আরও ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত রপ্তানিতে আগ্রহী ভারত

Power_Transmission

Power_Transmissionবাংলাদেশে আরও ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত রপ্তানি করতে আগ্রহী ভারত। বাংলাদেশ চাইলেই এ পরিমাণ বিদ্যুত আমদানি করতে পারবে। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য বিষয়ক যৌথ টাস্কফোর্সের বৈঠকে ভারতের পক্ষ থেকে এ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ভারত থেকে বাংলাদেশ ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুত আমদানি শুরু করে।

এছাড়াও বাংলাদেশকে ১০০ কোটি ডলার প্রকল্প ঋণ দিতে চায় ভারত। এ ঋণের সুদ হার হবে সহনীয়। তবে সব ধরনের প্রকল্পে এ ব্যবহার করা যাবে না। যেসব প্রকল্প বাস্তবায়নে ভারতীয় কোনো প্রতিষ্ঠান কাজ পাবে সেগুলোতেই কেবল এ ঋণের অর্থ ব্যবহার করা যাবে।

দু’দিনব্যাপী যৌথ টাস্কফোর্সের নবম বৈঠক বৃহস্পতিবার শেষ হয়েছে। বৈঠক শেষে ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব অরবিন্দ মেহতা সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব শাহাবুদ্দিন পাটোয়ারী। আর ভারতের পক্ষে নেতৃত্ব দেন অরবিন্দ মেহতা। বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, ট্যারিফ কমিশন, পররাষ্ট্র ও নৌ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন বৈঠকে।

জানা গেছে, বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে মান সনদের শর্ত শিথিলে সম্মত হয়েছে ভারত। দেশটিতে পণ্য রপ্তানি করতে হলে প্রতিটি চালানের পণ্যের মান পরীক্ষা করাতে হয়। এটি অনেক সময়সাপেক্ষ। এছাড়া পরীক্ষা সংক্রান্ত ব্যয়ের কারণে সামগ্রিক রপ্তানি ব্যয়ও বেড়ে যায়। ভারত প্রতিটি চালানের পরিবর্তে কিছু নির্বাচিত চালান পরীক্ষা করার মাধ্যমে রপ্তানির সুযোগ দিতে রাজী হয়েছে। একই জাতীয় পণ্যের প্রথম পাঁচটি চালানের পণ্য বাধ্যতামূলক পরীক্ষা করাতে হবে। তবে ৬ষ্ঠ চালান থেকে আর সেটি লাগবে না।

বৈঠকশেষে অনুষ্ঠিত ব্রিফিংয়ে অরবিন্দ মেহতা বলেন, বিদ্যুত সংকট সমাধানে ভারত তার প্রতিবেশির পাশে থাকতে চায়। বাংলাদেশ চাইলে তার দেশ থেকে আরও ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত আমদানি করতে পারবে।

১০০ কোটি ডলারের ঋণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ চাইলে ভারত থেকে আরও ১০০ কোটি ডলার ঋণ নিতে পারে।

 এ ঋণ দেবে ভারতের একসিম ব্যাংক। সুদের হার দুই দশমিক পাঁচ শতাংশ।’ ভারত থেকে শ্রীলংকাও একই ধরণের ঋণ নিয়েছে বলে জানান তিনি। বাংলাদেশে কোনো প্রকল্পের দরপত্রে অংশ নিয়ে ভারতীয় কোনো কোম্পানি কাজ পেলে ওই ভারতীয় কোম্পানিকে ভারতের এক্সিম ব্যাংক ঋণ দিতে প্রস্তুত।

সভায় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কনটেইনার ট্রেন সার্ভিস চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান অরবিন্দ মেহতা। তিনি বলেন, ‘ভারতের দিক থেকে রেলপথ ও বন্দর উন্নয়নে যে মহা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তা উপস্থাপন করা হয়েছে বৈঠকে।’ কোস্টাল শিপিং চালু এবং মোটর যান চুক্তি করার বিষয়টিও বৈঠকে আলোচনায় জায়গা পায় বলে জানান তিনি।