শিক্ষিত হয়ে ওরা দেশের সেবা করতে চায়

rana-plaza11রানা প্লাজা ধসে নিহত হওয়া শ্রমিকদের সন্তানরা শিক্ষিত হয়ে দেশের সেবা করতে চায়। আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম কর্তৃক সাভারে প্রতিষ্ঠিত এতিমখানার শিশুরা কেউবা ডাক্তার আবার কেউ ইঞ্জিনিয়ার হতে চায়। আবার বড় হয়ে বাবা-মার ইচ্ছা পূরণ করতে হতে চায় মানুষের মতো মানুষ।

সাত বছরের শিশু মিনা আক্তার তাদেরই একজন। যে ডাক্তার হয়ে মা-বাবার ইচ্ছা পূরণ করতে চায়। রানা প্লাজা ধসে তার বাবা-মা উভয় চলে গেছেন না ফেরার দেশে। মা-বাবার কথা মনে পড়লে শুধু কান্নাই আসে তার। মা রিনা বেগম ও বাবা মনির হোসেনের স্বপ্ন ছিলো তাদের মিনা লেখাপড়া শিখে ডাক্তার হবে। তবে সর্বনাশী রানা প্লাজা সেই স্বপ্ন নিমিষেই শেষ করে দিয়েছে। নার্সারিতে পড়া মিনা সেই স্বপ্ন পূরণ করতে চায়।

আর চতুর্থ শ্রেনীতে পড়া পাপিয়া আক্তার সানজিদা বড় হয়ে ইঞ্জিনিয়ার হতে চায়। রানা প্লাজা ধসে মা আনোয়ারা বেগম মারা গেছেন। বড় বোন ইনুর আক্তার এখনও চিকিৎসাধীন (সিআরপি) হাসপাতালে। মায়ের কথা মনে পড়লে চিঠি লেখে সানজিদা। নিজের খাতায় চিঠি লিখে মায়ের সঙ্গে কথা বলেন প্রায়শই। চিঠির মাধ্যমে মায়ের কাছে নানা আবদার করে সে। বড় হয়ে মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে চায় সানজিদা।

মিনা, সানজিদা আর সোনিয়া শুধু নয় এ শিশুরাই স্বপ্ন দেখে শিক্ষিত হয়ে সমাজের সেবা করার জন্য। মানুষের মতো মানুষ হওয়ার জন্য।

শনিবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স মিলনায়তনে রানা প্লাজা ধসে নিহতদের কন্যা শিশুদের জন্য আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম সাভারের পাথালিয়ায় প্রতিষ্ঠিত এতিমখানার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আসা শিশুদের সঙ্গে কথা বলে তাদের ওই স্বপ্নের কথা জানা যায়।

আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের সভাপতি শামসুল হক চিশতীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম, সংসদ সদস্য ডা. এনামুর রহমান, এফবিসিসিআই DSC_3789পরিচালক আব্দুর রাজ্জাকসহ অন্যরা।

অনুষ্ঠানে আতিকুল ইসলাম বলেন, রানা প্লাজা ধসে যেসব শ্রমিক নিহত হয়েছে তাদের সন্তানদের দায়িত্ব বিজিএমইএ গ্রহণ করবে। তাদের পড়ালেখার খরচ বহন করবে বলে ঘোষণা দেন তিনি। ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের মধ্য থেকে যদি আরও কোনো শিশুর সহযোগিতা প্রয়োজন হয় তবে বিজিএমইএ তারও দায়িত্ব নেবে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, এতিম শিশুদের কাছে মা কিংবা বাবাকে আর ফিরিয়ে দিতে পারবে না কেউ। তবে সহানূভুতি জানিয়ে পাশে থাকবে সবাই। বিজিএমইএ তাদের পড়ালেখার খরচ বহন করতে পারলেও বাবা মায়ের মতো আদর-যত্ম করতে পারবে না। সবসময় সংগঠনটি এই এতিম শিশুদের পাশে থাকবে বলে  জানান তিনি।

তিনি আরও জানান, রানা প্লাজা ধসের পর থেকে পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা ভালো নেই। কারখানা পরিদর্শনে ইতোমধ্যে ১৭ হাজার ৫০০ শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে। তিনদিন পরে আরও একটি কারখানা পরিদর্শন হবে যেখানে আরও ৬ হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে যাবে। তবে এই বাস্তবতার পরেও ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের পাশে থাকবে বলে ঘোষণা দেন তিনি।