ঢাবিতে সাদাদলের শিক্ষককে বাধ্যতামূলক অব্যাহতি

DU

DUঅন্যায় করেও পার পেয়ে গেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষক। অন্য দিকে অন্যায় না করে শুধুমাত্র অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদাদলের প্রভাবশালী এক শিক্ষককে বাধ্যতামূলক অব্যাহতি দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বিভাগের চেয়ারম্যানের সাথে অসদাচরণ করার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে অব্যাহতি দিয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে বিষয়টিকে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের একটি চক্রান্ত বলে মনে করছেন সাদাদলের একাধিক শিক্ষক। তারা বলেছেন, শুধুমাত্র রাজনৈতিক কারণে ওই শিক্ষককে হয়রানি করা হচ্ছে।

জানা গেছে, সাদাদলের ওই শিক্ষকের নাম অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবাইদুল ইসলাম। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এবং সাদাদলের প্রভাবশালী একজন শিক্ষক।

অভিযুক্ত ওই শিক্ষক এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি ও রাসায়নিক দ্রব্য ক্রয়ের বিভাগীয় সি অ্যান্ড ডি কমিটি রয়েছে। যার আহ্বায়ক ড. খন্দকার সাদাত হোসেন এবং ওবাইদুল ইসলাম, ড. ওয়াহেদুজ্জামান ও ড. নাঈমুল ইসলাম সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

সম্প্রতি বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি ও রাসায়নিক দ্রব্য ক্রয়ের জন্য ক্রয় কমিটির সর্বসম্মতিক্রমে ১৭ লাখ ৬ হাজার ৪৩৯ টাকার একটি বিল পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আজিজুর রহমানের নিকট প্রেরণ করে।

কিন্তু চেয়ারম্যান নিয়ম বহিঃর্ভূতভাবে পরবর্তী  পদক্ষেপ গ্রহণ না করেই নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী যন্ত্রপাতিগুলো ক্রয় করার সিদ্ধান্ত নেন। বিষয়টি জানতে পেরে ক্রয় কমিটি চেয়ারম্যানের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান এবং তার সাথে দেখা করতে যান। এ সময় ওবায়দুল ইসলামও ছিলেন।

এ সময় ওবায়দুল ইসলাম চেয়ারম্যানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “স্যার, আর্থিক নিয়ম অনুযায়ী কোন জিনিস কিনতে হলে ক্রয় কমিটির সুপারিশ নিয়ে কিনতে হয়। কোন আইটেম বা পুরো সুপারিশ পছন্দ না হলে আপনি কমিটির আহবায়ককে নিয়ে বসতে পারতেন, অথবা পুরো কমিটির সাথেই বসতে পারতেন।

তাতেও আপনি সন্তোষজনক সমাধান না পেলে বিষয়টি আপনি সি অ্যান্ড ডি তে নিয়ে আসতে পারতেন। কিন্তু আপনি যা করেছেন সেটা আর্থিক অনিয়ম । আপনি কার স্বার্থে এই অনিয়ম করবেন? আপনি তিন মাস পর এল পি আর- এ যাবেন, বিভাগে এই অনিয়ম করা ঠিক হবে না স্যার। এই নিয়ম কর ফাইন্যান্স রুলস ভায়োলেশন এর দায়ে আপনি অভিযুক্ত হতে পারেন।”

এ কথা শোনার সাথে সাথে চেয়ারম্যান তার সিট থেকে উঠে দাঁড়িয়ে ড. ওবায়দুল ইসলামকে উচ্চ আওয়াজে শাসাতে থাকেন এবং নেতা হয়ে গেছ? আমাকে নিয়ম শিখাচ্ছ এ ধরণের বকাঝকা করেন চেয়ারম্যান।

পরবর্তীতে চেয়ারম্যান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও শিক্ষক সমিতির নিকট ওবায়দুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র পাঠান। এই অভিযোগপত্রের ভিত্তিতে কোন রকম তদন্ত ছাড়াই সোমবার রাতে সিন্ডিকেট মিটিংয়ে বাধ্যতামূলক ছুটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয় বলে জানান ড. ওবায়দুল ইসলাম।

এদিকে এ ঘটনাকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের পাঁয়তারা বলে মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদাদলের শিক্ষকরা। তারা বলেছেন, সামনে ডিন এবং সিন্ডিকেট নির্বাচন। এ সময় সাদাদলের শিক্ষকদের ভাঙন এবং শক্তিকে নস্যাৎ করে দেওয়ার জন্য এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সাদাদলের অন্যতম শিক্ষক অধ্যাপক তাজমেরী এস এ ইসলাম বলেন, এটা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রণোদিত। এমন কোন ঘটনা ঘটেনি যে কারণে বাধ্যতামূলক অব্যাহতি দিতে হবে। সামনে বিভিন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এমনটা করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

সাদাদলের অন্যতম শিক্ষক অধ্যাপক আ ফ ম ইউসুফ হায়দার বলেন, দোষ করবে একজন আর শাস্তি পাবে আরেকজন। এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে নজীরবিহীন ঘটনা। শুধুমাত্র রাজনৈতিক কারণ বলেই এটা সম্ভব।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের  চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আজিজুর রহমান বলেন, সাংবাদিক হলেই যখন তখন ফোন দিতে হয়? ড. ওবায়দুল ইসলাম সম্পর্কে আমার কোন বক্তব্য নেই।

এএইচ/সাকি