মামলা হচ্ছে প্রাইম ও সোনালী ব্যাংকের ১১ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে

  • তপু রায়হান
  • April 28, 2014
  • Comments Off on মামলা হচ্ছে প্রাইম ও সোনালী ব্যাংকের ১১ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে

সোনালী ব্যাংকভুয়া হিসাব খুলে সোনালী ব্যাংকের কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে প্রাইম ব্যাংকের ৯ কর্মকর্তা। এ কাজে সহযোগিতা করেছে খোদ সোনালী ব্যাংকের দুই কর্মকর্তা। আর এমন একটি বিষয়ের অনুসন্ধান শেষে দুই ব্যাংকের ১১ কর্মকর্তার অভিযুক্ত থাকার সত্যতা পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। খুব শিগগির এ বিষয়ে থানায় মামলা করা হবে বলে জানিয়েছেন দুদকের একটি সূত্র।

সূত্র জানায়, প্রাইম ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তা ২০১১ সালের এপ্রিল মাসে জনৈক কামাল হোসেনের নামে ব্যাংকটির মতিঝিল শাখায় একটি হিসাব খোলে। এতে তারা মেসার্স কামাল এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ভুয়া প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকার দেখায়। এ সময় তারা হিসাব খুলতে প্রয়োজনীয় যেসব দলিলাদি ব্যবহার করেছেন (ঠিকানা, ভোটার আইডি কার্ড, ট্রেড লাইসেন্স, আয়কর নথি) সব কিছুই ভুয়া। যার হিসাব নং ১০৪১১০৯০০৬০৩৮৫।
এরপর তারা সোনালী ব্যাংক লোকাল শাখার কর্পোরেট গ্রাহক বেলহাসা অ্যাসোসিয়েটস লি. নামক হিসাব (০০০০২৩৩৩১৩৩১১৩) থেকে প্রাইম ব্যাংকের ওই হিসাবে এক কোটি টাকা স্থানান্তর করে। এতে তারা বেলহাসার স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া চেক ব্যবহার করে। এরপর এ টাকা একই দিনে ৫টি চেকের মাধ্যমে প্রাইম ব্যাংক থেকে উত্তোলন করে।

পরবর্তী সময়ে বেলহাসার অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে প্রাইম ব্যাংকের ৯ জন ও সোনালী ব্যাংকের ২ জন কর্মকর্তা জড়িত থাকার বিষয় উঠে আসে। পরে বিষয়টি অধিকতর অনুসন্ধানের জন্য ২০১২ সালের ১৪ নভেম্বর দুদকে পাঠায় বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর দুদকের উপ-পরিচালক শাহীন আরা মমতাজ বিষয়টি অনুসন্ধান শেষে সম্প্রতি কমিশনে প্রতিবেদন দাখিল করেন। যা কমিশনের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

ভুয়া হিসাব খোলা ও টাকা স্থানান্তর করার অভিযোগে প্রাইম ব্যাংকের অভিযুক্ত কর্মকর্তারা হলেন, প্রাইম ব্যাংক লিমিডে মতিঝিল শাখার সেলস এক্সিকিউটিভ মির্জা কামরুল হাসান, অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার মো. তাজুল ইসলাম, সিনিয়ন অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. ইউসুফ আলী, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার মো. ফেরদৌস আক্তার দীপু, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. মহিউদ্দিন আহমেদ, এন্টি মানিলন্ডিারিং কর্মকর্তা আফজানুল নাহার, এক্সিকিউটিভ অফিসার এইচএম কামরুজ্জামান সুমন ও সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. জাফর হাসান।

অন্যদিকে সোনালী ব্যাংকের অভিযুক্ত কর্মকর্তারা হলেন, লোকাল শাখার সিনিয়র অফিসার আনিসুর রহমান সরকার ও অফিসার লিয়াকত আলী। তাদের বিরুদ্ধে একসাথে বিশাল অংকের টাকা স্থানান্তর করার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের অধ্যাদেশ লঙ্ঘন করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

অধ্যাদেশ অনুসারে কোনো হিসেব থেকে একসাথে ৫ লাখের অধিক টাকা স্থানান্তর অথবা উত্তোলন করতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অবগত করতে হবে। আর সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তারা কোনো রকম যাচাই-বাছাই করা ছাড়া এ কাজে সহায়তায় করায় তাদের যোগসাজসের বিষয়টি প্রমাণিত হয়।

অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা শাহীন আরা মমতাজ জানান, প্রাইম ব্যাংকের কর্মকর্তারা ভুয়া হিসেবের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংকের একটি হিসেব থেকে এ টাকা আত্মসাৎ করে। যাতে সোনালী ব্যাংকের দু’কর্মকর্তাও জড়িত রয়েছেন। আর অভিযোগটি অনুসন্ধান করে প্রমাণিত হওয়ায় কমিশনে প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। অনুমোদন পেলে শিগগিরই মামলা করা হবে।