ভোলায় ১০ মাসেও চালু হয়নি রেন্টাল বিদ্যুৎ প্লান্ট

বিদ্যুৎ

বিদ্যুৎগ্যাস ভিত্তিক ৩৪.৫ মেঘাওয়াট রেন্টাল বিদ্যুৎ প্লান্ট বিকল হওয়ার প্রায় ১০ মাস পরও চালু হয়নি। সর্বশেষ প্লান্টের পরিচালক টেকনিক্যাল নাদিরুজ্জামান গত ১৫ এপ্রিল ২৪ মেগাওয়াটের নতুন অপর একটি প্লান্ট চালুর কথা বললেও তা চালু করতে পারেননি।

এ ব্যাপারে কবে নাগাদ তারা প্লান্টটি চালু করতে পারবেন তা জানতে চাইলে পরিচালক সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তবে প্লান্ট ম্যানেজার হাফিজুর রহমান বলেন, যে কোন সময় নতুন প্লান্টটি চালু করা হবে।

এদিকে বিদ্যুতের অভাবে দেশের বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ভোলার মানুষ চরম দুভোর্গে দিন পার করছে। বিদ্যুৎ না থাকায় সেচপাম্প চলছে না। পানির অভাবে শতশত একর বোরো ধান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এলাকার ক্ষুদ্র শিল্পকল কারখানা গুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম। প্রচণ্ড গরমে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস ওঠছে। কিন্তু  ভেনচার এনার্জি রিসোর্স কোম্পানি বারবার তারিখ দিয়ে বিদ্যুৎ প্লান্ট সচল করতে না পারায় সাধারণ মানুষ ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছে।

ভোলা খেয়াঘাটের কাছে প্রায় ৭ বছর আগে ভেনচার এনার্জি রিসোর্স কোম্পানি গ্যাস ভিত্তিক ৩৪.৫ মেঘাওয়াট বিদ্যুৎ প্লান্ট চালু করে। চালুর পর থেকে ভোলার  চাহিদা মিটিয়ে জাতীয় গ্রীডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। কিন্তু যান্ত্রিক ক্রটির কারণে প্রায় বিকল হয়ে গেছে প্লান্টটি। সর্বশেষ  গত বছরের ১০ জুলাই বিদ্যুৎ প্লান্টটি বিকল হয়ে গেলে জেলার ৬টি উপজেলা টানা ৪/৫ দিন বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়ে। পাওয়ার প্লান্ট কতৃপক্ষ দ্রুত বিকল ইঞ্জিন চালুর কথা বললেও তা আজো চালু করতে পারেনি। ভোলা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ ভোলা ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিষ্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) বরিশাল ও পটুয়াখালী থেকে জাতীয় গ্রীড থেকে প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বিদ্যুৎ দিয়ে লোড শেডিং করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আসছে। কিন্তু বর্তমানে শুষ্ক মৌসুমের চাহিদার অর্ধেক বিদ্যুৎ না থাকায় চরম বিপাকে রয়েছে ভোলাবাসী।

ভোলায় এখন  ২৮ মেঘাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও জাতীয় গ্রীড থেকে পাওয়া যাচ্ছে ১৫ থেকে ২০ মেঘাওয়াট বিদ্যুৎ। ভোলা সদরে হাসপাতালসহ গুরুত্বপূরর্ণ এলাকায় লোডশেডিং করে বিদ্যুৎ দেওয়া হলেও  দিনে  ও রাতে ৭/৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না উপজেলাগুলোতে। আবার লোডশেডিং করে যে বিদ্যুৎ দেওয়া হয় তার ভোল্টেজ একেবারেই কম।

বিদ্যুৎ না থাকায় বোরো ধানের সেচ বন্ধ হয়ে পড়ায় শত শত একর জমির ফসল কাঠ ফাঁটা রোদে পুড়ে জ্বলে গেছে। কৃষকরা ফসলের ক্ষেতে পানি না পাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে। ঋণ নিয়ে যারা আবাদ করেছে তারা এখন সবচাইতে বিপাকে পড়েছে। ক্ষুদ্ধ কলকারখানার শ্রমিকরা বিদ্যুৎ না থাকায় অলস বসে থাকে।

এদিকে রেন্টাল প্লান্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে এখানে আরও ২৪ মেঘাওয়াট নতুন একটি বিদ্যুৎ প্লান্ট বসানো হয়েছে। পুরাতন ৩৪.৫ মেঘাওয়াট প্লান্টটি ও নতুন প্লান্টের একটি ইউনিট অন্তত এ মাসের চালু করবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ২০ এপ্রিল পর্যন্ত তা চালু হয়নি।

অপর দিকে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে ভোলার বোরহানউদ্দিনে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে গ্যাসভিত্তিক ২২৫ মেঘাওয়াট প্লাস মাইনাস ১৫ শতাংশ কমবাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ প্লান্ট স্থাপনের কাজ চায়না চাংদা ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পনি গত জুন মাসে শুরু করেছে। আগামি নভেম্বর মাসে এ প্লান্টের উদ্ধোধন করার কথা থাকলেও বরিশাল সাব স্টেশনের কাজ এখনো শুরু না হওয়ায় যথা সময়ে প্লান্ট চালু হবে কি না তা নিয়ে শংসয় রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

পিএম/সাকি