‘দ্যাশে পানি নাই তাই মাছের দাম বেশি’

deshi masiরাজধানীর বাজারে বেড়েছে দেশি মাছের দাম। গেল দুই সপ্তাহের ব্যবধানে বিভিন্ন প্রকার দেশি মাছের দাম কেজিপ্রতি বেড়েছে ৫০ থেকে ১৫০ টাকা।  বিক্রেতারা বলছেন, শুকনো মৌসুমে দেশি মাছের চালান কম। দেশি মাছের উৎসগুলো অনেকটাই পানিশুন্য। ফলে গরমের মৌসুমে আগের মতো আর মাছ পাওয়া যায় না। আর যেসব নদী কিংবা জলাশয় থেকে দেশি মাছ আসে  তা চাহিদার তুলনায় অনেক কম।ফলে বিক্রেতাদেরও কিনতে হয় বেশি দামে। আর এ কারণেই এই মাছগুলোর স্বাদ নিতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা।

শান্তিনগরের দেশি মাছ বিক্রেতা চান মিয়া মাছ আনেন কিশোরগঞ্জের ভৈরব থেকে। তিনি অর্থসূচকে জানান, গত মাস থেকে দেশি মাছের সরবরাহ কমতে শুরু করে। তবে গত দুই সপ্তাহে দেশি মাছের চালান আশঙ্কাজনক ভাবে কমেছে। যে পরিমাণ মাছ তিনি ভৈরব থেকে আনতেন এখন তার অর্ধেকও আনতে পারেন না। তাছাড়া  এখন  একটু  বেশি দামে কিনতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।

অন্যান্য দেশি মাছ বিক্রেতারা বলছেন, মূলত ঢাকা শহরের আশপাশের জেলা থেকে রাজধানীতে দেশি মাছের সরবরাহ হয়ে থাকে। শুকনো মৌসুমে মাছের অধিকাংশ উৎসে পানি না থাকায় চালান কমেছে। তাছাড়া  মেঘনা  নদীতে  এই  সময়টাতে ছোট মাছ কম পাচ্ছেন জেলেরা।  আর ঢাকার আশপাশের উৎস থেকে দেশি মাছ কম আসায় দর বেড়েছে বলে জানান তারা।

ফরিদপুরের পুকুরিয়ার বাজারের আবু নাসের নামের এক মাছ ব্যবসায়ীর সাথে কথা বলে জানা যায়, মাছের পাইকারি ওই বাজারটিতে  গেল এক মাসে মাছের দাম বেড়েছে।

নাসের জানান, ভাঙ্গা, নগরকান্দা ও সদপুরসহ ফরিদপুর জেলার খালবিল শুকিয়ে যাওয়ায় সেখান থেকে আর মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। এক সময়ে মাছধরাকেই পেশা হিসেবে নেওয়া নাসের বলেন, ‘দ্যাশে পানি নাই। মাছ নাই। তাই পেশাই ছাইড়া দিছি। এখন এই কার্প-পাঙ্গাস বেচি।’  pabda

এদিকে শুক্রবার রাজধানীর মালিবাগ, শান্তিনগর, রামপুরা ও ফকিরাপুল বাজারে দেখা গেছে কাজুলি মাছ বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা কেজি দরে। পাবদা ৮০০ টাকা, গুলসা টেংরা ৫০০ টাকা,  মোর্লে মাছ  ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, কাচকি মাছ ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, ফলুই মাছ ৫০০ টাকা, দেশি শিং আকার ভেদে ৫০০ থেকে ৯০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, আইর মাছ ৭০০ টাকা বাইম মাছ ৬০০ টাকা, পুঁটি ৪০০ টাকা, পাঁচমিশালী ৪০০ টাকা , ছোট চিংড়ি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা,  মাঝারি শোলমাছ ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, ভেদা মাছ ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

বিক্রেতারা জানালেন, গেল দুই সপ্তাহ আগেও এই মাছগুলোর দাম এখনকার তুলনায় কেজিতে ১০০ থেকে ৫০ টাকা কম ছিলো।

এদিকে বৈশাখী আমেজ কেটে যাওয়ায় রাজধানীর বাজারে কমেছে ইলিশের দাম। চার দিনের ব্যবধানে এর দাম প্রায় অর্ধেকে নেমেছে। বিক্রেতারা বলছেন, চার দিন আগে যে মাছ আড়াই থেকে ৩ হাজার টাকা বিক্রি করেছি তা আজ ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে দর কমার পাশাপাশি ক্রেতাও কমে গেছে বলে জানান ইলিশ বিক্রেতারা।