পুলিশ দম্পতি হত্যাকাণ্ড: ঐশী ও তার দুই বন্ধুর বিচার শুরুর নির্দেশ

  • Emad Buppy
  • May 6, 2014
  • Comments Off on পুলিশ দম্পতি হত্যাকাণ্ড: ঐশী ও তার দুই বন্ধুর বিচার শুরুর নির্দেশ

ঐশী_3পুলিশ কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান এবং তার স্ত্রী স্বপ্না রহমানকে হত্যার দায়ে তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার কাজ শুরু করার আদেশ দিয়েছেন আদালত। এই মামলার অভিযুক্তরা হলেন, মাহফুজ ও স্বপ্না দম্পতির মেয়ে ঐশী রহমান এবং তার দুই বন্ধু মিজানুর রহমান জনি ও আসাদুজ্জামান রনি।

মঙ্গলবার অভিযুক্ত তিনজনের উপস্থিতিতে এই মামলার অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন ঢাকার মহানগর দায়রা জজ মো. জহুরুল হক। আগামি ৫ জুন তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেছেন বিচারক।

মামলার অপর আসামি মাহফুজুর রহমানের গৃহকর্মী খাদিজা আক্তার সুমি অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় শিশু আদালতে তার বিচার করা হবে। তাই তার বিচারের বিষয়টি প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার কাঠগড়ায় উপস্থিত অভিযুক্ত তিন আসামিকে অভিযোগ পড়ে শোনানো হলে তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আদালতের কাছে ন্যায়বিচার চান।

পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমান হত্যা মামলায় তাদের মেয়ে ঐশীসহ চারজনের বিরুদ্ধে গত ৯ মার্চ আদালতে দুটি অভিযোগপত্র জমা দেয় মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

ঢাকা মহানগর হাকিম মো. মারুফ হোসেন অভিযোগপত্র গ্রহণ করে মামলার পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মহানগর দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তর করেন।

২০১৩ সালের ১৬ অগাস্ট রাজধানীর চামেলীবাগের একটি ফ্ল্যাটে এসবি পরিদর্শক মাহফুজ ও তার স্ত্রী স্বপ্নার লাশ পায় পুলিশ। পুলিশ কর্মকর্তা মাহফুজ স্ত্রী, দুই সন্তান ও গৃহকর্মীকে নিয়ে চামেলীবাগের ওই ফ্ল্যাটে থাকতেন।

যে দিন তাদের লাশ পাওয়া গিয়েছিল, তার আগের দিন বাড়ি থেকে ছোট ভাই ও গৃহকর্মীকে নিয়ে বেরিয়ে যান ঐশী। পরদিন ভাইকে বাড়িতে ফেরত পাঠালেও ফিরে আসেন নি ঐশী। পরে সুমীকে নিয়ে থানায় ধরা দেন তিনি।

পরে তাদের স্কুলপড়ুয়া মেয়ে ঐশী থানায় আত্মসমর্পণ করেন। এরপর পুলিশ ঐশীদের বাড়ির গৃহকর্মী সুমী এবং ঐশীর বন্ধু  রনি ও  জনিকে গ্রেপ্তার করে। মামলায় সুমীকে সহায়তাকারী এবং দুই বন্ধুকে ঐশীর আশ্রয়দাতা হিসেবে দেখানো হয়েছে।

ওই মামলার প্রধান আসামি হিসেবে ও লেভেলের ছাত্রী ঐশীকে গ্রেপ্তারের পর তার বয়স নিয়ে আলোচনা উঠলে আদালতের নির্দেশে ঢাকা মেডিকেলে পরীক্ষা করে পুলিশ জানায়, ওই ঘটনার আগেই তার বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয়।

ঐশী ও তার বন্ধুরা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। গৃহকর্মী সুমীকে গাজীপুরের কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।

পুলিশ বলছে, সুমী খুনের সঙ্গে জড়িত না হলেও ঐশীকে সহায়তা করেছে।

ঐশীর কাছে পাওয়া গয়না এবং বাসায় খুলে রেখে যাওয়া তার রক্তমাখা পোশাকে পাওয়া নমুনার ডিএনএ পরীক্ষায় হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঐশী তার বাবা-মাকে কফির সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করেছিল, পরে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। গত ২৪ অগাস্ট ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন ঐশী।

এমই/এআর