মিথ্যাচার করছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক

  • Emad Buppy
  • April 27, 2014
  • Comments Off on মিথ্যাচার করছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক
dutch bangla bank declared dividend

dutch bangla bank declared dividendব্যাংকিং খাতে আধিপত্য বিস্তার করতে মিথ্যা প্রচারণার আশ্রয় নিয়েছে ডাচ্ বাংলা ব্যাংক লিমিটেড। শিক্ষাবৃত্তি প্রদানের নামে তারা এ মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে। দেশব্যাপী তারা যে বাৎসরিক ১০২ কোটি টাকা শিক্ষাবৃত্তি প্রদানের প্রচারণা চালাচ্ছে আদতে তার সাথে বাস্তবের কোনো মিল নেই। কিন্তু এ প্রচারণা দিয়েই তারা মানুষের সহমর্মিতা পাওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে পাঠানো ব্যাংকটির সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) ব্যয়ের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ২০১৩ সালে ব্যাংকটি সিএসআর কার্যক্রমে মোট ব্যয় করেছে ৭৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে শিক্ষা খাতে ব্যাংকটি ব্যয় করেছে মাত্র ৩৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) ব্যাংকটি ব্যয় করেছে ১৬ কোটি ৫৮ লাখ টাকা এবং শেষভাগে (জুলাই-ডিসেম্বর) ব্যয় করেছে ১৯ কোটি ২০ লাখ টাকা।

চলতি বছর ২০১৩ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে অধ্যয়নরত দুই হাজার ৫১৮ জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দিয়েছে ব্যাংকটি। সিএসআর কার্যক্রমের আওতায় ২০১০ সাল থেকে এ পর্যন্ত ২১ হাজার ৪২৬ জনকে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। আর ব্যাংকটির হিসাবে প্রদানকৃত এ টাকার পরিমাণ ১১৬ কোটি টাকা। চার বছরে তারা এ পরিমাণ টাকা ব্যয় করেছে। অথচ তারা দেশব্যাপী বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও বিলবোর্ডে প্রচারণা চালাচ্ছে বাৎসরিক ১০২ কোটি টাকার শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে।

ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের এ মিথ্যা প্রচারণায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা। শিগগিরই ব্যাংকটিকে চিঠি দিয়ে এ মিথ্যা প্রচারণা চালানোর ব্যাপারে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে বলে এসব কর্মকর্তারা জানান।

অবশ্য ডাচ্- বাংলা ব্যাংক এ ব্যাপারে একটি যুক্তি তুলে ধরেছে। তারা যুক্তি দেখিয়েছে ২০১০ সাল থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে তারা ৩০ হাজার শিক্ষার্থীকে শিক্ষাবৃত্তি প্রদানের একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। ২০১৬ সালের পরে এ প্রকল্পের বাৎসরিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১০২ কোটি টাকা। প্রচারণায় একটু তথ্যের স্বল্পতা আছে উল্লেখ করে তারা বলেন, বিলবোর্ড বা বিজ্ঞাপনে সব কথা লেখা যায় না, তাই সেখানকার তথ্য দেখে অনেকে বিভ্রান্ত হতে পারেন। এটা কোনো প্রতারণা নয় বলে তারা দাবি করেন।

স্থানীয় স্পন্সরদের প্রাপ্য লভ্যাংশ থেকে এ বৃত্তির টাকা প্রদান করা হচ্ছে। ২০১৬ সালের পরে যে ৩০ হাজার শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদান করা হবে তার শতকরা ৫০ ভাগ ছাত্রীদের মধ্যে এবং ৮০ ভাগ গ্রামীণ ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে বিতরণ করা হবে বলে ব্যাংকটি জানিয়েছে।

এ ব্যাপারে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা অর্থসূচককে বলেন, সিএসআর কার্যক্রমের আওতায় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে মূলত ৬টি ক্যাটাগরিতে গরিব, অসহায় ও সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সাহায্যার্থে এগিয়ে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শুধু শিক্ষা খাতে মোট সিএসআর কার্যক্রমের ৩০ শতাংশ ব্যয় করার কথা বলা হয়েছে। আর এটা প্রতিষ্ঠানগুলোর সামাজিক দায়বদ্ধতারই অংশ হিসেবেই করার কথা। তাই এখানে প্রচারণার কিছু নেই। কিন্তু ডাচ্-বাংলা ব্যাংক প্রচারণার নামে দেশের মানুষকে যে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছে তা মোটেই কাম্য নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।

এ ব্যাপারে বক্তব্য নেওয়ার জন্য ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে শামসি তাবরেজকে মোবাইলে বার বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, ২০১১ সাল থেকে শিক্ষাবৃত্তি নিয়ে এমন প্রতারণা মূলক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। ওই বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে এই মিথ্যা প্রচার শুরু করে তারা।

এসএই/ এআর