সমুদ্রের প্রাকৃতিক সম্পদ বিদেশিদের হাতে দিলে পাচার হয়ে যাবে

  • Emad Buppy
  • February 26, 2014
  • Comments Off on সমুদ্রের প্রাকৃতিক সম্পদ বিদেশিদের হাতে দিলে পাচার হয়ে যাবে
Anu mohammad

Anu mohammadবঙ্গোসাগরের প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলণের দায়িত্ব বিদেশিদের হাতে দিলে সমুদ্রের তলদেশের অনেক সম্পদ গোপনে পাচার হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন তেল-গ্যাস, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।

বুধবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে তেল-গ্যাস, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, তেল-গ্যাস উত্তোলনের দায়িত্ব চীন, রাশিয়া, ভারত এবং মার্কিন কোম্পানিগুলোকে ভাগাভাগি করে দিলে তা দেশের জন্য জাতীয় নিরাপত্তাহীনতার কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

বিদেশি কোম্পানি তেল-গ্যাস উত্তোলন করলে তেল ও গ্যাসের জন্য বাংলাদেশ বিদেশের উপর শুধু নির্ভরশীলই হয়ে পড়বে না, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও শিল্পায়নসহ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নও মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে বলে।

জাতীয় স্বার্থবিরোধী এসব চুক্তি বাতিল করার দাবি জানিয়ে আনু মোহাম্মদ বলেন, প্রযোজনে জান দেব তবু বিদেশিদের হাতে সম্পদ উত্তোলনের দায়িত্ব দিতে দেওয়া হবে না।

তিনি আরও বলেন, সরকার চাইলে নিজস্ব অর্থেই সমুদ্রে অনুসন্ধান চালাতে এবং তেল-গ্যাসসহ প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলণ করতে পারে। সরকারের উচিত সে লক্ষ্যে এখনই উদ্যোগ নেওয়া।

আগামি কিছুদিনের মধ্য সরকার আরেকদফা বিদ্যুতের দাম বাড়াতে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ছয়বার দাম বাড়িয়েও বিদ্যুৎখাতে ভর্তূকি কমানো সম্ভব হয়নি। এর মূল কারণ হচ্ছে বিদ্যুৎখাতে ভুল নীতি ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী নীতি গ্রহণ এবং দুর্নীতি।

কুইকরেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র সম্পর্কে তিনি বলেন, দেশের বিদ্যুৎ সংকট মোকাবেলায় সরকার অত্যন্ত ব্যয়বহুল বেসরকারি খাতে তেল নির্ভর কুইকরেন্টাল কেন্দ্র বসিয়েছে। কিন্তু অনেকগুলো প্রকল্প ১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেও সরকারের কাছ থেকে শতকোটি টাকা উঠিয়ে নিয়েছে। সরকার দুর্নীতিপরায়ণ এই বেসরকারি সংস্থগুলো এবং বিদেশি আগ্রাসী কোম্পানিগুলোর স্বার্থ রক্ষায় তৎপর।

রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র সম্পর্কে তিনি বলেন, সরকার সুন্দরবন ধ্বংসকারী রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি করার জন্য তড়িঘড়ি করছে। আর এই দিকে বিদ্যুৎকেন্দ্রের আশেপাশের ভূমি দখলের মহোৎসব চলছে।

সংগঠনের আহ্বায়ক শেখ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, সুন্দরবন আমাদের আইলা-সিডরের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে বাঁচায়। কিন্তু রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র হলে সুন্দরবন এলাকায় প্রাকৃতিক ভারসাম্যের অনেক ক্ষতি হবে।

তিনি আরও বলেন, রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য প্রচুর কয়লা আনতে হবে। আর যে জাহাজে করে কয়লা আনা হবে তা পশুর নদীতে সহজে ঢুকতে পারবে না। এই জন্য নদী ড্রেজিং করতে হবে। এই সকল কারণে সুন্দরবনের এ এলাকায় শব্দ দূষণ, নদী দূষণ, বায়ু দূষণ সবই সংগঠিত হবে।

সমাবেশ থেকে সংগঠনটি আগামি মাসে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র ঠেকাতে কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়।

বিক্ষোভ সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন- গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি রুহিন হোসেন প্রিন্স প্রমুখ।

জেইউ