চট্টগ্রামে খাদ্য ঘাটতি ৪ লাখ মেট্রিক টন

Gumai-Bill-Plot
অপরিকল্পিত ভাবে এমন আবাসন ও শিল্পায়নের কারণে কমছে কৃষি জমি। বাড়ছে খাদ্য ঘাটতি।

চট্টগ্রামে খাদ্য ঘাটতি বেড়েছে। জেলায় ২০১১ সালে যেখানে খাদ্য ঘাটতি ছিল ২ লাখ ৯৪ হাজার মেট্রিক টন ২০১৪ সালে তার পরিমান বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ মেট্রিক টনে। উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি ,  কৃষি ভূমিতে ইট ভাটা ও আবাসন নির্মাণ এবং জলবায়ূ পরিবর্তনের কারণে কৃষি উৎপাদন প্রতি বছরই কমে যাওয়ায় খাদ্য ঘাটতি বাড়ছে বলে জানান কৃষিবিদরা।

বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে প্লানিং কমিশন এর আওতাধীন ‘সোশ্যাল সায়েন্স রিসার্চ কাউন্সিল’ এর অর্থায়নে বেসরকারি  সংস্থা ‘সংশপ্তকের করা ৬ টি উপজেলার কৃষিজমি হ্রাস ও খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক গবেষণার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ সব তথ্য জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো. খোশরু মিয়া জানান, প্রতি বছরই চট্টগ্রামের পটিয়া, আনোয়ারা, বাশঁখালি এবং সীতাকুণ্ড এলাকায় কুষি জমি কমছে। জেলায়  ২০১১ সালে চট্টগ্রামে  ৭৩ লাখ মানুষের খাদ্য ঘাটতি ছিল ২ লাখ ৯৪ হাজার মেট্রিক টন । ২০১৩ সাল শেষে ৮০ লাখ মানুষের চাহিদার বিপরীতে ঘাটতি বেড়ে দাঁড়ায় ৪ লাখ মেট্রিক টন।

তিনি জানান, চট্টগ্রামের অধিকাংশ মানুষ ব্যবসা কেন্দ্রিক মানসিকতা থাকায় কৃষি কাজের উপর নজর নেই। তাই এলাকায় কৃষি জমিতে বিভিন্ন শিল্প কারখানা স্থাপণ করা হচ্ছে। এতে করে কৃষি জমি হ্রাস পাওয়ায় বাড়ছে খাদ্য ঘাটতি।

অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তারা কৃষি জমিতে লবণাক্তরার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায়কেও খাদ্য ঘাটতির অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

পরিবেশ ও জলবায়ু গবেষক ম. আবদুর রহমান পরিচালনায় চট্টগ্রামের পটিয়া, কুমিল্লার লাকশাম, বগুড়ার কাহালু, ঝিনাইদহের কালিগঞ্জ, টাঙ্গাইলের ভুয়াপুর এবং পটুয়াখালীর কালাপাড়া উপজেলার কৃষি ভূমির ও এ গবেষণা পরিচালিত হবে।

গবেষক ম. আবদুর রহমান রানা বলেন, দেশের কৃষি ভূমি হ্রাস ও খাদ্য নিরাপত্তার সার্বিক দিক খুঁজেতে ৬ টি উপজেলায় আমর এ গবেষণাটি পরিচালনা করছি। এ গবেষণার মধ্য দিয়ে আমরা দেশে কি হারে কৃষি জমি প্রতি বছর হারাচ্ছে এবং এর সাথে কিভাবে দেশের মানুষ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে তার একটি সার্বিক চিত্র তুলে আনতে পারবো।

তিনি মনে করেন, পরিচালিত এ গবেষণার মাধ্যমে  কৃষি জমি বাঁচানোর একটি যুগোযুগী পরিকল্পনা বের করা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে কৃষি অধিদপ্তর ও মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন কৃষিবিদ ও গবেষক  এবং চট্টগ্রমের বিভিন্ন  কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষির বিষয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।