি।

এইউ নয়ন