কারখানা পরিদর্শনে সাড়ে ১৭ হাজার পোশাক শ্রমিক বেকার হয়েছে

Atikul_islamপোশাক শিল্পে অগ্নি, বিদ্যুৎ ও নিরাপদ কর্মপরিবেশের জন্য কম্প্লায়েন্স ইস্যুতে কারখানা পরিদর্শনে ১৭ হাজার ৫০০ শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম। এভাবে কারখানা বন্ধ হলে আগামি ৫ মাসে ৫ লাখ শ্রমিক বেকার হয়ে যাবে বলে জানান তিনি। তাই বাজেটে কারখানা স্থানান্তরের জন্য বাজেটে সুবিধা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

শনিবার সকালে ঢাকা চেম্বারস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) মিলনায়তনে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক রিপোর্টারস ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত বাজেটে প্রতিশ্রুতি ও চ্যালেঞ্জ শিরোনামের এক আলোচনা সভায় তিনি এই কথা বলেন।

আলোচনা অনুষ্ঠানে সংগঠনটির সভাপতি সুলতান মাহমুদের সভাপতিত্ব করেন। এতে উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআই সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দীন আহমেদ, সিপিডির ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দীন আহমেদ, ডিসিসিআই সভাপতি মোহাম্মদ শাহজাহান, বাংলাদেশ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী,  এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আব্দুল আওয়াল মিন্টু সহ ব্যবসায়িক নেতারা।

আতিকুল ইসলাম বলেন, কারখানা পরিদর্শনে আমরা এখন বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছি। এই পর্যন্ত ১০২৯ কারখানার মধ্যে ১৬টি বিল্ডিংয়ে সমস্যা পাওয়া গেছে। তাতে অন্তত ১৭ হাজার ৫০০ পোশাক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে।

বিজিএমইএর সদস্যভুক্ত  কারখানার মধ্যে ১৪৩৪টি কারখানা পার্পাস মেড বিল্ডিং ও ৭৬৯ টি শেয়ার্ড বিল্ডিং পরিদর্শন হচ্ছে। তবে এই পরিদর্শনে শেয়ার্ড বিল্ডিংয়ে অবস্থিত কারখানা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, এভাবে শেয়ার্ড বিল্ডিং বন্ধ হতে থাকলে আগামি ৩ মাসে ১ লাখ শ্রমিক বেকার হয়ে পড়বে। আর ৫ মাসে তা ৫ লাখ ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে করেন তিনি।

তিনি জানান, চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে অ্যাকর্ড ডিটেইলস ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাসেসমেন্ট (ডিইএ) শুরু করবে। তাতে তারা তাদের অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি কারখানা ডিইএ করবে। এসময় এই অবস্থা আরও ভয়াবহ হবে বলে মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, এর ফলে চট্টগ্রামে অবস্থিত কারাখানাগুলোর ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়বে। সেখানে শুধুমাত্র বেবজা ছাড়া অর্ধিকাংশ কারখানা বন্ধ হয়ে যাবে। তাতে আরও বেশি পোশাক শ্রমিক চাকরি হারাবেন বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।

তাই এবারের বাজেটে এক্সিট প্লান থাকার কথা বলেন। কারখানাগুলোকে স্থানান্তরের জন্য বাজেটে বিশেষ সুবিধা রাখার প্রস্তাব করেন তিনি। কারখানাগুলোকে প্রি-ফেব্রিকেটেড অবকাঠামো করার জন্য আমদানি পণ্যে ওপর থেকে শুল্ক কমানোর দাবি করেন তিনি।