পাদুকা ও হাওয়াই চপ্পলে ১২০ টাকা পর্যন্ত ভ্যাট অব্যাহতির দাবি

  • তপু রায়হান
  • April 21, 2014
  • Comments Off on পাদুকা ও হাওয়াই চপ্পলে ১২০ টাকা পর্যন্ত ভ্যাট অব্যাহতির দাবি

padukaপ্লাস্টিকের পাদুকা ও রাবারের হাওয়াই চপ্পলের ওপর ১২০ টাকা পর্যন্ত মূল্য সংযোজন কর (মূসক বা ভ্যাট) প্রত্যাহার অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পাদুকা প্রস্তুতকারক সমিতি। একই সাথে শিল্পটির ক্ষুদ্র কারখানাগুলোকে এগিয়ে নিতে রি-সাইক্লিং পণ্যের ওপরও  মূসক প্রত্যাহার চায় সংগঠনটি।

সোমবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলন কক্ষে প্রাক-বাজেট আলোচনায় এ দাবি জানান সংগঠনটির নেতারা। এনবিআর ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন সংগঠনের সাথে এই প্রাক-বাজেট আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

এনবিআরের শুল্কনীতির সদস্য ফরিদ আহমদের সভাপতিত্বে প্রাক-বাজেট আলোচনায় ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট ৪৪টি সংগঠন অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও ১০টি সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এসময় এনবিআরের অন্যান্য সদস্য ও সংঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনায় বাংলাদেশ পাদুকা সমিতির প্রতিনিধিরা জানান, প্লাস্টিকের তৈরি পাদুকা চো সোল (জুতা স্যান্ডেল ও স্যান্ডেলের তলা) দেশের পাদুকা শিল্প বিকাশে ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা পালন করছে। স্বল্পমূল্যে তৈরি হওয়া জুতার স্যান্ডেল ও সোল দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে অধিক সমাদৃত।

বাংলাদেশ পাদুকা প্রস্তুতকারক সমিতির সভাপতি হাজী শাহীন খান বলেন, প্লাস্টিকের তৈরি জুতা স্যান্ডেল ও জুতার তলা বেশিরভাগই ছোট কারখানা  থেকে তৈরি হয়। দেশের সিংহভাগ দরিদ্র জনগোষ্ঠী তথা শ্রমিক রিক্সাওয়ালা,ঠেলাগাড়ীওয়ালা, কৃষকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ এই জুতা ব্যবহার করে।  তাই এ জুতাকে মূসকের আওতামুক্ত রাখা দরকার।

এ সময় তিনি আরও বলেন, প্লাস্টিকের তৈরি পুরাতন জুতা সংগ্রহ করে রিসাইক্লিংয়ের মাধ্যমে আবার নতুন জুতা প্রস্তুত করা হয়। আর এই পুরাতন জুতা বিভিন্ন নিত্যপণ্যের বিনিময়ে সংগ্রহ করা হয়। এভাবে আবার নতুন জুতা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সংগ্রহ করা হয়। তবে এই খাতে নিয়োজিত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সেই অনুযায়ী সরকারি কোনো সহযোগিতা পায় না। তাই রিসাইক্লিং শিল্পের স্বার্থে মূসক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার জরুরি।

আলোচনায় পাদুকা শিল্পকে এগিয়ে নিতে কয়েকটি প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয় পাদুকা প্রস্তুতকারক সমিতির পক্ষ থেকে। এরমধ্যে আয়কর ট্রাইবুনালকে আইন মন্ত্রণালয়ের অধিনে হস্তান্তর, স্বনির্ধারণী পদ্ধতিতে দাখিলকৃত রিটার্ন অডিট না করা, একই পদ্ধতিতে প্রদর্শিত মূলধন পাঁচ বছর পর্যন্ত হস্তান্তর না করার বিধান রহিত করা অন্যতম।

এছাড়া আয়কর মামলা মূল্যয়ন করার সময় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে মোট লাভ ১০ শতাংশ ও পাইকারি বিক্রেতাকে ৫ শতাংশ ধরার প্রস্তাব করেন তারা। যা বর্তমানে প্রতিষ্ঠানের জন্য ৩০ শতাংশ ও পাইকারি বিক্রেতার জন্য ১০ থেকে ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করা আছে।