কালো টাকা (Black Money) কি?

black money

black money in-disclosed moneyবিশ্বে নানা রঙের টাকা (নোট) আছে। একই নোটে আছে অনেক রঙের ব্যবহার। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোথাও কালো রঙের কোনো নোটের প্রচলন হয়নি। তবুও বিশ্বজুড়ে কালো টাকা (Black Money) শব্দ যুগল ব্যাপকভাবে ব্যাবহৃত হয়। বাংলাদেশে তার ব্যাতিক্রম নয়। বরং উন্নত দেশগুলোর তুলনায় এখানে কালো টাকা প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা ও বিতর্ক অনেক বেশি হয়।

কালো টাকার বিষয়টি আসলে প্রতীকি অর্থে ব্যবহৃত হয়। সাধারণভাবে কালো টাকা বলতে এমন টাকাকে বুঝানো হয় যার উৎস বৈধ বা আইনসম্মত নয়। ঘুষ, দুর্নীতি, কালোবাজারি, চোরাকারবার, মাদক ও অস্ত্রসহ নিষিদ্ধ পণ্যের ব্যবসা থেকে উপার্জিত অর্থ হচ্ছে কালো টাকা। তবে আয়কর আইন অনুসারে বৈধ উৎস থেকে অর্জিত অর্থও কালো হতে পারে, যদি টাকার মালিক তার আয়কর বিবরণীতে তার উল্লেখ না করেন, ওই টাকা করযোগ্য হলেও কর না দেন। অবশ্য আয়কর আইনে  কালো টাকা বলতে কিছু নেই। আইনের কোথাও এ শব্দটির উল্লেখ নেই। সেখানে অপ্রদর্শিত অর্থের উল্লেখ আছে। আয়ের যে অংশ আয়কর বিবরণীতে প্রদর্শন করা হয় না, তা-ই অপ্রদর্শিত অর্থ  ( Un-disclosed Money); সাধারণভাবে যা কালো টাকা নামে পরিচিত।

তবে কেউ কেউ কালো টাকা ও অপ্রদর্শিত অর্থের মধ্যে একটা স্পষ্ট সীমারেখা টানার পক্ষে। তাদের মতে, অপ্রদর্শিত অর্থের উৎস বৈধ হতে পারে, আবার অবৈধও হতে পারে। কিন্ত কালো টাকার উৎস নিশ্চিতভাবেই অবৈধ। তাই বৈধ অপ্রদর্শিত অর্থের সঙ্গে কালো টাকাকে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়। তাদের মতে, নানা কারণে বৈধ অর্থও অপ্রদর্শিত থেকে যেতে পারে, এটি যেমন ইচ্ছাকৃত হতে পারে, তেমনই আইনি জটিলতার কারণেও হতে পারে। ধরা যাক, একজন ব্যবসায়ী কর ফাঁকি দেওয়ার অসাধু উদ্দেশ্য থেকে তার বার্ষিক আয়ের একটা অংশ চেপে গেছেন, আয়কর বিবরণীতে উল্লেখ করেন নি। এ ক্ষেত্র উল্লেখ না করা ওই অর্থ বাস্তবে অপ্রদর্শিত অর্থ। এটা ইচ্ছাকৃত।

আবার একজন ব্যাক্তি হয়তো উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া অথবা আগে কিনে রাখা এক খন্ড জমি বিক্রি করেছেন। কিন্তু আইনী জটিলতায় পুরো অর্থ আয়কর বিবরণীতে দেখাতে পারেন নি। কারণ ভূমি অধিদপ্তর বিভিন্ন এলাকায় জমির একটি দর নির্ধারণ করে দিয়ে থাকে। তাই চাইলেও জমি বিক্রির দলিলে তার বেশি মূল্য উল্লেখ করা যায় না। তাই প্রকৃত বিক্রয় মূল্যের চেয়ে কম মূল্য উল্লেখ করতে হয়। এমন পরিস্থিতি বিক্রয় মূল্যের বাকী অংশ আয়কর বিবরণীতে উল্লেখ করা যায় না। এভাবেও বৈধ পথে উপার্জিত টাকা অপ্রদর্শিত থেকে যায়।

নানা কারণে কালো টাকা সমাজ ও অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর। এ অর্থ অপ্রদর্শিত থেকে যায় বলে সমাজ ও রাষ্ট্র বিরোধী কাজ ও অপরাধে ব্যবহারের অনেক বেশি আশংকা থাকে। এ অর্থ আয়কর বিবরণীতে প্রদর্শন করা হয় বলে রাষ্ট্র তা থেকে কোনো কর পায় না। অন্যদিকে এ ধরনের অর্থ দুর্নীতিকে উৎসাহিত করে।

*কালো টাকা সাদা করার সুযোগ এবং পুঁজিবাজারের সঙ্গে কালো টাকার সম্পর্ক বিষয়ে একটি পোস্টিং থাকবে শনিবার। আশা করি চোখ রাখবেন অর্থসূচকে।