অবকাঠামো উন্নয়নে সিমেন্টের কাঁচামালে শুল্ক কমানোর প্রস্তাব

  • তপু রায়হান
  • April 22, 2014
  • Comments Off on অবকাঠামো উন্নয়নে সিমেন্টের কাঁচামালে শুল্ক কমানোর প্রস্তাব

cement-rawদেশের অবকাঠামো উন্নয়নের প্রধান উপাদান সিমেন্টের কাঁচামালে আমদানিতে শুল্ক কমানোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশে সিমেন্ট উৎপাদনকারকদের বাংলাদেশ প্রস্তুতকারক সমিতি। সেই সাথে বিক্রয় ও উৎপাদন উভয় পর্যায়ে ভ্যাট নির্ধারণের পরিবর্তে যে কোন এক পর্যায়ে নির্ধারণসহ বেশ কয়েকটি দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলন কক্ষে প্রাক-বাজেট আলোচনায় এ দাবি জানায় সংগঠনটি। ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের লক্ষে এনবিআর বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন ও এসোসিয়েশনের সাথে এ আলোচনা করছে।

এনবিআর চেয়ারম্যান গোলাম হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনা অনুষ্ঠানে এনবিআরের বিভিন্ন বিভাগের সদস্য, কর্মকর্তা ও নির্মাণ শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট ২৩টি সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনায় বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারিং এসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা জানান, নানাবিধ প্রতিকূলতার মধ্যে দেশের সিমেন্ট শিল্প বর্তমানে মজবুত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েছে। দেশের চাহিদা মিটিয়ে বাংলাদেশের সিমেন্ট এখন বিশ্বের অনেক দেশে রপ্তানি হচ্ছে। কিন্তু এ শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক অনেক বেশি হওয়ায় বিপাকে পড়েছে এ শিল্পের সাথে সংশিষ্ট কোটি কোটি মানুষ। এ শিল্পের সাথে জড়িত রয়েছে দেশের রড, ইট, পাথর, বালি, পিভিসি, ইউ পিভিসি, জি আই পাইপ, রং ও সিরামিকসহ অনেক শিল্প। তাই এ শিল্পের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক নির্ধারণ করা হলে ক্ষতিগ্রস্থ হবে দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন।

বৃহৎ জনগোষ্ঠীর এ দেশের কৃষি জমি রক্ষায় ভবন নির্মানের বিকল্প নেই উল্লেখ করে তারা জানান, ভবন নির্মাণের মূল উপকরণ সিমেন্টের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক কমানো না হলে অধিক মূল্যে ক্রয় করে ভবন নির্মাণ অধিকাংশ মানুষের পক্ষে সম্ভব হবে না।  তাই সিমেন্টের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক পূন:নির্ধারণের দাবি জানান। এক্ষেত্রে ক্লিংকারে আমদানি শুল্ক প্রতি মেট্রিক টনে ৫০০ টাকার পরিবর্তে ২০০ টাকা, ফ্ল্যাইএশের ওপর আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশ ও অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহার ও স্ল্যাগ,জিপসাম এবং লা্ইমস্টোনের ওপর অগ্রিম আয়কর ৫ শতাংশ প্রত্যাহার করে শুন্য শতাংশ করার দাবি জানান।

আলোচনায় বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচার এসোসিয়েশনের নির্বাহী সদস্য শহিদুল্লাহ জানান,  দেশের নির্মাণ শিল্পের সাথে জড়িত অন্যান্য খাতের কাঁচামাল আমদানিতে কনো ভ্যট দিতে হয় না। কিন্তু সিমেন্ট শিল্প কয়েকটি বড় শিল্পের মুল উপাদান হওয়ার পরও এর বিভিন্ন কাঁচমালে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট দিতে হয়। এছাড়া উৎপাদনের পর ভিত্তি মূল্যের বাইরে ভ্যাট অথরিটি কর্তৃক ইচ্ছাধীন মূল্য সংযোজন নির্ধারণের কারণে ক্ষতিগ্রন্থ হচ্ছে এর সাথে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান।

ট্যাক্স অফিস কর্তৃক জিপি নির্ধারনের বিরোধীতা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে তীব্র প্রতিযোগিতামূলক বাজারে সিমেন্টের দাম প্রায়শ:ই উঠা-নামা করে। তাছাড়া এর কাঁচামালের প্রায় ৯০ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। আর এ কাঁচামালের দামও আন্তর্জাতিক বাজারে কম বেশি হয়।  আবার বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারও পরিবর্তন হয়। তাই কর অফিস কর্তৃক মোট লাভের পরিমান নির্ধারণ করে কর আদায়ের ফলে বিপদে পড়ে এ শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে। তাই লাভের পরিমান নির্ধারণ না করে ব্যবসায়ীরা যে লাভ করে তার ওপর কর নির্ধারণ দরকার।

ইলেট্রিসিটি বিলের ওপর ভিত্তি করে উৎপাদন হিসেব না করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার ইলেট্রিসিটি বিলের ওপর ভিত্তি করে উৎপাদন হিসেব করে এর কর ও শুল্ক নির্ধারণ করে থাকে। কিন্তু সিমেন্টে/ ফাইননেস পরিবর্তন করতে হয় বিধায় ইলেট্রিসিটি খরচের সাথে উৎপাদন খরচের তারতম্য ঘটে। ফলে ইলেট্রিসিটির দামের সাথে কাঁচামাল প্রস্তুত করতে খরচের তারতম্য হলে বেশি হলে ক্ষতিগ্রন্থ হয় ব্যবসায়ীরা। তাই শুধু লাভের ওপর কর নির্ধারণ করা দরকার।

এছাড়াও ইচ্ছামাফিক অবচয় হার নির্ধারণ, বন্দরে নৌ চলাচলের নীতিমালা প্রণয়ন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের অহেতুক হয়রানি বন্ধের দাবি জানান তিনি।