শ্রমিকদের বাকি টাকা কোথায় প্রশ্ন নজরুল ইসলামের

নজরুল ইসলাম

নজরুল ইসলামরানাপ্লাজায় নিহত-আহতেদের জন্য গঠিত ফান্ডে এই পর্যন্ত ১২০ কোটি টাকার বেশি জমা হয়েছে। অথচ মাত্র ৫ ভাগের ১ ভাগ টাকা ক্ষতিগ্রস্থদেরকে দেওয়া হয়েছে। আর বাকি টাকা কোথায়? এমন প্রশ্ন রাখলেন ইন্ডাস্ট্রি অল বাংলাদেশের সভাপতি ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

সোমবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে রানা ‘প্লাজা ট্রাজেডির এক বছর পূর্তি উপলক্ষে নিহত পরিবার ও হতাহতদের  যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিতে ইন্ডাস্ট্রিয়াল বাংলাদেশ কাউন্সিল আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে এমন প্রশ্ন রাখেন তিনি।

নজরুল ইসলাম বলেন, ফান্ডে তো টাকা প্রচুর জমা হয়েছে। কিন্তু শ্রমিকদের দেওয়া হচ্ছে না কেন? এসব টাকা কোথায় আছে? শ্রমিকদের তা জানাতে হবে।

তিনি বলেন, আর কোনো রানাপ্লাজা নয়, আর কোনো তাজরীন ফ্যাশন কিংবা স্প্যাকটার্ম নয়। শ্রমিকরা নিরাপত্তা চায়, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এই লক্ষ্যে তাদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।

শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ ফান্ডে শুধু বায়ার নয় সরকার বিজিএমইএ ও কারখানা মালিকদেরকেও টাকা দিতে হবে। অন্যথায় বিদেশিদের কাছে বাংলাদেশ প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রেসক্লাবের সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ বলেন, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে দ্বিতীয় স্থান অধিকারী পোশাকশিল্পের শ্রমিকরা বিভিন্নভাবে নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হচ্ছে।রানা প্লাজাসহ বড় বড় দুর্ঘটনার স্মৃতিগুলো আমরা আজ ভুলতে বসেছি। তাই শ্রমিকরা তাদের ক্ষতিপূরণ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

রাজনৈতিক দলগুলোকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, এমন কি একটা ঐক্যমতে পৌঁছানো যায় না? যে ঐক্যমতে পৌঁছে সবার অংশগ্রহণে একটি গ্রহণ যোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে কার্যকরি একটা সংসদ গঠন করা হবে। যে সংসদের মাধ্যমে জাতীয় স্বার্থে সবাই এক সাথে কাজ করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

রাজনৈতিক নেতারা রানা প্লাজা, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পোশাক শিল্প সমস্যা নিয়ে কথা বলে না। জাতীয় স্বার্থে এসব বিষয়ে আলোচনা করা দরকার এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, যে শ্রমিকদের শ্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে তাদের আমরা যথাযথ সম্মান বা নিরাপত্তা দিতে পারি না। এ সময় জাতীয় স্বার্থকে জাতীয় ঐক্যমতের ভিত্তিতে গুরুত্ব দিয়ে শ্রমিকদের নিরাপত্তাকে রাজনৈতিক এজেন্ডার প্রথম সারিতে আনারও আহ্বান জানান তিনি।

সংঘঠনের সভাপতি নজরুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে গোল টেবিল বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন অ্যাকর্ড বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক রব ওয়েজ, সংগঠনের মহাসচিব বাবু রায় রমেশ চন্দ্র, শ্রমিক নেতা কামরুল আনাম, শ্রমিক নেত্রী নাজমা আকতার প্রমুখ।

জেইউ/সাকি