জব্বারের বলী খেলার ১০৫তম আসর শুক্রবার

  • Emad Buppy
  • April 23, 2014
  • Comments Off on জব্বারের বলী খেলার ১০৫তম আসর শুক্রবার
ctg-boli-khela

ctg-boli-khelaচট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলী খেলার ১০৫তম আসর বসবে শুক্রবার। এ উপলক্ষ্যে আগামিকাল থেকে তিন দিনব্যাপী মেলা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চট্টগ্রামের লালদিঘীতে।

ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লালদিঘীর পাড়ে হস্ত ও কুটিরশিল্পের বিভিন্ন তৈজসপত্র, আসবাবপত্র, প্রসাধন সামগ্রীসহ হাজার রকমের পণ্যের পসরা নিয়ে আসতে শুরু করেছে ব্যবসায়ীরা।

দেশের সবচেয়ে বড় লোকজ উৎসব হিসেবে পরিচিত জব্বারের এই বলী খেলা। দেশীয় ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও অহংকারে পরিণত হয়েছে এটি। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে চট্টগ্রামের যুব সমাজকে ঐক্যবদ্ধ ও শারীরিকভাবে সক্ষম করে তুলতে বলী খেলার সূচনা হয় ১৯০৯ সালের দিকে। আন্দোলনের কৌশলি সংগঠক চট্টগ্রাম নগরীর বদরপাতি এলাকার সওদাগর আব্দুল জব্বার এ বলী খেলার আয়োজন করেন। তারপর থেকে ধীরে ধীরে জব্বার মিয়ার বলী খেলা ও বৈশাখী মেলা দেশিয়  সংস্কৃতির অন্যতম ধারক ও বাহকে পরিণত হয়।

অন্য বছরগুলোর মতো এবারও দেড় শতাধিক বলী (কুস্তি খেলোয়ার) খেলায় অংশ নেবেন বলে আশা করছেন আয়োজকরা।

আয়োজক কমিটির সাধারণ-সম্পাদক সৈকত আলম বাদল অর্থসূচককে বলেন, প্রতিবছরের মতো এ বছরও বলী খেলাকে ঘিরে চট্টগ্রামের মধ্যে আনন্দ-উৎসব শুরু হয়েছে। এ খেলা সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। এ বছর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিভিন্ন বয়সের দেড় শতাধিক খেলোয়ার অংশগ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

বলী খেলায় বিজয়ীকে নগদ ১৫ হাজার টাকা সম্মাননা দেওয়ার পাশাপাশি ক্রেস্ট ও রানার আপকে ১০ হাজার টাকা সম্মাননা দেওয়ার পাশাপাশি ক্রেস্ট দেওয়া হয়। এছাড়া খেলায় অংশগ্রহণকারী প্রত্যেককে একটি করে ক্রেস্ট দেওয়া হয়।

এদিকে প্রতিবারের মতো এবারও দূরদূরান্ত থেকে দোকানিরা হরেক রকমের পসরা নিয়ে গত ২১ এপ্রিল থেকে ভিড় করছে মেলা প্রাঙ্গণে। আনুষ্ঠানিকতার অপেক্ষা না করেই দোকানিরা গতকাল থেকে তাদের পছন্দসই স্থানে বিক্রি শুরু করে দিয়েছে। জব্বার মিয়ার বলী খেলাকে ঘিরে লালদীঘির ময়দানে নাগরদোলা, সার্কাস ও বিচিত্রানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

মেলার পরিধি লালদীঘি ময়দানের সীমা ছাড়িয়ে আন্দরকিল্লা, সিনেমাপ্যালেস ও কোতোয়ালি মোড় পর্যন্ত বিস্তৃতি ঘটেছে। নিজের পছন্দমতো জায়গায় দোকানিরা নিজের তৈরি ও সংগৃহীত হাতপাখা, শীতল পাটি, মাটির কলস, চুড়ি ফিতা, রঙিন সূতা, হাতের কাঁকন, মাটির ব্যাংক, খেলনা, ঢোল, বাঁশিসহ বাঁশও বেতের নানা তৈজসপত্র নিয়ে বসতে শুরু করেছে। শিশুদের জন্য  কাঠের পুতুল, মাটির তৈরি নানান ধরনের খেলনা সামগ্রীও নিয়ে বসছে দোকানিরা। এছাড়াও পাওয়া যাবে ঘর সাজাবার উপকরণসহ নিত্য ব্যবহার্য সামগ্রী। সাথে মুড়ি-মুড়কি, লাড্ডুর মতো রসনা তৃপ্তির নানা উপকরণতো থাকছেই।

তবে মেলায় ভ্যারাইটি শো ও জুয়ার আসর বসাতে মোটা অংকের অর্থ বিনিময়সহ চাঁদা তুলার অভিযোগ জমা পড়েছে বলে জানিয়েছেন সিএমপি কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।