‘সোলারের মাধ্যমে দুই বছরে ১০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব’

  • Emad Buppy
  • April 26, 2014
  • Comments Off on ‘সোলারের মাধ্যমে দুই বছরে ১০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব’
DRU

DRUঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরের বাসভবন, কল-কারখানা, অফিস-আদালত ইত্যাদি বিভিন্ন ভবনের ছাদে সোলার স্থাপন করলে দুই বছরে প্রায় ১০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে বলে জানালেন সোলার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (সাব)।

শনিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনী মিলনায়তনে সোলার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (সাব) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এ কথা জানানো হয়।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, বর্তমানে প্রায় ৩’শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সৌর বিদ্যুৎ থেকে উৎপাদিত হচ্ছে। এর ফলে সারা দেশে প্রায় ৩ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সোলার ব্যবসায়ীদেরকে সহজ শর্তে ঋণ ও গ্রীন ব্যাংকিংয়ের আওতায় আনা হলে এই শিল্পকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব জানিয়ে সংগঠনের কর্মকর্তারা বলেন, সোলার স্থাপনকারী গ্রাহকদের সোলার স্থাপনের জন্য মোট ব্যয়ের অন্তত ৩০ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়া দরকার।

এ সময় সঠিকমানের বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ডিপিডিসি, ডেসকো, পিডিবি ও আরইবি ইত্যাদি এসব সরকারি সংস্থায় সাব এর অভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষিত সোলার ব্যবসায়ীদের অন্তর্ভুক্ত করে সোলার স্থাপনের কাজ প্রদান করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও সাব এর উপদেষ্টা সাইফুল হক বলেন, কখনও যদি চীন বা ইন্ডিয়া থেকে আমদানিকৃত বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে যায় তখন এই প্রাকৃতিক শক্তি সূর্যের ব্যবহারটাকে আমাদের কাজে লাগাতে হবে।

তিনি বলেন, রাস্তার পাশে ল্যাম্পপোস্টে যেসব প্যানেল বসানো হয়েছে সেখানে সঠিক পরিকল্পনার অভাব রয়েছে। প্রতিটি ল্যাম্পপোস্টে প্যানেল বসানোর কারণে প্যানেলগুলো পরিষ্কার করতে অনেক টাকা খরচ হচ্ছে।

গ্রাম অঞ্চলের অনেকেরই অভিযোগ রয়েছে যে, সোলারের সাথে নিম্নমানের সুইচ, লাইট ও ব্যাটারি দেওয়া হয়। কয়েকদিন ব্যবহারের পর সেগুলো অকেজো হয়ে যায় এই বিষয়ে আপনাদের করণীয় কি এমন প্রশ্নের জবাবে সাব এর আহ্বায়ক মাহবুব আলম জানান, এই বিষয়ে মনিটরিংয়ের জন্য রেগুলেটরি বোর্ডের মাধ্যমে পরীক্ষা করে গ্রাহকদেরকে যন্ত্রপাতি দেওযা হবে।

এ সময় বেশ কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন তারা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: সৌর বিদ্যুতের ব্যবহৃত সকল সামগ্রীর উপর সকল ট্যাক্স/ভ্যাট মওকুফ করতে হবে। সোলার ব্যবসায়ীদের সহজ শর্তে ঋণ প্রদানসহ গ্রীনব্যাংকিং এর আওতায় আনতে হবে এবং সেই সাথে সরকারকে বিভিন্ন মিডিয়ায় সৌরবিদ্যুৎ সম্পর্কে প্রচার ও প্রচারণা চালাতে হবে। ভবনের ছাদে সোলারে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ১৮ টাকা ইউনিট ধরে ক্রয় করে অর্থ প্রদান করতে হবে এবং ছাদে সোলার স্থাপনকারী গ্রাহকদের সোলার স্থাপনের জন্য মোট ব্যয়ের ৩০% ইনসেনটিভ প্রদান করতে হবে।  বিদ্যুৎবিহীন এলাকায় সোলার ইরিগেশন পাম্প ব্যবহারকারীদের মোট খরচের ৮০ শতাংশ সরাসরি প্রদান করতে হবে। প্রত্যেক পরিবারে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ও জাতীয় গ্রীডে ১০ শতাংশ সৌরবিদ্যুৎ যোগ করতে হলে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আগামি বাজেটে এই খাতে সরকারি বিভিন্ন প্রণোদনামূলক ব্যবস্থা করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের যুগ্ম-আহ্বায়ক বলরাম বাহাদুর, সিদ্দিকুর রহমান, ইয়াসির আরাফাত, হালিম মৃধা প্রমুখ।

জেইউ/এ এস