কঠিন পরীক্ষার সম্মুখিন সেনাবাহিনী: লে. কর্ণেল আনোয়ার

  • Emad Buppy
  • December 23, 2013
  • Comments Off on কঠিন পরীক্ষার সম্মুখিন সেনাবাহিনী: লে. কর্ণেল আনোয়ার

armyদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনী আজ কঠিন পরীক্ষার সম্মুখিন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিজেদের করণীয় নিয়ে তারা সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে বলে জানালেন লে. কর্ণেল (অব:) ডা. আনোয়ার হোসেন।

সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে সিএলএনবি আয়োজিত ‘দশম বেনিন শান্তিরক্ষা সেনা দিবস স্মরণে’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

সাবেক এ সেনা কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশের জনগণের টাকা দিয়ে রাবার-বুলেট কেনা হয়েছে বহির্বিশ্বের আক্রমণ থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্য। অথচ বর্তমান রাজনৈতিক সংকটে সেই বুলেট ব্যবহার করা হচ্ছে দেশের নিরীহ জনগণের ওপর।বর্তমান রাজনৈতিক সংকটে সেনাদের করণীয় নিয়ে তারা বিভ্রান্ত। স্বাধীনতার ৪২ বছর পরেও রাজনৈতিক কারণে সেনাসদস্যরা পদদলিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, আমাদের দেশের সেনারা বিদেশে শান্তি মিশনে দায়িত্ব পালন করে প্রশংসা পাচ্ছে। অথচ আমাদের দেশ জ্বলছে অশান্তির আগুনে।

বর্তমান রাজনৈতিক সংকটের প্রধান কারণ সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনী উল্লেখ করে আনোয়ার বলেন, এই সংশোধনীর কারণেই মানুষের বাকস্বাধীনতাকে খর্ব করা হয়েছে। যার কারণে সংবিধানের পরবর্তী সংশোধনীগুলো সহজেই পাস হয়ে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতিনিধি মেজর মাসুদ বলেন, আমরা জাতিসংঘের শান্তিরক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়ে গর্ববোধ করি। তবে এটি একটি চ্যালেঞ্জিং বিষয়। আমাদের এই মিশনে বিভিন্ন জটিল পরিবেশ ও পরিস্থিতি নিরলস প্রচেষ্টায় অতিক্রম করতে হয়। আমাদের এই সফল প্রচেষ্টার জন্যই জাতিসংঘ শান্তিরক্ষার মিশনে আমাদের আহ্বান জানানো হয়। কিন্তু দেশের ভাবমূর্তি রক্ষা করাও আমাদের দায়িত্ব।

তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘ শন্তিরক্ষা মিশন ১৯৮৮ সালে শুরু হয়। এপর্যন্ত ৬৭টি মিশন হয়েছে। এর মধ্যে ৩৮টি দেশ অংগ্রহণের সুযোগ পায় যার মধ্যে বাংলাদেশ ৪৮টি মিশনে অংশগ্রহণ করেছে। এ পযর্ন্ত আমাদের ১ লাখ ২২হাজার ৩১০ জন সেনা যোগদান করেছে। চলমান ১৯টি শান্তি মিশনে ৮টিতে অংশগ্রহণরত আছে বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে শান্তি মিশনে শহীদ সেনাদের রুহের মাগফেরাত কামনা করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাবির সাবেক ভিসি অধ্যাপক মনিরুজ্জামা মিঞা।

সভায় সিএলএনবির চেয়ারম্যান হারুনূর রশিদের সভাপতিত্ত্বে আরও বক্তব্য রাখেন  সাবেক এমপি ও সভাপতি এস.এস আকরাম, জাগো বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি বাহারানে সুলতান বাহার, জলজলা কৃষিজমি বনভূমি রক্ষা আন্দোলন সমম্বয়ক শাহজাহান কবীর জহীর, জাগো নারী ফাউন্ডেশন সভাপতি নূর-উন-নাহার মেরী, ঢাবি সিনেট সদস্য নার্গিস জাহান বানু, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র নির্বাহি পরিচালক ছাইফুল ইসলাম শিশির প্রমূখ।

জেইউ/এআর