দেশীয় স্টিলশিল্প রক্ষায় বিলেট আমদানির ওপর শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব

  • Emad Buppy
  • April 15, 2014
  • Comments Off on দেশীয় স্টিলশিল্প রক্ষায় বিলেট আমদানির ওপর শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব
Shilpo Montronaloi

Shilpo Montronaloi 1দেশীয় বিলেট উৎপাদনকারী স্টিলশিল্প রক্ষার স্বার্থে আমদানি বিলেটের ওপর শুল্ক ২ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার ৫০০ টাকা করার প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ অটো রি-রোলিং অ্যান্ড স্টিল মিলস অ্যাসোসিয়েশন। সেই সঙ্গে এই শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে টনপ্রতি অগ্রীম আয়কর ৮০০ টাকা প্রত্যাহার করার দাবিও জানায় তারা।

মঙ্গলবার দুপুরে শিল্প মন্ত্রণালয়ে সংগঠনটির সভাপতির নেতৃত্বে এক প্রতিনিধি দল সাক্ষাৎ করতে এসে এই দাবি জানান।

সংগঠনটির সভাপতি এসকে মাসুদুল আলম মাসুদ সাংবাদিকদের জানান, দেশীয় শিল্পগুলো বিলেট উৎপাদন করছে। আবার একই সঙ্গে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) দিচ্ছে। শিল্পে ব্যবহৃত গ্যাস ও বিদ্যুতের ওপর সরকার ভ্যাটও নিচ্ছে। অন্যদিকে বিদেশ থেকে এই পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক দিতে হয় মাত্র সাড়ে ৩ হাজার টাকা। এ ক্ষেত্রে আর কোনো মূসক পরিশোধ করতে হয় না।

ফলে স্থানীয় শিল্পকে বাঁচানোসহ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের লক্ষ্যে আমদানি বিলেটের ওপর শুল্ক বাড়ানো দরকার বলে মনে করেন তিনি।

সংগঠনটি তাদের প্রস্তাবে উল্লেখ করে, স্টিল শিল্পের কাঁচামাল ফে’রাস ওয়েস্ট অ্যান্ড স্ক্র্যাপ ও স্পঞ্জ আয়রণ আমদানির ক্ষেত্রে টন প্রতি ৮০০ টাকা অগ্রীম প্রত্যাহারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করার দরকার। এই পরিমাণ আয়কর স্থানীয় শিল্পের জন্য সহায়ক নয়। এই নীতির কারণে উৎপাদন ব্যয় ও পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পায়। এই মূল্য বৃদ্ধির ফলে ভোক্তা সাধারণ পণ্য ক্রয়ে নিরুৎসাহিত হয়। আর এতে করে উদীয়মান শিল্প রুগ্নশিল্পে পরিণত হয়। যা এক পর্যায়ে শিল্পটি বন্ধ হয়ে যায় বলে দাবি করা হয়।

বিলেট উৎপাদনের সহযোগী কাঁচামাল ফেরো ম্যাঙ্গানিজ, ফেরো সিলিকন, ফেরো সিলিকো ম্যাঙ্গানিজ আমদানির ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ মূসক ও ৫ শতাংশ অগ্রীম আয়কর (এআইটি) প্রত্যাহার করা কিংবা টনপ্রতি ৫ হাজার টাকা শুল্ক নির্ধারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তাব করা হয়।

স্থানীয় শিল্পের সুরক্ষার জন্য কোয়াটাজ পাউডার, গ্রাফাইট পাউডার, গ্রাফাইট ইলেকট্রোড আমদানিতে শুল্ক টনপ্রতি ৫০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়। স্টিল মিলের প্রধান কাঁচামাল বিলেট আমদানির ক্ষেত্রে উৎসে মূসক নেওয়া হয় না। তবে স্থানীয় পর্যায়ে সংগ্রহ করা স্টিল মিলের কাঁচামালে উৎসে মূসক লিমিটেড কোম্পানির ক্ষেত্রে প্রদান করতে হয়।

তাই ভারসাম্য আনতে উৎসে মূসক প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। তাছাড়া ন্যূনতম কর দশমিক ৫০ শতাংশ তুলে নেওয়া ও ব্যাংক হতে কার্যকরী মূলধন হিসেবে ইনভয়েজিং ফিন্যান্সের ক্ষেত্রে ধার্য করা ৪ শতাংশ অগ্রীম আয়কর সম্পূর্ণ করা আবশ্যক বলে মনে করে সংগঠনটি।

তবে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু সাংবাদিকদের জানান, “যেহেতু বিষয়গুলো অর্থমন্ত্রণালয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট, তাই তাদের দাবি অর্থমন্ত্রণালয়ে পেশ করা উচিত। তারপর আমরা বিষয়টি বিবেচনায় নিব।”

এসইউএম/এআর