এবারও চ্যাম্পিয়ন দিদার বলী

dider boli

dider boliচট্টগ্রামে ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলী খেলার ১০৫তম আসরে এবারও চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন কক্সবাজারের দিদার বলী। এ নিয়ে ১১ বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন দিদার। অন্যদিকে রানারআপ হয়েছেন প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণ করা নারায়ণগঞ্জের হাবিবুর রহমান।

শুক্রবার চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী লালদিঘীর ময়দানে দুই শতাধিক বলী (কুস্তি খেলোয়ার) এ খেলায় অংশগ্রহণ করেন।

চ্যাম্পিয়ন দিদার বলীর বাড়ি কক্সবাজার জেলার কতুবদিয়া উপজেলায়। তিনি এ নিয়ে ১২ বার জব্বারের বলী খেলায় অংশগ্রহণ করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন ১১ বার আর রানারআপ হয়েছেন ১ বার। এবারই প্রথমবারের মতো অংশ নেওয়া নারায়ণগঞ্জ আড়াইহাজার এলাকার হাবিবুর রহমান রানারআপ হয়েছেন।

আয়োজক কমিটির সাধারণ-সম্পাদক সৈকত আলম বাদল অর্থসূচককে বলেন, প্রতিবছরের মতো এ বছরই বলী খেলায় চ্যাম্পিয়নকে ১৫ হাজার টাকা ও একটি ক্র্যাস্ট এবং রানারআপকে ১০ হাজার টাকা ও একটি ক্র্যাস্ট দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অংশগ্রহণকারী প্রত্যেককে একটি করে ক্র্যাস্ট দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জব্বারের এই বলী খেলাটি সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়। এটি চট্টগ্রামের এক ঐতিহ্যবাহী খেলা। এ বছর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বিভিন্ন বয়সের প্রায় দুই শতাধিক খেলোয়াড় অংশগ্রহণ করেন।

এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে চলে আসা জব্বারের বলী খেলা দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামসহ সারা দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অংশ হয়ে আসছে। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে চট্টগ্রামের যুব সমাজকে ঐক্যবদ্ধ ও শারীরিকভাবে সক্ষম করে তুলতে এই বলী খেলার সূচনা হয় ১৯০৯ সালের দিকে। আন্দোলনের কৌশলী সংগঠক চট্টগ্রাম নগরীর বদরপাতি এলাকার সওদাগর আব্দুল জব্বার এ বলী খেলার আয়োজন করেন। তারপর থেকে ধীরে ধীরে জব্বার মিয়ার বলী খেলা ও বৈশাখী মেলা দেশিয় সংস্কৃতির অন্যতম ধারক ও বাহকে পরিণত হয়েছে।

জব্বারের বলী খেলা উপলক্ষ্যে গতকাল থেকে এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ মেলা চলবে তিন দিনব্যাপী তবে ইতোমধ্যে লালদিঘীর মাঠে হস্ত ও কুটিরশিল্পের বিভিন্ন তৈজসপত্র, আসবাবপত্র, প্রসাধন সামগ্রীসহ হাজার রকমের পণ্যের পসরা নিয়ে বসেছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীরা। এছাড়া মেলায় নাগরদোলা, সার্কাস ও বিচিত্র অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

মেলার পরিধি লালদীঘি ময়দানের সীমা ছাড়িয়ে আন্দরকিল্লা, সিনেমা প্যালেস ও কোতোয়ালি মোড় পর্যন্ত বিস্তৃতি ঘটেছে। নিজের পছন্দমতো জায়গায় দোকানিরা নিজের তৈরি ও সংগৃহীত হাতপাখা, শীতল পাটি, মাটির কলস, চুড়ি ফিতা, রঙিন সূতা, হাতের কাঁকন, মাটির ব্যাংক, ঝাড়, খেলনা, ঢোল, বাঁশিসহ বাঁশও বেতের নানা তৈজসপত্র, শিশুদের জন্য  কাঠের পুতুল, মাটির তৈরি নানান ধরনের খেলনা সামগ্রীও নিয়ে বসেছে। এছাড়াও মেলায় পাওয়া যাচ্ছে ঘর সাজানোর উপকরণসহ নিত্য ব্যবহার্য সামগ্রী।