শিল্প পার্ক স্থাপনসহ রপ্তানিতে নগদ প্রণোদনা চেয়েছে বিপিজিএমইএ

  • তপু রায়হান
  • March 17, 2014
  • Comments Off on শিল্প পার্ক স্থাপনসহ রপ্তানিতে নগদ প্রণোদনা চেয়েছে বিপিজিএমইএ

plastic productদেশের প্লাস্টিক শিল্পকে এগিয়ে নিতে আগামি ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেটে সরকারের কাছে একগুচ্ছ প্রস্তাব রেখেছে বিপিজিএমইএ। শিল্পপার্ক স্থাপন, কাঁচামালের আমদানি শুল্ক হ্রাস ও রপ্তানিতে নগদ প্রণোদনাসহ দাবিগুলো পেশ করেছে সংগঠনটি।

এছাড়া সংগঠনটির পক্ষ থেকে আগামি ১০ বছর প্লাস্টিক সেক্টরকে কর অবকাশ সুবিধার আওতায় আনার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

আর এই দাবি সম্বলিত একটি প্রস্তাবনা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর ) দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিজিএমইএ) সভাপতি জসীম উদ্দিন।

অর্থসূচকের সাথে একান্ত আলাপচারিতায় জসীম জানান, তাদের প্রস্তাবনায় শিল্পপার্ক স্থাপন, রপ্তানিতে নগদ প্রণোদনা প্রদান, দেশীয় খেলনায় ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।

এছাড়া জেনারেটরের খুচরা যন্ত্রাংশের আমদানি শুল্ক হ্রাস, ইউরিয়া রেজিনের আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ করা, আগামি ১০ বছর প্লাস্টিক সেক্টরকে কর অবকাশ সুবিধার আওতায় আনা, রপ্তানি মূল্যের ওপর উৎসে কর বিজিএমইএ’র মতো ৮০ শতাংশের পরিবর্তে ৩০ শতাংশ করা, কর্পোরেট কর কমানোসহ আরও কিছু প্রস্তাব রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

জসীম উদ্দিন দাবি করেন, প্লাস্টিক শিল্প বর্তমানে রপ্তানি আয়ের একটি  উল্লেখযোগ্য খাতে পরিণত হয়েছে। অর্থনৈতিক উন্নয়নে এ খাত আরও ভালো ভূমিকা রাখতে পারবে বলে মনে করেন তিনি। তবে সে জন্য আগামি বাজেটে খাতটির জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখার দাবি করেন তিনি।

তার মতে, এসব দাবি পূরণ হলে এ শিল্পের উৎপাদন দ্বিগুণ হবে এবং রপ্তানি আয়ও বেড়ে যাবে। যা দেশের অর্থনীতির উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করেন তিনি।

এ শিল্প বিকাশের পথ আরও সুগম করতে প্লাস্টিক শিল্পনগরী স্থাপনের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

জসীম উদ্দিন মনে করেন, শিল্পনগরী স্থাপন করা হলে দেশে বেশ কিছু নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিশ্ববাজারে টিকে থাকতে অন্যান্য খাত নগদ ভর্তুকির সুবিধা পেলেও প্লাস্টিক খাত সে সুযোগ পায় না। তাই প্রতিযোগিতার এই বাজারে খাতটিতে ২০ শতাংশ নগদ ভর্তুকির দাবি প্রস্তাবনায় রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে দেশীয় খেলনার ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপিত হওয়ার পর থেকে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। কেননা দেশীয় খেলনা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানসমুহ ক্ষুদ্র। এদের ভ্যাট দেওয়ার ক্ষমতা নেই। তাই এসব প্রতিষ্ঠানকে টিকিয়ে রাখতে ভ্যাট প্রত্যাহার আবশ্যকীয় বলে মনে করছে সংগঠনটি। এজন্য দেশীয় খেলনার ওপর ভ্যাট সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করার প্রস্তাব করেছে বিপিজিএমইএ।

এছাড়া ইউপি ইস্যুর ক্ষমতা বিপিজিএমইএ কে হস্তান্তরের দাবিও প্রস্তাবনায় রাখা হয়েছে বলে জানান বিজিএমইএর আরেক নেতা।

তিনি জানান, প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে রি-সাইক্লিংয়ের মাধ্যমে পুনরায় পণ্য উৎপাদনের ওপর ভ্যাট প্রত্যাহার, পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে ডাম্পিংয়ের মাধ্যমে আসা পণ্যে এন্টি ডাম্পিং ডিউটি আরোপ করার মতো বিষয়েও দাবি প্রস্তাবে রাখা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ৩ মার্চ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের কাছে আসন্ন বাজেট প্রস্তাবনা চায় এনবিআর। একটি অংশগ্রহণমূলক, গণমুখী ও সুষম বাজেট প্রণয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন শিল্প ও বণিক সমিতি, ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন, পেশাজীবী সংগঠন, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও দেশের বুদ্ধিজীবী মহলের কাছে এই বাজেট প্রস্তাবনা আহ্বান করে এনবিআর।

অন্যদিকে, ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজকে (এফবিসিসিআই)  তাদের অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন সংগঠনের সাথে আলোচনা করে সঙ্গতিপূর্ণ সেট বাজেট প্রণয়নের জন্যও চিঠি দিয়েছে এনবিআর। এ সেট বাজেটের আলোকেই এফবিসিসিআই, মেট্রোপলিটন চেম্বার, ঢাকা চেম্বার, ফরেন চেম্বার, ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার, বাংলাদেশ চেম্বারসহ দেশের বিভাগীয় শহরের সব চেম্বার ও বণিক সমিতি, বিভিন্ন স্টক হোল্ডার, বিজিএমইএ, বিকেএমইএসহ সব আমদানি ও রপ্তানিকারক বাণিজ্য সংগঠনের সাথে আলেচনা করবে  এনবিআর।

এইচকেবি/টিআর/এআর