পদ্মা সেতুর কার্যাদেশ পাচ্ছে চায়না মেজর ব্রিজ

O kader

O kaderবহুল আলোচিত পদ্মা সেতুর কার্যাদেশ পাচ্ছে চীনা প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ। শুক্রবার যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের মুন্সিগঞ্জের মাওয়া পদ্মা সেতু রেস্ট হাউজে স্থানীয় সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের আগেই পদ্মা সেতু প্রকল্পের কার্যাদেশ দেওয়া হচ্ছে।

এর আগে, আর্থিক প্রস্তাব জমা দেওয়ার সময় ২১ দিন বাড়ানোর হয়। বর্ধিত সময়ের শেষ দিন ২৪ এপ্রিল একমাত্র কোম্পানি হিসেবে মেজর ব্রিজ পদ্মা সেতুর জন্য তাদের প্রস্তাব জমা দেয়।

এর আগের ঘোষিত সূচি অনুসারে গত ৩ এপ্রিল ছিল আর্থিক প্রস্তাব জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিলো। কিন্তু কারিগরি প্রস্তাবে যোগ্য বিবেচিত তিন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এই সময় বাড়ানোর আবেদন করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আর্থিক প্রস্তাব জমা দেওয়ার সময় বাড়ায় সেতু কর্তৃপক্ষ।

গত ২০ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ডেইলিম-এল অ্যান্ড টি জেভি,স্যামসাং সি অ্যান্ড টি করপোরেশন ও চায়না মেজর ব্রিজ মূল পদ্মাসেতু নির্মাণের কারিগরি প্রস্তাব জমা দেয়।

পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তিনটি প্রতিষ্ঠানেরই কারিগরি প্রস্তাব যোগ্য বিবেচিত হয়। এর ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে আর্থিক প্রস্তাব জমা দিতে বলা হয়। তবে অপর দুই প্রতিষ্ঠান আর্থিক প্রস্তাব জমা না দেওয়ায় এখন চায়না ব্রিজের কাজ পাওয়ার বিষয়টি অনেকটা নিশ্চিত হয়ে যায়।

মুন্সীগঞ্জে এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী বলেন, আগামি জুনের প্রথম সপ্তাহে চায়না মেজর ব্রিজ কোম্পানিকে এই কার্যাদেশ প্রদান করা হতে পারে। তিনি আরও বলেন, প্রতিষ্ঠানটির প্রস্তাবে জাতীয় স্বার্থ বিরোধী কোন কিছু খুঁজে না পাওয়ার প্রেক্ষিতে এই কার্যাদেশ প্রদান করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, সেতু প্রকল্পে পরামর্শক নিয়োগের দরপত্র প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন স্থগিত ও তদন্ত প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ অচলাবস্থার পর গত বছরের মাঝামাঝি নড়েচড়ে বসে সরকার। জুনে সেতু নির্মাণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে সাড়া দিয়ে কোরিয়ার প্রতিষ্ঠান স্যামসাং সি অ্যান্ড টি কর্পোরেশন ও ডেনিম ইন্ডাস্ট্রিয়াল কোম্পানি লিমিটেড এবং চীনের চায়না জংটি মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেড দরপত্রে অংশ নেয়।

৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘের এ সেতু নির্মাণ হলে রাজধানীর সঙ্গে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২১টি জেলার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ তৈরি হবে। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ালীগের নির্বাচনী ইশতেহারে অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার ছিল পদ্মা সেতু নির্মাণ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এটি আওয়ামীলীগ সরকারের জন্য বড় কেলেঙ্কারিতে পরিণত হয়।