বিক্রমপুরের ঐতিহাসিক নিদর্শন জোড়া মঠ

  • Emad Buppy
  • May 5, 2014
  • Comments Off on বিক্রমপুরের ঐতিহাসিক নিদর্শন জোড়া মঠ

বিক্রমপুরের ঐতিহাসিক নিদর্শন জোড়া মঠ

কোনো এক সময় যে স্থানটি ছিল অনন্য এক স্থাপত্যিক নিদর্শন, কালের পালা বদলে হয়তো সেখানেই জমে বিস্মৃতির ধুলো। ভাঙন ধরে স্থাপনার প্রতিটি পরতে।

কিন্তু সেই স্থাপনা আর পারিপার্শ্বিকের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা ইতিহাসটি কিন্তু ঠিকই বহমান থাকে। আর ফেলে আসা সময়ের এমনই কিছু ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে বাংলাদেশের মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ির সোনারং গ্রামে দাঁড়িয়ে আছে সোনারং জোড়া মঠ।

অষ্টাদশ শতাব্দীর স্থাপত্যশৈলীর এক অপূর্ব প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শন এ মঠটি। কথিত ইতিহাসে জোড়া মঠ হিসেবে পরিচিত লাভ করলেও মূলত এটি জোড়া মন্দির। মন্দিরের একটি প্রস্তরলিপি থেকে দেখা যায়, সোনারং এলাকার রূপচন্দ্র নামের একজন হিন্দু ব্যক্তি দুই ধাপে এই মন্দিরটি নির্মাণ করেন।

এর মধ্যে বড় কালীমন্দিরটি ১৮৪৩ সালে ও ছোট মন্দিরটি ১৮৮৬ সালে নির্মাণ করা হয়। এর মাঝে ছোট মন্দিরটি মূলত শিবমন্দির হিসেবে ব্যবহার হতো বলেই জানা যায়। অন্যদিকে জোড়া মন্দির হলেও দুটি মন্দিরের উচ্চতা ও স্থাপত্য গঠনে বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে। এর মধ্যে বড় মন্দিরটির উচ্চতা প্রায় ১৫ মিটার। অন্যদিকে মন্দির দুটির মূল উপাসনালয় কক্ষের সঙ্গে থাকা বারান্দার দৈর্ঘ্যের দিক থেকে বড় ও ছোট মন্দির দুটির বারান্দা যথাক্রমে ১.৯৪ ও ১.৫ মিটার।

এছাড়া মন্দিরের সামনের দিকে রয়েছে বড় একটি পুকুর। বড় মন্দিরটি তৈরির সময় এ পুকুরটি তৈরি করা হয়েছিল বলেই ধারণা করা হয়। এক সময় মন্দির দুটির বাইরে ও ভেতরের দিক অসাধারণ ও সমসাময়িক কারুকাজে শোভিত হলেও দীর্ঘদিনের অবহেলা আর অযত্নের কারণে সেটি এখন ধ্বংসপ্রায়। তবে মূল স্থাপত্য সৌন্দর্য্যের এই ভগ্নদশার মাঝেও ভিন্ন যে বিষয়টি দর্শনার্থীদের মাঝে আনন্দের খোড়াক জোগাতে পারে সেটি হলো এই মন্দিরের বিভিন্ন অংশে বাসা বানানো টিয়া পাখির কলকাকলি।

কেএফ