ডিএসইর আশায় ছাই

ডিএসই

ডিএসইঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) টি প্লাস টু লেনদেন নিষ্পত্তি পদ্ধতির যাত্রা শুভ হয় না। পূরণ হয়নি ডিএসই কর্তৃপক্ষের আশা। নতুন পদ্ধতি চালু হলে লেনদেন বাড়বে এমন আশা করা হলেও ঘটেছে উল্টো। পদ্ধতিটি চালুর পর প্রথম তিনদিনের প্রতিদিনই ডিএসইতে লেনদেন কমেছে। স্টক এক্সচেঞ্জটির সদস্যদের (ট্রেকহোল্ডার) আশায় পড়েছে ছাই।

গত ১৬ এপ্রিল বুধবার ডিএসইতে টি প্লাস টু চালু হয়। আর সেদিন থেকেই ধারাবাহিকভাবে কমছে এ স্টক এক্সচেঞ্জের লেনদেন। মঙ্গলবার ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৫৪৭ কোটি ১৪ লাখ টাকা। পরদিন টি প্লাস টু পদ্ধতির যাত্রা শুরুর দিনে লেনদেনের পরিমাণ কমে হয় ৫৩০ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। পরদিন অর্থাৎ লেদেনের পরিমাণ আরও কমে পাঁচশ কোটি টাকার নিচে নেমে আসে। এদিন ডিএসইতে ৪৪৪ কোটি ৮ লাখ টাকা মূল্যের শেয়ার কেনা-বেচা হয়। রোববার লেনদেন নেমে আসে তিনশ কোটি টাকার ঘরে। এদিন দেশের প্রধান এ স্টক এক্সচেঞ্জে ৩৯৯ কোটি ১৫ লাখ টাকা মূল্যের শেয়ার কেনা-বেচা হয়। গত তিন দিনে ডিএসইতে লেনদেন কমেছে যথাক্রমে ১৬ কোটি ৬১ লাখ টাকা, ৮৫ কোটি ৭৩ লাখ ও ৪৫ কোটি ৬৫ লাখ টাকা বা ৩ দশমিক ০৩ শতাংশ, ১৬ দশমিক ১৫ শতাংশ ও ১০ দশমিক ২৭ শতাংশ।

উল্লেখ, ২০১০ সালে পুঁজিবাজারে ভয়াবহ ধসের পর লেনদেন অনেক কমে গেলে কৃত্রিমভাবে তা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয় দুই স্টক এক্সচেঞ্জের কর্তৃপক্ষ। ডিএসই ও সিএসইর আবেদনের প্রেক্ষিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা দুই বছর আগে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) টি প্লাস টু চালুর অনুমতি দেয়। এর প্রেক্ষিতে গত বছরের ৩ নভেম্বর চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) এই পদ্ধতি চালু  করে।

স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষের আশা ছিল, লেনদেন নিষ্পত্তিতে টি প্লাস থ্রি’র পরিবর্তে টি প্লাস টু চালু করলে বাজারে লেনদেন বাড়বে। এতে একদিকে বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে, অন্যদিকে ব্রোকারহাউজগুলোর বাড়বে কমিশনজনিত আয়।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, পড়তি বাজারে লেনদেন নিষ্পত্তির সময়সীমা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের তেমন আগ্রহ বা মাথা ব্যাথা নেই। অন্যদিকে বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে এ পদ্ধতি চালুর কথা বলা হলেও স্টক এক্সচেঞ্জের প্রকৃত উদ্দেশ্য বিনিয়োগকারীদের কাছে পরিষ্কার হয়ে যেতে সময় লাগেনি। এতে তারা নতুন পদ্ধতির প্রতি আরও অনাগ্রহী হয়ে উঠে। তাই লেনদেনে নতুন পদ্ধতির সুস্পষ্ট কোনো প্রভাব দেখা যায় নি। তবে আগামি রোববার এর প্রভাব পড়তেও পারে। কারণ আজ যে শেয়ার কেনা-বেচা হয়েছে,  আগামি রোববার তার নিষ্পত্তি হবে। আগের নিয়ম চালু থাকলে সোমবারে এ লেনদেনের নিষ্পত্তি হত। মঙ্গলবার পর্যন্ত যেসব শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে তার নিষ্পত্তি আগের নিয়মেই হবে। এ হিসেবে মঙ্গলবারের শেয়ার লেনদেনেরও নিষ্পত্তি হবে আগামি রোববার। এতে দুই দিনের শেয়ার বা টাকা একদিনে বিনিয়োগকারীর হাতে চলে আসবে। ফলে সেদিন লেনদেন বাড়তেও পারে।

উল্লেখ, মঙ্গলবার পর্যন্ত ডিএসইতে এ, বি ও এন ক্যাটাগরির কোম্পানির শেয়ার লেনদেনের নিষ্পত্তি হয়েছে টি প্লাস থ্রি সাইকেলে। এ পদ্ধতিতে শেয়ার কেনার চতুর্থ দিনে গ্রাহক তার হিসাবে শেয়ার বুঝে পান। সেদিনই ওই শেয়ার বিক্রির উপযোগী হয়। বিনিয়োগকারী চাইলেই তা বিক্রি করতে পারেন। অন্যদিকে শেয়ার বিক্রির বেলায় চতুর্থ দিনে টাকা বুঝে পান বিনিয়োগকারী। টি প্লাস টু চালু হওয়ায় লেনদেন নিষ্পত্তির সময় একদিন কমে আসবে। ফলে চতুর্থ দিনের পরিবর্তে তৃতীয় দিনে শেয়ার বা টাকা বুঝে পাওয়া যাবে।