শ্রমআইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দাবি পোশাক-শ্রমিকদের

  • Emad Buppy
  • April 28, 2014
  • Comments Off on শ্রমআইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দাবি পোশাক-শ্রমিকদের
garments

garmentsকমপ্লায়েন্স ইস্যুতে চলমান অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের কারখানা পরিদর্শনে বন্ধ হওয়া কারখানার শ্রমিকরা শ্রমআইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে। অন্যথায় দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলনে নামবে বলে জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।

সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে বাংলাদেশ জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী লীগের নেতারা এসব কথা বলেন। পরে দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারস্থ বিজিএমইএ ভবনের সামনে একই দাবিতে বিক্ষোভ করে মিরপুরের টিউনিক ফ্যাশন লিমিটেড নামের কারখানার শ্রমিকরা।

গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম রনি বলেন, মিরপুরে ৮টি গার্মেন্টস বন্ধ করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে টিউনিক ফ্যাশন লি. ও ন্যাচারাল উল ওয়্যার লিমিটেড এই দু’টি গার্মেন্টসের প্রায় ২ হাজার শ্রমিককে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি। আইন অনুযায়ী শ্রমিকরা ক্ষতিপূরণ পায়। অথচ মালিকপক্ষ শ্রমিকদেরকে ক্ষতিপূরণ না দিয়ে কারখানা বন্ধ করে দিয়েছে।

তিনি বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে শ্রমিকরা যে কারখানায় কাজ করতেন সে কারখানার মালিক ও ক্রেতারা অধিক মুনাফা নিয়েছেন। শ্রমিকদের কোনো সুযোগ সুবিধা না দিয়ে তাদের ঢালাওভাবে কর্মচ্যুত করেছে।

এ সময় বিজিএমইএ’র সমালোচনা করে তিনি বলেন, কারখানার মালিকপক্ষ ২৭ এপ্রিল শ্রমিকদের কারখানায় যোগদানের নির্দেশ দেয় কিন্তু শ্রমিকরা কারখানা গেটে তালা ঝুলতে দেখে হতাশ হন। তারা সবাই বেকার হয়ে পড়েন। কিন্তু এ সময় সেখানে মালিকপক্ষ, বিজিএমইএ এর কোন প্রতিনিধি ছিলেন না।

তিনি গার্মেন্টস মালিকদের হুঁশিয়ার করে বলেন, সার্ভিস ও বেনিফিটসহ ক্ষতিপূরণ না দিলে এবং চাকরিচ্যুত শ্রমিকদের পুনরায় কাজে যোগদানের সুযোগ না দিলে কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো।

সংগঠনের উদ্যোগে মানববন্ধন শেষে একটি মিছিল প্রেসক্লাব হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ জাতীয় গার্মন্টস শ্রমিক কর্মচারী লীগের প্রচার সম্পাদক আসাদুজ্জামান, আবুল হোসাইন, রোকসানা আক্তার, সাইদা আক্তার প্রমুখ।

এদিকে, সোমবার দুপুর ২টা থেকে একই দাবিতে বিক্ষোভ করেছে পোশাক-শ্রমিকরা। চলতি মাসের ১৩ তারিখে অ্যাকর্ড প্রতিনিধি দলের পরিদর্শনে বন্ধ হয় মিরপুরের টিউনিক ফ্যাশন লিমিটেড।

শ্রমিকদের দাবি, ওই দিন কারখানা বন্ধ করে মালিক মালামাল সরিয়ে ফেলে। ২৭ এপ্রিল কাজের জন্য কারখানায় গেলে অ্যাকর্ড ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে বলে জানতে পারে শ্রমিকরা। তবে শ্রমিকদের বেতনের কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

শ্রমিকদের দাবি, কারখানা বন্ধ হলে চলতি মাসের বেতন সহ শ্রম ধারা অনুযায়ী তাদের বেতন পরিশোধ করা হোক।

জানা যায়, ভবনটিতে তিনটি পোশাক কারখানায় ৩১০০ শ্রমিক কর্মরত ছিল। টিউনিক ফ্যাশনে ১৬০০ শ্রমিক, ন্যাচারাল উল-ওয়্যারে ৫০০ শ্রমিক ও ফোর উয়িংস কারখানায় কাজ করতো ১০০০ শ্রমিক।

এবিষয়ে বিজিএমইএ সহ- সভাপতি শহীদুল্লাহ আজীম অর্থসূচককে বলেন, কারখানা পরিদর্শনে মিরপুরের ওই ভবনটি ঝূঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নত করায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে অনন্ত গ্রুপের টিউনিক ফ্যাশনের শ্রমিকদের আশুলিয়ায় নাইট শিফটের ব্যবস্থা করে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, ৮০ শতাংশ শ্রমিক যেতে রাজি হলেও বাকিরা শ্রমিক নেতাদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য আন্দোলন করছে। এতে তারা চাকরি হারাবে বলে মনে করেন তিনি।

আবার ফোর উয়িংস কারখানার শ্রমিকদের মাস শেষে বেতন নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হলেও তারা এদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আন্দোলন করছে বলে দাবি করেন আজীম।

জিইউ/এসইউএম/এআর