হারিয়ে যাচ্ছে তাঁতশিল্প, পেশা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন অনেকেই

  • Emad Buppy
  • April 29, 2014
  • Comments Off on হারিয়ে যাচ্ছে তাঁতশিল্প, পেশা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন অনেকেই

Faridpur Tath Silpo Pic 01ফরিদপুরের গ্রামগুলোতে এখন আর শোনা যায় না তাঁতযন্ত্রের সেই খটখটানি শব্দ। একদিকে সুতার মূল্য বৃদ্ধি ও দুষ্প্রাপ্যতা অন্যদিকে  রপ্তানি বন্ধ ও উৎপাদিত পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়া। এসব কারণে মুখ থুবড়ে পড়েছে ফরিদপুরের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প।

ঐতিহ্যবাহী এ শিল্পের সাথে হাজারো মানুষের জীবিকা নির্বাহ করে আসলেও নানা কারণে আজ বাপ-দাদার এ পেশা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

ফরিদপুর জেলা শহর থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে সদরপুর উপজেলার ছায়াসুনিবিড় গ্রাম দক্ষিণ আটরশি। ১০ বছর আগেও গ্রামটি ছিল তাঁতযন্ত্রের খটখটানির শব্দে মুখরিত। তখন শতাধিক পরিবার তাঁতবস্ত্র তৈরির সাথে জড়িত ছিল। দিনরাত কাজ করে ব্যস্ত সময় কাটতো তাদের।

এক সময় এই কারিগরদের তৈরি লুঙ্গি বিদেশে রপ্তানি হলেও আজ দেশেই তা অবহেলিত। অধিকাংশ তাঁতযন্ত্রগুলো অচল হয়ে পড়েছে। জমেছে ধুলো ময়লা, বাসা বেঁধেছে মাকড়সা। এছাড়া আধুনিকতার নগ্ন থাবা আর কালের পরিক্রমায় এখানকার তাঁতশিল্প আজ বিলুপ্তির পথে। অনেকেই জীবিকার তাগিদে অন্য পেশায় চলে গেলেও কয়েকটি পরিবার এখনো ধরে রেখেছে এ শিল্পকে।

এই গ্রামের কয়েকজন তাঁতশিল্পী জানালেন সেই সুদিনের কথা। এক সময় তাঁদের তৈরি তাঁতবস্ত্র রপ্তানি হতো সৌদি আরব, ওমানসহ নানা দেশে। তখন চাহিদাও ছিল বেশ। মহাজনরা আগাম টাকা দিয়ে তাঁতবস্ত্র নেওয়ার জন্য ধরণা দিতেন তাঁত শিল্পীদের বাড়ি বাড়ি। তারা আরও জানান, এরই মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে জেলার বিভিন্ন এলাকার কয়েকহাজার তাঁত। আর কর্মহীন হয়ে পড়েছে হাজারো কর্মের হাত।

তাদের মতে, সুতার দাম বেড়ে যাওয়ায় বেড়ে গেছে উৎপাদন খরচ। কিন্তু সে হিসেবে বাড়েনি পণ্যের মূল্য। তাই এ ব্যবসায় সুবিধা করতে পারছে না তাঁতীরা। ফলে প্রতিনিয়িত কমিয়ে ফেলা হচ্ছে তাঁতের সংখ্যা।

নারী কারিগররা জানান, বাবার বাড়ি থেকে কাজ শিখে স্বামীর সংসারে উন্নয়নে উৎসাহ যুগিয়েছেন অনেক গৃহিনী। তাঁতের সংখ্যা কমে যাওয়ায় এ সকল নারীরাও দিন দিন উপার্জনহীন হয়ে পড়ছেন।

এদিকে, বাংলাদেশ কুঠির শিল্পের (বিসিক) উপ-পরিচালক মো. আব্দুস সালাম মোল্লাতাঁত শিল্পের উন্নয়নে সকল ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

দেশের ঐহিত্যবাহী এ শিল্পকে বাঁচাতে এখনই সরকারিভাবে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজন বলে মনে করছেন সুশিল সমাজ। সুতার দাম কমানো, সুদবিহীন ঋণ প্রদান, উৎপাদিত পণ্যের চাহিদা তৈরিসহ বিদেশে রপ্তানির উদ্যোগ নিলে এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব।

কেএফ