বাংলাদেশে কার্যক্রম অব্যাহত রাখা নিয়ে দ্বিধায় নাইকি

  • syed baker
  • April 23, 2014
  • Comments Off on বাংলাদেশে কার্যক্রম অব্যাহত রাখা নিয়ে দ্বিধায় নাইকি
Nike

Nikeরানা প্লাজা ও তাজরীন দুর্ঘটনার জেরে বাংলাদেশে কার্যক্রম অব্যাহত রাখা নিয়ে দ্বিধা-বিভক্ত হয়ে পড়েছে নাইকি। বিশ্বখ্যাত ক্রীড়া সামগ্রী নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদে এই নিয়ে সুস্পষ্ট বিভক্তি ফুটে উঠছে। একপক্ষ সস্তা শ্রম এবং স্বল্প উৎপাদন ব্যয়ের সুবাদে বাংলাদেশে কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ব্যাপারে জোর দিলেও অন্যপক্ষ শ্রমিকদের নিরাপত্তা ইস্যুতে কার্যক্রম স্থানান্তরে চাপ তৈরি করছে। দ্বন্দ্ব নিরসনের লক্ষ্য উভয় পক্ষের সমন্বয়ে গঠিত একটি দল খুব শীঘ্রই বাংলাদেশে কারখানা পরিদর্শন করতে পারেন। সম্প্রতি ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

শ্রম আইন লঙ্ঘন করে পণ্য উৎপাদনের কারণে গত কয়েক দশক ধরে সমালোচিত হয়ে আসছে নাইকি। ১৯৯৬ সালে লাইফ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত ‘এক ঘন্টায় ছয় সেন্ট’ শিরোনামের একটি ছবি প্রকাশের পর বিশ্বব্যাপী নাইকির বিরুদ্ধে নিন্দার ঝড় উঠে। এরপর থেকে শ্রমিকদের মজুরি এবং নিরাপত্তার ব্যাপারে নাইকি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা করছে। এরপরেও ২০০৬ সালে নাইকির ১৬ সরবরাহকারীর বিরুদ্ধে শ্রমিকদের অতিরিক্ত পরিশ্রম করানো এবং কম মজুরি দেওয়ার অভিযোগ উঠে। এরপর থেকে শ্রম আইন মেনে চলার ব্যাপারে কড়াকড়ি আরোপ করে নাইকি কর্তৃপক্ষ।

এরই প্রেক্ষিতে গত বছর বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী লিরিক ইন্ডাস্ট্রিজের সাথে চুক্তি বাতিল করে নাইকি কর্তৃপক্ষ। তাজরীন দুর্ঘটনার ঠিক দুই মাস পর নাইকির একটি দল লিরিক পরিদর্শনে গিয়ে প্রতিষ্ঠানটির কর্ম পরিবেশের বেহাল অবস্থা দেখে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়। অথচ লিরিকের সাথে প্রায় দশ বছর ধরে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল নাইকি।

লিরিক ছাড়াও বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় দশটি প্রতিষ্ঠান নাইকির জন্য পণ্য উৎপাদন করে থাকে। রানা প্লাজা ধসের পর থেকে এইসব প্রতিষ্ঠানের সাথে কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ব্যাপারে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়ে গেছে নাইকি।

নাইকির চিফ অপারেটিং অফিসার এরিক স্পারাংকের নেতৃত্বে একটি দল বাংলাদেশে কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পক্ষ অবস্থান নিয়েছেন। তাদের মতে, বাংলাদেশি সরবরাহকারীদেরকে শ্রমিকের নিরাপত্তা এবং মজুরির বিষয়ে চাপ প্রদানের মাধ্যমে কর্ম পরিবেশ নিশ্চিত করে কার্যক্রম অব্যাহত রাখা যেতে পারে।

অন্যদিকে সাসটেইনেবিলিটি বিভাগের প্রধান হান্নাহ জোনসের নেতৃত্বে একটি দল কার্যক্রম অব্যাহত রাখার সম্পূর্ণ বিরোধী। তাদের ভাষ্য, শ্রমিকদের নিরাপত্তা কোন দায়িত্ব নাইকির নয় এবং এটা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এই ব্যাপারে তারা লিরিক ইন্ডাস্ট্রিজের রাশ টেনে বলেন, বাংলাদেশে এই সমস্যার সমাধান এত তাড়াতাড়ি সম্ভব নয়।

এ সম্পর্কে হান্না জোনস বলেন, অন্যদের মতো বাংলাদেশে কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ব্যাপারে চাপ তৈরি করা হচ্ছে সেটা সত্য। কিন্তু একক প্রতি লাভ বাড়ানোর জন্য আমরা এটা করতে পারি না। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ শিল্পোয়ন পথে কাঁটার মতো। এক পক্ষ চাইছে কম খরচ, কিন্ত আমরা চাই নিরাপদ কারখানা।

এদিকে এরিক বলেন, আমাদের সব প্রতিযোগী বাংলাদেশের প্রতি ঝুঁকছে, তবে কেন আমরা নয়? আমি মনে করি এইজন্য আরও শক্তিশালী কারণ দর্শানো প্রয়োজন।

ওয়াল স্ট্রিট জানিয়েছে, উভয় পক্ষ নাইকির প্রধান নির্বাহীর সাথে বৈঠকের পর বাংলাদেশে সফরের ঐক্যমত্য পৌঁছেছেন। কারখানাগুলো পরিদর্শনের পর কার্যক্রম অব্যাহত রাখা না রাখা নিয়ে তারা এই ব্যাপারে যৌথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।

তবে কখন নাইকির দল বাংলাদেশে এসে পৌছাতে পারে সে ব্যাপারে কিছু জানা যায়নি।