সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে রাষ্ট্রের কোনো সাংঘর্ষিক অবস্থা নেই: তথ্যমন্ত্রী

  • Emad Buppy
  • May 3, 2014
  • Comments Off on সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে রাষ্ট্রের কোনো সাংঘর্ষিক অবস্থা নেই: তথ্যমন্ত্রী
inu

inuএ মূহুর্তে সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে রাষ্ট্রের কোনো সাংঘর্ষিক অবস্থা নেই। বর্তমানে গণমাধ্যমের প্রধান প্রতিপক্ষ হল জঙ্গীবাদ আর মাফিয়াচক্র বলে জানালেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।

শনিবার সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

সংবাদপত্র শিল্পে বর্তমানে শ্রমিক ছাঁটাই ও বেতন সংক্রান্ত সমস্যা চলছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সঠিক নীতিমালার বাস্তবায়ন হলে এ ধরণের সমস্যার সৃষ্টি হতো না।

সরকার গণমাধ্যমকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছে উল্লেখ করে ইনু বলেন, গত পাঁচবছরে সরকার গণমাধ্যমের ওপর কোনো হস্তক্ষেপ করেনি। এর দুইটি উদাহরণ হল ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের সঠিক চিত্র তুলে ধরা আর নারায়ণগঞ্জের ঘটনা।

তিনি বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে কোনো কোনো ভোট কেন্দ্রে দলীয় প্রভাব খাটানো কিংবা কোনো কোনো কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি কম দেখা গেছে। গণমাধ্যমগুলি স্বাধীনভাবেই এসব খবর পরিবেশন করছে। সরকার তাতে কোনো হস্তক্ষেপ করেনি। এছাড়া নারায়ণগঞ্জের ঘটনায় সব গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে গুম, খুনের ঘটনা ছাপাচ্ছে। এতেও সরকার কোনো হস্তক্ষেপ করছে না।

আমাদের অর্থনীতির সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান বলেন, টেলিভিশন, রেডিও, প্রিন্ট মিডিয়া ও অনলাইন মিডিয়ার জন্য একই নীতিমালা তৈরি করা না হলে তাদের মধ্যে অসামঞ্জস্য থেকে যাবে। আর এতে করে জবাদিহীতার ঘাটতি রয়ে যাবে। যদি সবার ক্ষেত্রে একই নীতিমালা তৈরি করা না হয় তাহলে অপরাধ প্রবণতা কমবে না।

আইটি বিশেষজ্ঞ মোস্তফা জব্বার বলেন, গণমাধ্যমের সবগুলো নীতিমালার মধ্যে সমন্বয় সাধন করে একটি সু-স্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করা দরকার। যাতে সবগুলো গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে। এবং সমান অধিকার ভোগ করতে পারে।

বর্তমান ডিজিটাল প্রযুক্তি অপরাধের মাত্রা অনেক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এখনই এর প্রতিকার করা না হলে ভবিষ্যতে জাতীয় জীবনে গভীর অন্ধকার নেমে আসবে।

কামাল উদ্দিন সবুজ বলেন, প্রতিনিয়ত নতুন গণমাধ্যমের আবির্ভাব হলেও সত্য তুলে ধরার ক্ষেত্রে অপরাগতা প্রকাশ করে।  তাই কোয়ানটিটি নয় কোয়ালিটিপূর্ণ সাংবাদিক তৈরি করা দরকার।

তিনি বলেন, ক্ষমতাশীলদের কাছে গণমাধ্যমের দাম কম আবার বিরোধী দলের কাছে বেশি। ক্ষমতার পালাবদল হয়। আর গণমাধ্যমের মূল্যও দলগুলোর কাছে এভাবে পরিবর্তিত হয়। তাই স্বাধীন গণমাধ্যম হলে ওই গণমাধ্যম সবার পক্ষেই কথা বলতে পারবে।

সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদান রাখার জন্য প্রবীণ সাংবাদিক এবিএম মূসাকে মরোণত্তোর সম্মাননা দেওয়া হয়। এছাড়াও আমাদের অর্থনীতির সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান ও আইটি বিশেষজ্ঞ মোস্তফা জব্বারকে সম্মাননা দেওয়া হয়

বোমার সভাপতি জয়ন্ত আচারর‌্য’র সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন, প্রেসক্লাবের সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ, বোমার সহ-সভাপতি ক্যাপ্টেন রেজাউল করিম চৌধুরী, নির্বাহী সভাপতি সৌমিত্র দেব বাংলা সংবাদের সম্পাদক আ খ ম রুহুল আমীন।

জেইউ/