গরমে রমরমা ভেজাল প্রসাধনীর বাজার

  • Emad Buppy
  • April 22, 2014
  • Comments Off on গরমে রমরমা ভেজাল প্রসাধনীর বাজার
Cosmatics

Cosmaticsপ্রচণ্ড গরমে কর্মস্থলে, ঘরে-বাইরে সবখানেই অস্বস্তি; কখনো উৎকট গন্ধ বেরিয়ে আসে ঘর্মাক্ত শরীর থেকে। এই অবস্থা থেকে খানিকটা স্বস্তি পেতে বাড়ছে প্রসাধনীর ব্যবহার। তাই পাউডার, বডি স্প্রে, ডিউডোরেন্ট, পারফিউম ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছে সব বয়সের মানুষ। আর সেই সুযোগে রাজধানীসহ সর্বত্র ভেজাল প্রসাধনীর ব্যবসা সাজিয়ে পকেট ভারি করছেন একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীরা।

রাজধানীসহ দেশের সবক’টি বড় শহরের প্রসাধনীর বাজারই ভেজালে সয়লাব হয়ে গেছে। নকল পণ্যের রমরমা ব্যবসায় রীতিমতো ঠকছে সাধারণ ক্রেতারা।

ঘামের দুর্গন্ধ থেকে রেহাই পেতে অনেকেই নিয়মিত বডি স্প্রে, ডিওডোরেন্ট কিংবা পাউডার ব্যবহার করে থাকেন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বডি স্প্রে, পারফিউম ডিওডোরেন্ট এগুলো সবই রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে তৈরি। এগুলো এতটাই বিষাক্ত যে, এটি নিঃশ্বাসের মাধ্যমে কারো দেহে অতিরিক্ত মাত্রায় প্রবেশ করলে তার তাৎক্ষণিক মৃত্যু হতে পারে।

কথা হয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চর্ম ও যৌন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. আগা মাসুদ চৌধুরীর সঙ্গে। তিনি অর্থসূচককে জানান, নকল, ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ প্রসাধনী ব্যবহারে কিডনির ওপর চাপ পড়ার আশঙ্কা থাকে। নকল প্রসাধনী ব্যবহারেরর ফলে ত্বকের স্বাভাবিক লাবণ্য বিনষ্ট হয়ে যায়। এটা ত্বক ভেদ করে রক্তের মাধ্যমে কিডনিতে গিয়ে প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। এর ফলে ত্বক ক্যান্সার হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

এছাড়া ভেজাল পারফিউম, স্প্রের ব্যবহারে নিঃশ্বাসের সঙ্গে যে ক্ষতিকর রাসায়নিক দেহে প্রবেশ করে তা এলার্জি জনিত ত্বকের সমস্যা, অ্যাজমা ও শ্বাসপ্রশ্বাসের জটিলতাসহ মারাত্মক প্রাণঘাতি সব হৃদরোগের সৃষ্টি করছে বলেও জানান তিনি।

সরেজমিনে দেখা যায়- শুধু রাজধানীর ফুটপাতই নয়, দেশি-বিদেশি নামী ব্র্যান্ডের পারফিউম, ডিওডোরেন্ট, বডি স্প্রে, শ্যাম্পু, সাবান, লোশন, তেল, সেভিং ক্রিম, নেইলপলিশসহ বিভিন্ন ভেজাল পণ্যে সয়লাব হয়ে গেছে বড় বড় শপিংমলগুলোও।

রাজধানীর গুলিস্তান, বায়তুল মোকাররম, মতিঝিল, ফার্মগেট, নিউমার্কেটের ফুটপাত থেকে শুরু করে বড় বড় শপিংমলে বাজারজাত করা হচ্ছে এসব ভেজাল প্রসাধনী।

অর্থসূচকের অনুসন্ধানে জানা যায়, চকবাজারের এসব কারখানার বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ছাড়াই নকল ফেয়ার অ্যান্ড ল্যাভলি, মেক্স ফেয়ারনেসসহ বিভিন্ন বিদেশি কোম্পানির ফেসওয়াস ও ক্রিম তৈরি করা হয়। এরপর চকবাজারের ব্যবসায়ীরা কিনে পাঠিয়ে দেয় বড় বড় শপিংমলসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। এ সব কারখানাতে বিদেশি সবধরনের নকল প্রসাধনী তৈরি করা হয়, যা ব্যবহারে ভোক্তাদের চর্মরোগসহ বিভিন্ন রোগ হয়ে থাকে বলে ।

এছাড়া, চকবাজারের একটি ব্যবসায়ীসিন্ডিকেট জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, দুবাই ও থাইল্যান্ডের নামী-দামি ব্র্যান্ডের প্রসাধনীর নকল মোড়ক চীন থেকে বানিয়ে আনে। চকবাজারে অধিক মুনাফায় তা বিক্রি করা হয়। নকল মোড়কে ভেজাল পারফিউম সরবরাহকারী পৌঁছে দেয় বড় বড় মলগুলোতে।

এ ব্যাপারে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফরহাদ হোসেন অর্থসূচককে জানান, “আমরা বারবার অভিযান চালিয়েছি। তারপরও ভেজাল পণ্য উৎপাদন প্রতিরোধ নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। রাজধানীর চকবাজারের একটি মার্কেট চক্রকে অভিযান চালিয়ে জেল-জরিমানা করেছি, সুফল পাওয়া যায়নি। এরা জরিমানা দিয়ে পুনরায় আবার ভেজাল পণ্যের ব্যবসা শুরু করে। আবার কিছু ব্যবসায়ী অভিযান থেকে রক্ষা পেতে তাদের ব্যবসার জায়গা ও কৌশল পরিবর্তন করেছে”। এজন্য ভেজাল পণ্যের ব্যাপারে এবং পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে জনসাধারণকে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর চকবাজার এলাকার বড় কাটরায় দুটি কারখানায় নকল প্রসাধনী সামগ্রী তৈরির সাথে জড়িত থাকার অপরাধে ৯ জনকে আটক করে র‌্যাব -১০ এর অধিনায়ক কর্নেল সারোয়ার। পরে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থ জরিমানা করে।

তবে, প্রশাসনের গাফিলতি আর আইনের ফাঁকফোকরে পাড় পেয়ে যাওয়া এই অসাধু ব্যবসায়ীরা থেমে নেই। অনুসন্ধানে নেমে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের বসুন্ধরা শপিং মলে গিয়ে ভিন্ন চিত্র চোখে পড়ে। মলের দোকানগুলোতে বিদেশি প্রসাধনী সাজিয়ে রাখা হয়েছে। জরদানা দোকানের ব্যবস্থাপক ইউছুফের দাবি, এগুলো বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা।

অথচ, এ দোকানে ভিয়া, এক্স, সেট ওয়েট, ওয়াইল্ড স্টোন বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বডি স্প্রে- এগুলোর অনেকগুলোতেই বিএসটিআইয়ের অনুমোদিত সিল নেই।

বদরুন্নেসা কলেজের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী নুরজাহান শাহনাজ বসুন্ধরায় এসেছেন প্রসাধনী কিনতে। তিনি জানান, ‘আসলে কেনার সময় কোনো রকম সিল না দেখেই কিনে ফেলি। এখন বুঝতে পারছি এতে করে অনেক সময় ঠকেও যাচ্ছি। তবে ভবিষ্যতে  সচেতন থাকব’।

এআর