‘শেয়ার্ড বিল্ডিং থেকে ক্রেতাদের কাজ সরিয়ে নেওয়া অমানবিক’

BGMEA Press Con 3শেয়ার্ড বিল্ডিং (একই ভবনে একাধিক কারখানা) থেকে বিদেশি ক্রেতাদের কাজ সরিয়ে নেওয়াকে অমানবিক বলে মন্তব্য করেছেন বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম। সেই সঙ্গে রানা প্লাজায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের পাশে থেকে সহযোগিতার হাত বাড়াতে ক্রেতাদের প্রতি আবারো আহ্বান জানান তিনি।

শনিবার দুপুরে বিজিএমইএ মিলনায়তনে রানা প্লাজার এক বছর পূর্তি উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।

অনুষ্ঠানে শ্রম সচিব মিকাইল শিপার, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, বিকেএমইএর সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বিজিএমইএর সহ-সভাপতি শহীদুল্লাহ আজীম, এসএম মান্নান কচিসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে আতিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা শ্রমিকদের কল্যাণে নানা কিছু করলেও ক্রেতারা পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি করছে না। পোশাক শিল্পে গত আট বছরে ৩৮টি ট্রেড ইউনিয়ন গঠিত হয়েছিল। আর চলতি বছরে  ১৫০টি ইউনিয়ন হয়েছে। ক্রেতারা এই কাজগুলো দেখছেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি ক্রেতাদের উদ্দেশে বলেন, শুধু মুখে অনুভূতি প্রকাশ করে নয়, কার্যকরভাবে শ্রমিকদের জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। রানা প্লাজার ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের জন্য তহবিল গঠন করতে ক্রেতাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রায় ৩০ শতাংশ কারখানা শেয়ার্ড বিল্ডিংয়ে অবস্থিত। যেখানে ১৫ লাখ শ্রমিক কাজ করছে। শ্রমিকদের স্বার্থে ক্রেতাদের এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করা যৌক্তিক হবে না বলে মনে করেন তিনি।

তিনি ক্রেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘গত ২০ বছর ধরে যদি ক্রেতারা এই শিল্পের সঙ্গে কাজ করে আসছেন। এখন শুধু শেয়ার্ড বিল্ডিংয়ে কাজ করার করার জন্য সে কারখানা বন্ধ করবেন না’। তিনি বলেন, গত ৪ বছরে পোশাক শ্রমিকদের বেতন বেড়েছে ২১৯ শতাংশ। গ্যাস বিদ্যুৎসহ অন্যান্য খরচ বেড়েছে ৩৫ শতাংশ। এই হিসেবে উৎপাদন খরচ বেড়েছে ১৮ শতাংশ। এছাড়া ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাকের দাম কমেছে পাঁচ শতাংশ। এই অবস্থায় শেয়ার্ড বিল্ডিংয়ে অর্ডার বাতিল না করে পোশাকের দাম বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে শ্রম সচিব মিকাইল শিপার বলেন, রানা প্লাজা ধসের পরে শ্রম আইন সংশোধন, মজুরি বৃদ্ধি, পরিদর্শন বিভাগে উন্নতি ও জনবল বৃদ্ধি করা হয়েছে। তাছাড়া ৬ মাসের মাথায় প্রধান পরিদর্শক নিয়োগ করা হয়েছে যা সরকারের বড় অর্জন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

২৪ এপ্রিল রানা প্লাজায় ধসে নিহতদের স্মরণে প্রতিটি কারখানায় কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে। বিজিএমইএ ভবনের সামনে পোশাক শিল্প সংশ্লিষ্ট সকল সংগঠন ও মালিকদের নিয়ে শোক র‌্যালি করা হবে। তাছাড়া নিহতদের স্মরণে দোয়া ও মোনাজাত করা হবে।

প্রসঙ্গত, রানা প্লাজার ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য এখন পর্যন্ত ১৪ কোটি ৫০ লাখ ৮ হাজার টাকা অর্থায়ন করা হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে, চিকিৎসা বাবদ ৩ কোটি ৯০ লাখ, বেতন-ভাতা বাবদ ৭ কোটি ৬০ লাখ, প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে ২ কোটি, প্রসূতি মায়ের জন্য ৪ লাখ ২০ হাজার, পুনর্বাসন বাবদ ৯৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা অর্থায়ন হয়েছে।