জুনের মধ্যে চাষিদের পাওনা পরিশোধ করা হবে: পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী

মির্জা আজম

মির্জা আজমআগামি ৩০জুনের মধ্যে পাট চাষিদের সকল পাওনা পরিশোধ করা হবে বলে চাষিদের আশ্বস্ত করেছেন পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র পাট শিল্প ব্যবসায়ী ও পাট চাষি সমিতি আয়োজিত সোনার বাংলা গড়তে পাট রক্ষার বিকল্প নেই ‘পাট খাতের উন্নয়নের আসন্ন বাজেটে অর্থ বরাদ্দ রেখে পাট চাষি,পাট শিল্প ও ক্ষুদ্র পাট ব্যবসায়ীদের রক্ষার দাবিতে আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, পাট চাষিরা বিজিএমসির কাছে ২৪৮ কোটি টাকা পাওনা আছে। পাওনা টাকা না পাওয়ায় ব্যবসায়ী ও চাষিরা তাদের পরিবারের ভরণ পোষণ করতে পারছে না, চিকিৎসা করতে পারছে না, চাষিদের ছেলে মেয়েরাও লেখা পড়া করতে পারছে না।

আগামিতে চাষিদের কাছ থেকে বিজিএমসিকে  নগদ টাকায় পাট কিনতে হবে  বলেও তিনি চাষিদের আস্বস্ত করেন।

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের জন্য পণ্যে পাটের মোড়ক ব্যবহার বাস্তবায়িত হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী অভিযোগ করেন, সরকার ২০১৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে প্লাস্টিক মোড়ক (বস্তা) নিয়ন্ত্রণ ও পাটের ব্যাগ ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেন। এ নিয়ে মন্ত্রণালয়ে বারবার সভা এবং কঠোর নির্দেশনা দিয়েও কোন কাজ হয়নি।

আইন প্রয়োগে সরকারের ব্যর্থতা স্বীকার করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আইন প্রণয়নের ৪ মাস ৬ দিন পরও বাস্তবায়ন করতে না পারায় আমরা ব্যর্থ।

আইন প্রয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, আগামি কিছুদিনের মধ্যে পাটজাত মোড়ক (বস্তা) ব্যবহার আইন সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে বিভিন্ন মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন প্রচার করা হবে। একই সাথে প্রশাসনের মাধ্যমে সারাদেশে সচেতনতা ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।

তিনি বলেন, পণ্যের মোড়কে পাটজাত মোড়ক ব্যবহার শুরু হলে দেশে প্রতিবছর ৫৫ হাজার বস্তার প্রয়োজন হবে। এতে পাটজাত বস্তা রপ্তানির ওপর চাপ কমবে।

পাটের নিয়ম ও আইন সম্পর্কে মির্জা আজম বলেন, পাটের ব্যাগ ব্যবহার না করলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এক বছরের জেল প্রদান করা হবে। জনসাধারণকে পাটের ব্যাগ ব্যবহারে উদ্ভুদ করার জন্য ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়াতে প্রচার প্রচারণা চালানো হবে।

বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিষ্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, পাকিস্তানের আমল থেকে যখনই আন্দোলন হয়েছে তখনই প্রত্যেকটি আন্দোলনে পাটের কথা বলা হয়েছে। মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং বঙ্গবন্ধু দুজনই ক্ষুদ্র পাট চাষিদের নিয়ে কাজ করতেন এবং তাদের উন্নতির কথা চিন্তা করতেন।

তিনি অর্থমন্ত্রীর সমালোচনা করে বলেন, অর্থমন্ত্রী বলেছেন যে পাট চাষিরা কোন টাকা পাবে না এবং তাদের জন্য কোন বাজেট নেই তার এই বক্তব্য অসৌজন্যমূলক ও ভিত্তিহীন।

আলোচনা সভায় ক্ষুদ্র পাট ব্যবসায়ীরা ৪টি দাবি উপস্থাপন করেন, পাটের সর্বনিম্ন মূল্য ২ হাজার টাকা নির্ধারণ করতে হবে, অতি দ্রুত পাওনা ২৪৮ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশ ক্ষুদ্র পাট শিল্প ব্যবসায়ী ও পাট চাষি সমিতির সদস্য হতে হবে, পাট নীতিমালা প্রনয়ণ করতে হবে।

সংগঠনের সভাপতি মো.ইউনুস মিয়ার সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন, বিজেএমসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব:) হুমায়ুন খালেদ, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো.হারুন-অর-রশিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মো.আব্দুল আজিজ প্রমুখ।

জেইউ/সাকি