মুন্সীগঞ্জে গত ২০ দিনের আট জনের মৃ্ত্যু

  • Emad Buppy
  • April 23, 2014
  • Comments Off on মুন্সীগঞ্জে গত ২০ দিনের আট জনের মৃ্ত্যু
munshigonj-মুন্সিগঞ্জ

munshigonj-মুন্সিগঞ্জমুন্সীগঞ্জে গত ২০ দিনের ব্যবধানে স্কুলছাত্রী ও গৃহবধূসহ আট জন আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে।

শশুরবাড়ির নির্যাতন ও পারিবারিক কলহের কারণে আত্মহনণের পথ বেছে নিয়েছেন তারা। এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় পৃথক অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২ এপ্রিল রাতে জেলার শ্রীনগর উপজেলার দনি উমপাড়া গ্রামের সুমা আক্তার (১৫) নামে এক স্কুলছাত্রী বাড়ির অদূরে একটি ছাপড়া ঘরের আড়ায় গলায় ওড়না পেচিয়ে আত্মহত্যা করে।স্কুলছাত্রী সুমা আক্তার দনি উমপাড়া গ্রামের আবুল বাসারের মেয়ে ও ১০ শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

৩ এপ্রিল মুন্সীগঞ্জ শহরের উপকণ্ঠ জিয়সতলা গ্রামের বসত-ঘরের ভেতর লতা বেগম (২৩) নামে এক গৃহবধুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। শ্বশুরবাড়ির লোকজনের কটূক্তি থেকে রেহাই পেতে লতা আত্মহনণের পথ বেছে নেয় বলে দাবি তার স্বজনদের। ৪ এপ্রিল টঙ্গিবাড়ী উপজেলার সোনারং গ্রাম থেকে গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় অজ্ঞাতপরিচয় এক কিশোরীর (১৭) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

৬ এপ্রিল শ্রীনগর উপজেলার পূর্ব বাঘরা গ্রাম থেকে আয়েশা আক্তার (২০) নামে এক তরুণীর লাশ উদ্ধার উদ্ধার করা হয়। তার পারিবারিক সূত্র জানায়, পারিবারিক ঝগড়ার জের ধরে নিজ ঘরের আঁড়ার সঙ্গে রশি পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি।

১৮ এপ্রিল মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার রামেরগাঁও এলাকায় সানজিদা আক্তার (২১) নামে এক তরুণীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি ওই এলাকার শাহজাহান খানের মেয়ে।

১৯ এপ্রিল একই উপজেলার মীরাপাড়া এলাকায় রাশিদা আক্তার (২৮) নামে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি বসতঘরের আঁড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।

২০ এপ্রিল সিরাজদিখানের শেখরনগর ইউনিয়নের বরাম জেলেপাড়া গ্রামে বিশ্বজিত বর্মণের স্ত্রী শিলা বর্মণের (২০) লাশ উদ্ধার করা হয়। বিয়ের মাত্র ৩ মাসের মাথায় স্বামীর সঙ্গে মনোমালিন্য হওয়ায় ঘরের আঁড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি।

২২ এপ্রিল মঙ্গলবার মায়ের সঙ্গে অভিমান করে মুন্সীগঞ্জ শহরের গণকপাড়া এলাকায় প্রবাসী আবুল কালাম শেখের ছেলে সজিব শেখ (১৮) নামে এক তরুণ আত্মহত্যা করেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সজিব মায়ের সঙ্গে অভিমান করে বসতঘরের ফ্যানের সঙ্গে গলায় দড়ি দিয়ে ফাঁস দেয়।

পুরুষতান্ত্রিক সমাজ দ্বারা নানাভাবে নির্যাতিত হয়ে এমন অনেকেই শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যা ছাড়া মুক্তির আর কোনো পথ যেন খুঁজে পান না।

কেএফ