মালিক-শ্রমিকদের সুসম্পর্কই পারে ভালো কাজের পরিবেশ তৈরি করতে: প্রধানমন্ত্রী

  • Emad Buppy
  • May 1, 2014
  • Comments Off on মালিক-শ্রমিকদের সুসম্পর্কই পারে ভালো কাজের পরিবেশ তৈরি করতে: প্রধানমন্ত্রী
hasina

hasinaমালিক-শ্রমিকদের সুসম্পর্কই পারে ভালো কাজের পরিবেশ তৈরি করতে, পারে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় তিনি বাংলাদেশে শ্রমিক না খেয়ে মারা যাবে আর মালিক বিলাসিতা করবে এটি হতে দেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন।

বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শ্রম মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এমন মন্তব্য করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে শ্রমিকের ঘামে উপার্জিত আয়ে মালিকদের বিলাসিতা এনে দেয় সেই শ্রমিকদের সুনজরে আনতে হবে। মালিক-শ্রমিকদের সুসম্পর্কই পারে ভালো কাজের পরিবেশ তৈরি করতে, পারে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে।

তিনি বলেন, অনেক সময় বিভিন্ন কুচক্রীমহল গুজব ছড়িয়ে শিল্পকারখানায় অস্থিরতা সৃষ্টি করা হয়। যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে শ্রমিক-মালিকপক্ষসহ সকলের সচেতনতা প্রয়োজন। এছাড়া কোনো দাবি-দাওয়া থাকলে সেটা যেন যৌক্তিক হয় এবং বিভিন্ন দাবি-দাওয়া যৌক্তিক উপায়ে উত্থাপন করতে শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের ফিরিস্তি তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, কুটির, তামা, কাঁসা শিল্পসহ সব খাতের শ্রমিক, এমনকি গৃহকর্মীদের মজুরি ও সুযোগ-সুবিধা নির্ধারণে নীতিমালা তৈরির কাজ শুরু করেছে সরকার। প্রত্যেকটি মানুষ শ্রম দিয়ে দেশ গড়ায় অবদান রাখছে। এই শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের লক্ষ্য।

গৃহকর্মী নির্যাতন দুঃখজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্যাতন-ধমক নয়, গৃহকর্মীদের আদর করে, তাদের প্রতি আন্তরিকতা দেখিয়ে অনেক কাজ আদায় করে নেওয়া যায়। স্বজন ভেবে তাদের সঙ্গে আচরণ করলে নির্যাতনের ঘটনা ঘটবে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাঙালি মুক্তিযুদ্ধ করে স্বাধীনতা লাভ করা বিজয়ী জাতি। বাঙালি পারে না এমন কোনো কাজ নেই। বাঙালি নিজের ভবিষ্যতও নির্মাণ করে চলেছে। আমরা দেশকে ২০২১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভরশীল করে গড়ে তুলবো। শ্রমিকদের প্রতি মালিকদের যেমন দায়িত্ব রয়েছে, তেমনি শ্রমিকদেরও মালিকদের প্রতি অনেক দায়িত্ব রয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, কেউ বিলাসী জীবনযাপন করবে, আর কেউ না খেয়ে থাকবে এমনটি বাংলাদেশে চলতে পারে না। সকলকে এক হয়ে দেশের জন্য কাজ করতে হবে। সবার নিজের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। প্রত্যেকের কাজের ন্যূনতম মূল্যায়ন করতে হবে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার যখনই ক্ষমতায় এসেছে তখনই শ্রমিকদের কল্যাণে কাজ করে গেছে। এখনো আমরা শ্রমিকদের কল্যাণে কাজ করছি।আমরা ইতোমধ্যে গার্মেন্টস শিল্প বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করেছি।এর সঙ্গে শ্রম মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় কাজ করছে।

তিনি বলেন, শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ২০০৬ সালে শ্রম আইন পাস করা হয়। ওই আইনে আমাদের অনেক সুপারিশ ছিলো, কিন্তু বিএনপি জোট তার বাস্তবায়ন করেনি।তিনি বলেন, এরই মধ্যে শিল্প পরিদর্শক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা বিভিন্ন শিল্প কারখানা পরিদর্শন করে সুপারিশ দিচ্ছেন। অগ্নিনির্বাপণের জন্য বিভিন্ন জেলা, উপজেলা এবং শিল্প অঞ্চলগুলোতে ফায়ার স্টেশন স্থাপন করছি। এর আগে উপজেলা পর্যায়ে ফায়ার সার্ভিসের কোনো স্টেশন ছিল না। আমরাই এ উদ্যোগ নিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দুর্ঘটনা হলে আহতদের সাহায্য করা আমাদের কর্তব্য। এরই অংশ হিসেবে রানা প্লাজাসহ বিভিন্ন দুর্ঘটনায় হতাহতদের আমরা অর্থ সহায়তা ও চিকিৎসা সেবা দিয়েছি। এক্ষেত্রে আমাদের সেনাবাহিনী,র‌্যাব, পুলিশসহ বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নিরলসভাবে কাজ করেছে।

সভায় বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী রানা প্লাজা ধসসহ বিশ্বব্যাপী দুর্ঘটনায় নিহত শ্রমিকদের স্মরণ করেন। একইসঙ্গে দুর্ঘটনায় হতাহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনাও জ্ঞাপন করেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু। সভায় বক্তব্য রাখেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবেক শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুন্নুজান সুফিয়ান প্রমুখ।