বাংলাদেশের সাথে বাণিজ্য ও বন্দর ব্যবহার বাড়াতে আগ্রহী শ্রীলংকা

  • Emad Buppy
  • May 1, 2014
  • Comments Off on বাংলাদেশের সাথে বাণিজ্য ও বন্দর ব্যবহার বাড়াতে আগ্রহী শ্রীলংকা
Bangladesh-sreelangka

Bangladesh-sreelangkaবাংলাদেশের সাথে বাণিজ্য ও দুই দেশের বন্দর ব্যবহার বাড়াতে আগ্রহী শ্রীলংকান ব্যবসায়ীরা। তারা মনে করেন, কলম্বো বন্দর ব্যবহার করে বাংলাদেশ পণ্য আমদানি-রপ্তানি করলে দুই দেশই লাভবান হবে। কলম্বো বন্দর ব্যবহারে আগ্রহী বাংলাদেশও।

বন্দর ব্যবহার বিষয়ে শ্রীলংকার সাথে বৃহস্পতিবার একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। এর ফলে দুই বন্দরের ট্রান্সশিপমেন্ট, সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, ফিডার ভেসেল ও শিপিং লাইন বাড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা ।

এছাড়া শ্রীলংকার কলম্বো বন্দর হয়ে ইউরোপের বাজারে পণ্য পাঠাতে মালয়েশিয়া বা সিঙ্গাপুরের চেয়ে অন্তত চারদিন সময় কম লাগে। তাই দুই দেশের বন্দর ব্যবহার বাড়লে এ রুটটি হবে জনপ্রিয় একটি রুট।

বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রামে বন্দর কর্মকর্তা ও ব্যবসায়িদের সাথে মতবিনিময়কালে এ আগ্রহ প্রকাশ করেন শ্রীলংকান সরকারের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। দুই দেশের মধ্যে ব্যবসায়িক সমস্যা ও সম্ভাবনা চিহ্নিত করতে ইতোমধ্যে ১০ সদস্যের একটি কমিটি কাজ শুরু করেছে বলে জানান চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়াল অ্যাডমিরাল নিজাম উদ্দিন আহমেদ ।

নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, শ্রীলংকা-বাংলাদেশের বাণিজ্য বাড়াতে শ্রীলংকা থেকে ৭ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসেছে। তাদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে আমরা একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কিছু দিনের মধ্যে দু’দেশ থেকে ৫ জন করে মোট ১০ জনের একটি কমিটি করে বিভিন্ন বিষয়ে মতামত নেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ইউরোপ-আমেরিকায় পণ্য আমদানি-রপ্তানি করতে হলে প্রথমে তা ফিডার জাহাজে (ছোট জাহাজ ) করে সিঙ্গাপুর, শ্রীলংকা অথবা মালয়েশিয়ার গভীর সমুদ্র বন্দরে পাঠাতে হয়। সেখান থেকে বড় জাহাজে এসব পণ্য পাঠানো হয় নির্ধারিত গন্তব্যে। তবে শ্রীলংকার কলম্বো বন্দর হয়ে ইউরোপের বাজারে পণ্য পাঠাতে মালয়েশিয়া বা সিঙ্গাপুরের চেয়ে অন্তত চারদিন সময় কম লাগে। এজন্য ব্যবসায়িদের কাছে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে কলম্বো বন্দর।

এছাড়া বর্তমানে শ্রীলংকা হয়ে পণ্য আমদানি-রপ্তানি হচ্ছে ১৬ ভাগ। যা ২০১২ সালের চেয়ে ৮ ভাগ বেশি। এ রুটটি ব্যবসায়িদের কাছে আরও জনপ্রিয় করতে অবাধ বাণিজ্য চুক্তিসহ নানা পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান শ্রীলংকান প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।

শ্রীলংকান হাইকমিশনার সরথ কুমারা ভিরাগোদা বলেন, অবাধ বাণিজ্য চুক্তির আওতায় পণ্যের তালিকা করার পদক্ষেপ নিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। একই কাজ করছে আমাদের সরকারও। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বাড়াতে শ্রীলংকা সব ধরনের উদ্যোগ নেবে।

মতবিনিময় সভায় ব্যবসায়িরা বলেন, বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা মধ্যে দ্বি-পাক্ষিক কিছু সুবিধা পেলে এ রুটটি হবে সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি রুট।

এ মতবিনিময় সভায় শ্রীলংকার হাইওয়ে, পোর্ট ও শিপিং মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব অনুরাধা ওয়েজকন, শ্রীলঙ্কা নেভির কমান্ডার ভাইস অ্যাডমিরাল জয়নাথ, শ্রীলঙ্কা বন্দর কর্তৃপক্ষের চিফ ম্যানেজার ইউডি জায়াটিস্যা, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিচালক নির্মলা পরানাভিট্টানা, চট্টগ্রাম চেম্বারের পরিচালক মাহফুজুর হক শাহ, চট্টগ্রাম বন্দরের সদস্য (হারবার এণ্ড মেরিন) কমোডর এম শাহজাহান, পরিচালক পরিবহন গোলাম সারওয়ার, পরিচালক (নিরাপত্তা) লে. কর্ণেল মোয়াজ্জেম হোসেন, শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন পরিচালক নিলাজেন্দ্র শংকর গুহ রায়, ওয়াহিদুল ইসলাম, বন্দরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বন্দর ব্যবহারকারী বিভিন্ন পক্ষের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।