ক্ষতিপূরণ না পাওয়া লজ্জার: আইএলও

Gilbert Posnu

Gilbert Posnuরানা প্লাজার ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের এখনও ক্ষতিপূরণ পুরোপুরি বুঝিয়ে না দেওয়াটা লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)র উপ-নির্বাহী পরিচালক গিলবার্ট ফসুন হংবো।

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর রূপসী বাংলা হোটেলে রানা প্লজার এক বছর পর অগ্রগতি ও উন্নতি বিষয়ে এক বৈঠকে তিনি একথা বলেন।

শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রণালয় ও আইএলও’র যৌথ আয়োজনের ওই অনুষ্ঠানে কম্প্লায়েন্স ইস্যুতে কারখানা পরিদর্শন আরও গ্রহণযোগ্য করা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ   করেন তিনি। তারমতে এমনটি হলে  পরে আর মান নির্ধারণের দরকার হবে না।

রানা প্লাজার কথা বলতে গিয়ে হংবো জানান, পোশাক খাতে এতো বড় দুর্ঘটনার এক বছর পার হলো তবে ক্ষতিপূরণের শর্তপূরণ হলো পূরণ হলো না। এটা খুবই লজ্জাজনক। শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণের বিষয়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হওয়া প্রয়োজন।

কারখানা সংস্কারে আরও কার্যকরি পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে হংবো শুধুমাত্র পোশাক খাতের জন্য বিমা করা দরকার পরামর্শ দেন।

তাছাড়া পোশাক খাতকে এগিয়ে নিতে সামাজিক সংলাপ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

তিনি জানান, কম্প্লায়েন্স ইস্যুতে আইএলও আরও সহযোগিতা করবে। তবে এটাকে আরও শক্তিশালী হতে হবে। আর সম্মিলিত প্রচেষ্টা এই কাজটাকে এগিয়ে নেবে বলে বিশ্বাস করেন তিনি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ড্যান মোজীনা বলেন, ১১৩৫ জন নিষ্পাপ শ্রমিক মরে যাওয়ার এক বছর পার হয়েছে আজ।এটা বাংলাদেশের পোশাকখাতের জন্য বড় দুর্ঘটনা। এমন কোনো ঘটনা আবার ঘটুক তা যুক্তরাষ্ট্র আশা করে না।

তিনি বলেন, ইউরোপ ও আমেরিকার ৮৫ শতাংশ পোশাকের বাজার এখন বাংলাদেশ। তাই সেই খাতের শ্রমিকদের নিরাপত্তায় কারখানা পরিদর্শনকে তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে বলে জানান তিনি।

তাছাড়া রানা প্লাজা ক্ষতিগ্রস্থদের  জন্য গঠিত তহবিলে অন্যদের মতো যুক্তরাষ্ট্রও সহযোগিতা করছে বলে জানান তিনি। তিনি মনে করেন নিরাপত্তা ও শ্রম ইস্যুতে সব কারখানা পরিদর্শন হওয়া উচিত।যাতে শ্রমিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা যায়।

কানাডার দূত হেদার ক্রুডেন বলেন, কারখানা পরিদর্শনের সময় যেগুলো বন্ধ হয়েছে তা শ্রমিকদের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি ছিলো। এখন এসব কিছু পরিবর্তনের সময় এসেছে। তিনি বলেন, কানাডা টেকসই ও বিশ্বাস যোগ্য পরিবর্তনে বিশ্বাস করে। আর এ জন্যে গত চার বছরে পোশাক খাতে দেশটি আইএলও’র মাধ্যমে ৮  মিলিয়ন ডলার সহায়তা করেছে শ্রমিকদের প্রশিক্ষণের জন্য।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ পোশাক শিল্পে টেকসই উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তবে অর্থনীতিতে নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে প্রকৃত উন্নয়ন আসবে বলে মনে করেন তিনি।

প্রবাসী ও কর্মসংস্থানম্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দোকার মোশাররফ হোসেন রানা প্লাজার পর পোশাক খাতে নেওয়া নানা উদ্যোগের কথা তুলে বক্তব্য পেশ করেন। তাজরিন ও রানা প্লাজার পরে সরকার মালিক ও ক্রেতারা মিলে প্রকৃত পরিবর্তনে কাজ করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বাংলাদেশের পোশাক খাতের দুর্ঘটনায় বিদেশি ক্রতোরাও দায়ি বলে উল্লেখ করেন। তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতির কোনোটাই এখনও বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।

অনুষ্ঠানে আইএলও বাংলাদেশ প্রতিনিধি শ্রীনিবাস রেড্ডি পোশাক শিল্পে রানা প্লাজার পরে নেওয়া নানা উদ্যোগের বিষয় উপস্থাপন করেন। তাতে তিনি এদেশের পোশাক শিল্পে প্রকৃত পরিবর্তন শুরু হয়েছে বলে উল্লেখ করেন

শ্রমসচিব মিকাইল শিফারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপন্থিত ছিলেন,  যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত রবার্ট ডব্লিউ গিপসন, নেদারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত গার্বেন শোয়র্ড ডি জং,  বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম, বিকেএমইএ সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, ইন্ডাস্ট্রি অল বাংলাদেশ কাইন্সিলের মহাসচিব রায় রমেশ-সহ অন্যান্যরা ।