‘শ্রমিক সংগঠন দমন বন্ধ করুন’

robert mendez

robert mendezশ্রমিক সংগঠনগুলোর ওপর নিপীড়ন বন্ধে বাংলাদেশ সরকার এবং বিজিএমইএ’ র প্রতি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন সিনেটর রবার্ট মেন্ডেজ। অন্যথায়, রানা প্লাজা ট্রাজেডির পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি রানা প্লাজা ট্রাজেডির বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এক বিবৃতিতে তিনি একথা বলেছেন।

নিউ জার্সি থেকে নির্বাচিত ডেমোক্রেট দলীয় সিনেটর মেন্ডেজ যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র বিষয়ক সিনেট কমিটির প্রধান। রানা প্লাজা ট্রাজেডির পর মেন্ডেজের সভাপতিত্ব অনুষ্ঠিত সভায় বাংলাদেশের কাছ থেকে জিএসপি সুবিধা ফিরিয়ে নেয় যুক্তরাষ্ট্র।

রানা প্লাজা ট্রাজেডি সম্পর্কে মেন্ডেজ বলেন, এক বছর আগে রানা প্লাজার বীভৎসতায় হতবাক হয়েছে পুরো বিশ্ব, যে দুর্ঘটনায় প্রায় ১১৩০ জন মানুষের নির্মম মৃত্যু ঘটেছিল। শ্রমিকদের নিজেদের সংগঠন থাকলে হয়তো এই মৃত্যু থামানো যেত।

তিনি বলেন, স্বাধীন শ্রমিক ইউনিয়ন ছাড়া শ্রমিকরা নিজেদের নিরাপত্তা দাবিতে কখনও সোচ্চার হতে পারবে না। এমনটি না হলে জরুরি নির্গমন রাস্তা খোলা রাখার ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানগুলো কখনও বাধ্য হবে না।

এই বিবৃতিতে বাংলাদেশের কারখানা মালিকদের বিরুদ্ধে শ্রমিক নেতাদের ওপর নির্যাতন চালানোর অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। তিনি জানান, বিভিন্ন অজুহাতে মালিকরা সবসময়ই শ্রমিক নেতাদের চাকরীচ্যুত করেছে এবং শ্রমিকরা চাকরী হারনোর ভয়ে কোন ধরনের সংগঠনে যুক্ত হওয়া থেকে বিরত থাকে।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক এবং রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) উদ্দেশ্য তিনি বলেন, মালিকদের এই সংগঠনটির উচিত দোষী মালিকদের রক্ষার পুরোনো অভ্যস থেকে বেরিয়ে আসা। এই সংগঠন বরাবরের মতই মালিকদের পক্ষ নিয়েছে এবং শ্রমিকদের নিপীড়নে বন্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।

মেন্ডেজ বলেন, শ্রমিক সংগঠনগুলোর ওপর চালিত নিপীড়ন বন্ধে বাংলাদেশ সরকার এবং বিজিএমইএ পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে আরেকটি দুর্ঘটনা শুধু সময়ের ব্যাপার মাত্র। এরপর মেড ইন বাংলাদেশের সম্মান ধূলোয় মিশে যাবে।

তিনি বলেন,  বাংলাদেশে এখনও শ্রমিকদের রক্ষায় প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব রয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের উচিত শ্রমিকদের সংগঠন সৃষ্টিতে উৎসাহিত করা এবং নিবন্ধনের প্রক্রিয়া সহজতর করে তোলা।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারের অবস্থিত রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় ১১২৯ জন নিহত হয়। এই ঘটনায় আহত হয় আরও ২৫০০ মানুষ। নিহত এবং আহতদের অধিকাংশই রানা প্লাজায় বিভিন্ন পোশাক উৎপাদক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া এখনও পর্যন্ত রানা প্লাজায় কর্মরত শতাধিক পোশাক কর্মী নিখোঁজ আছেন বলে অভিযোগ করেছে স্বজনরা।

মেন্ডেজ বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রেতারা ইতোমধ্যেই বাংলাদেশে ভবন নিরাপত্তা এবং যথাযথ শ্রম পরিবেশ নিশ্চিত করার ব্যাপারে বাধ্যবাধকতা আরোপ করেছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থাও এই ব্যাপারে পদক্ষেপ নিয়েছে এবং রানা প্লাজায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করেছে।

তিনি আরও বলেন, আমি বাংলাদেশ সরকার এবং বিজিএমইএ’কে এই কথাটি সহজ ভাষায় বুঝিয়ে দিতে চাই, শ্রমিকদের রক্তের বিনিময়ে প্রস্তুতকৃত কোন পোশাক পশ্চিমারা পরিধান করবে না।