রানার ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলে ক্রেতারা পিছু হটবে: জে. ডেলানি

  • তপু রায়হান
  • April 27, 2014
  • Comments Off on রানার ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলে ক্রেতারা পিছু হটবে: জে. ডেলানি
DCCI

DCCIপোশাক খাতে রানা প্লাজা ও তাজরীন ফ্যাশনের মতো দুর্ঘটনা শিল্পটির গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনকে তরান্বিত করেছে। এই ধরনের দুর্ঘটনা ও দুর্বল শ্রম অধিকারের ধারাবাহিকতার কারণে পোশাক খাতের ভাবমূর্তি ঝুঁকির সম্মুখীন হবে। যা ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশ থেকে অন্যদেশে চলে যেতে বাধ্য করবে বলে মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি মাইকেল জে. ডেলানি।

এ সময় তিনি এখনও সরকার ও সংশ্লিষ্টদের ওপর যে দায় চেপেছে তা তারা যত শিগগির পালন করবে তত তাড়াতাড়ি শিল্পটি দেশের উন্নয়নের চালিকাশক্তি হবে বলে মনে করেন।

রোববার দুপুরে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (ডিসিসিআই) মিলনায়তনে দ্য ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কো-অপারেশন ফোরাম এগ্রিমেন্ট (টিকফা) বিষয়ে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি ডিসিসিআই ও আমেরিকান চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রি (অ্যামচ্যাম) যৌথভাবে আয়োজন করে।

ডিসিসিআইয়ের সভাপতি মোহাম্মদ শাহজাহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশস্থ রাষ্ট্রদূত ড্যান মোজেনা, অ্যামচ্যামের সভাপতি আফতাবুল ইসলাম, বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলামসহ অন্যরা।

ডেলানি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রায়াংগল শার্টওয়েস্ট ঘটনা যেমন আমেরিকার শ্রমিকদের জন্য আরও নিরাপদ ও সুষ্ঠু পরিবেশ গড়ে তুলতে ও প্রয়োজনীয় সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নিতে প্রণোদিত করেছিল তেমনি রানা প্লাজা ও তাজরীনের ঘটনা বাংলাদেশের শ্রমিকদের ক্ষেত্রে সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রণোদনা হিসেবে কাজ করবে।

তিনি বলেন, শ্রমিকরা যখন তাদের সংগঠিত হওয়া, ইউনিয়ন গড়ে তোলা ও সম্মিলিত দরকষাকষির চেষ্টা করার অধিকার চর্চা করে তখন তারা নিজ স্বার্থ কার্যকর ও সমষ্টিগতভাবে তুলে ধরতে পারে। আর এর মধ্যে তাদের কর্মস্থল ও স্বাস্থ্য এর অন্তর্ভুক্ত থাকে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শ্রমিকদের কাজ করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। আর নিজের কর্মস্থলে কী কী ঝুঁকি বিদ্যমান তা জানার জন্য শ্রমিকরা বেশি তথ্য প্রদানকারী হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তাই শ্রমিক ও ব্যবস্থাপকদের মধ্যে কার্যকরী যোগাযোগ থাকলে ভবন ও অগ্নিনিরাপত্তার মতো চ্যালেঞ্জগুলো দলীয়ভাবে মোকাবেলা করা যায় বলে মনে করেন ডেলানি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের অসংখ্য চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আইএলও, বেসরকারি খুচরা বিক্রেতা, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ইউনিয়ন, এনজিও ও অবশ্যই বাংলাদেশ সরকারকে অভূতপূর্ব কাজ করতে হবে। আর এই উন্নয়নে বেসরকারিখাত দেশিয় ও আন্তর্জাতিক উভয় অঙ্গনে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ নিশ্চিত হলে তারা অন্তত নিরাপদে কাজ করতে পারবে। তাদের দাবিগুলো কার্যকরভাবে উপস্থাপন করতে পারবে। পরিবারকে সহায়তা প্রদানে পর্যাপ্ত আয় করতে পারবে। এটা আমাদের সবার স্বপ্ন। তবে সকলে মিলে কাজ করলে এই স্বপ্ন বাংলাদেশের জন্য বাস্তবে রুপ নেবে বলে মনে করেন তিনি।