৪৪ বছর পর শহীদ বাদলের লাশ

madaripur

madaripur_SK001পুরো নাম মফিজুর রহমান বাদল হলেও মাদারীপুর শহরে বাদল নামেই তার পরিচিতি ছিল বেশ। ভালো ফুটবল খেলতো তাই ভালো খেলোয়ার হিসেবেও নাম ছিল। পাশাপাশি পড়ালেখাতেও ভালো থাকায় ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসে যশোরের ইউনাইটেড ব্যাংকে চাকুরি হয়। তিনি চলে যান যশোরে।

এদিকে, পরিবার থেকে তাকে বিয়ে করানোর জন্য মেয়ে দেখতে থাকে। বড় অনুষ্ঠান করে বিয়ে হবে। বাড়িতে চলতে থাকে নানা আয়োজন।

সেদিন ছিলে ১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল। পাকিস্থানী হানাদার বাহিনী যশোর-খুলনা মহাসড়কের একটি যাত্রীবাহী বাসে হামলা চালায়। যে যার মতো পালিয়ে বাঁচে সেদিন। কিন্তু ৭/৮ বছরের একটি ছেলে পালাতে না পেরে বাঁচার জন্য চিৎকার করছিল। শিশুটিকে বাঁচাতে ছুটে যায় বাদল। শিশুটির চিৎকার বাদলের হৃদয় ছুঁয়ে গেলেও ছুঁতে পারেনি হানাদারদের হৃদয়। এ সময় হানাদাররা এলোপাথারি গুলি ছুড়ে। এতে শহীদ হন বাদল। এ কথাগুলো জানান শহীদ বাদলের পরিবারের লোকজন।

পারিবারিক সূত্রে আরও জানা যায়, হানাদার বাহিনী চলে গেলে স্থানীয়রা বাদলকে একটি নির্জন স্থানে দাফন করেন। মুক্তিযুদ্ধ শেষ হলে শহীদ বাদলের পরিবারের সদস্যরা বহুকষ্টে তার কবরস্থান খুঁজে বের করেন।

এরপরে লাশ পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের জন্য অনেক চেষ্টা করেন। বিভিন্ন আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে দীর্ঘ ৪৪ বছরে তা সম্ভব হয়নি।

অবশেষে ৯ মার্চ যশোর জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতায় যশোর শহরের বকচর এলাকার পুরানো কবর খনন করে বের করে আনা হয় মাদারীপুর শহরের বাগেরপাড় এলাকার মৃত আ. মজিদ হাওলাদারের ছেলে শহীদ বাদলের (২৪) মাথার খুলিসহ হাড়গোড়।

এ সময় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন শহীদ পরিবারের সদস্যরা। তবুও তাদের শান্তনা তারা শহীদ বাদলের দেহাবশেষ পেয়েছেন।

শহীদ বাদলের ভাই মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান বলেন, কষ্টের মাঝেও ভালো লাগছে এই ভেবে যে, দীর্ঘ ৪৪ বছর পরে আমরা আমার ভাইয়ের দেহাবশেষ পেয়েছি। এখন পারিবারিক কবরস্থানে তাকে রাখা হবে। অন্তত কবরের পাশে দাঁড়িয়ে তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করতে পারবো। এই বলে তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

সোমবার বাদ আছর মাদারীপুরের বাগেরপার এলাকার পারিবারিক কবরস্থানে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের উপস্থিতিতে বাদলের দেহাবশেষ দাফন করা হয়।